কিশোরগঞ্জের নিকলী উপজেলায় আওয়ামী যুবলীগ নেতাকর্মীদের সঙ্গে বিএনপির প্রভাবশালী একটি সিন্ডিকেট মিলেমিশে নদী থেকে বালু উত্তোলনের ব্যবসা জমিয়ে তুলেছে, যা পরিবেশের মারাত্মক ক্ষতি করছে এবং নদীভাঙন বাড়িয়ে দিচ্ছে।
জানা গেছে, নিকলী উপজেলার সিংপুর ইউনিয়নের ঘোড়াদিঘা, বরুলিয়া, ধনু নদী ও ঘোড়াউত্রা নদীর ভাঙনকবলিত এলাকায় ড্রেজার দিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন চলছে। এর ফলে ফসলি জমি এবং নদীর তীরবর্তী গ্রাম বিলীন হচ্ছে। রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় একাধিক প্রভাবশালী সিন্ডিকেট অবৈধভাবে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ রয়েছে। রাতের অন্ধকারে ধনু নদী, বোয়ালিয়া নদী, পাগলার খাল ও ঘোড়াউত্রা নদীর সফরি কান্দা থেকে বালু লুটে নেওয়া হচ্ছে। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা থেকে ভোর পর্যন্ত ড্রেজার দিয়ে প্রায় আড়াই লাখ ঘনফুটের বেশি বালু উত্তোলন করা হচ্ছে। এই বালু দিয়ে প্রকাশ্য দিবালোকে হাওরের ফসলি জমি, ডোবা ও গর্ত ভরাট করা হচ্ছে।
সরকারি কোনো বালু মহাল না থাকা সত্ত্বেও, প্রভাবশালী সিন্ডিকেট ও প্রশাসনের সঙ্গে আঁতাত করে এই অবৈধ বালু উত্তোলন ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। গভীর রাতে ড্রেজার চালিয়ে অবাধে বালু উত্তোলন করার ফলে ঘোড়াউত্রা ও ধনু নদীর তলদেশ থেকে অপরিকল্পিতভাবে বালু উত্তোলনের কারণে এলাকায় নতুন করে নদীভাঙন দেখা দিয়েছে। সিংপুর ইউনিয়নের উত্তর হাটি, পাতার কান্দি, বরহাটি, মলাহাটি, ইসলামপুর ও বাজারহাটি এলাকার অনেক ঘরবাড়ি ইতোমধ্যে নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। পানি উন্নয়ন বোর্ডের নদীতীর রক্ষা বাঁধও এখন ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে। অতীতেও নদী থেকে অবাধে বালু উত্তোলনের কারণে সংঘাত ও প্রাণহানির মতো ঘটনা ঘটেছে।
রিপোর্টারের নাম 


















