এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন, রাজনীতিতে চাঁদাবাজি বা পেশিশক্তির কোনো স্থান নেই। বরং জনগণের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিনয়ের সঙ্গে ভোট প্রার্থনা করা অনেক বেশি সম্মানের। বৃহস্পতিবার বিকেলে কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার চান্দলা ইউনিয়নে ১১ দলীয় জোটের এক জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনে প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আমরা বিশ্বাস করতে চাই যে এবারের নির্বাচনে কোনো কর্মকর্তা বা আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য বিক্রি হবেন না। এসপি বা ওসসিদের জন্য আলাদা কোনো অনৈতিক সুবিধা বা অর্থের খাম রাখার প্রয়োজন পড়বে না। আমরা প্রত্যাশা করি, পুলিশ সদস্যরা তাদের পেশাগত মর্যাদা ও পোশাকের সম্মান রক্ষার্থে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য কাজ করবেন। প্রয়োজনে তারা নির্বাচনী কেন্দ্রগুলোতে নিজেদের সর্বোচ্চ পেশাদারিত্ব বজায় রাখবেন।
নেতাকর্মীদের মাঠ পর্যায়ে সক্রিয় হওয়ার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান সময় থেকে নির্বাচনের দিন পর্যন্ত আপনাদের বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ নেই। প্রতিটি ভোটারের ঘরে ঘরে যেতে হবে। মানুষের দ্বারে দ্বারে গিয়ে বিনয়ের সঙ্গে ভোট চাইতে হবে। আমরা মনে করি, চাঁদাবাজি করার চেয়ে মানুষের কাছে ভোট ভিক্ষা করা অনেক বেশি মর্যাদাপূর্ণ।
বিরোধী রাজনৈতিক শিবিরের সমালোচনা করে হাসনাত আবদুল্লাহ দাবি করেন, প্রতিপক্ষ দলের অনেক কর্মীও বর্তমান পরিস্থিতির ওপর অসন্তুষ্ট। তারা চাঁদাবাজির রাজনীতিতে ক্লান্ত। তাদের ওপর ওপরমহল থেকে নিয়মিত মাসোহারা বা চাঁদাবাজির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়, যা পূরণ করতে গিয়ে তারা হিমশিম খাচ্ছেন। এই অপরাজনীতি থেকে মুক্তি পেতে তারাও পরিবর্তনের প্রত্যাশা করছেন। তাই তাদের কাছেও আমাদের দাওয়াত পৌঁছে দিতে হবে।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক মেরুকরণ তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ এখন দুই ভাগে বিভক্ত। এক পক্ষ দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষায় আপসহীন, আর অন্য পক্ষ বিদেশের কাছে নিজেদের বিবেক ও মস্তিষ্ক বর্গা দিতে প্রস্তুত। এক পক্ষ যখন চাঁদাবাজি ও স্বৈরতন্ত্র কায়েমে মত্ত, অন্য পক্ষ তখন জাতিকে সেই শৃঙ্খল থেকে মুক্ত করতে চায়।
জনসভার শেষ পর্যায়ে তিনি ভোটারদের গুরুত্ব স্মরণ করিয়ে দিয়ে বলেন, চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জনগণের হাতে। প্রার্থীর কাছে কোনো ভোট থাকে না, সব ক্ষমতা সাধারণ ভোটারের কাছে। তাই জনগণের রায়কে সম্মান জানিয়ে তাদের সমর্থন আদায়ের মাধ্যমেই আগামীর বাংলাদেশ গড়তে হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























