ঢাকা ১০:১৯ অপরাহ্ন, বুধবার, ০৪ মার্চ ২০২৬

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে রোহিঙ্গা সম্পৃক্ততা রোধে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বাইরে তাদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপসহ একাধিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো জারি করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহীনুল ইসলাম কর্তৃক রিটার্নিং কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকগণকে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে বের হওয়া সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখতে হবে। এছাড়াও, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পরিচালিত চেকপোস্টগুলোতে শতভাগ পরিচয় যাচাই এবং কঠোর তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষত, নির্বাচনের আগের দিন এবং ভোটগ্রহণের দিন ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সিএনজি, অটো রিকশা এবং মোটরসাইকেলসহ সকল প্রকার যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে, নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় থাকা সকল সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এবং রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর সভা-সমাবেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা যেন কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং রোহিঙ্গা মাঝি বা নেতাদের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল বৃদ্ধি এবং যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর নিবিড় নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশি পরিদর্শকদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত বা নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনাও এই সুরক্ষা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, অতিরিক্ত জনসমাগম এড়ানোর লক্ষ্যে বালুখালী, লেদা এবং নয়াপাড়া ক্যাম্প সংলগ্ন বড় বাজারগুলো নির্বাচনের আগের দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং তার পরের দিন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মরিচ্যা, রেজুখাল এবং হোয়াইক্যং চেকপোস্টসহ ক্যাম্পের আশেপাশের এলাকায় এপিবিএন ও বিজিবির যৌথ নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্কবার্তা দিতে হবে যেন তারা কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করে। প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানো, অর্থের বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান অথবা বিরোধী প্রার্থীকে দমনের জন্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যবহার রোধে এপিবিএন এবং ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) এর সমন্বয়ে ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের পূর্বে ক্যাম্প ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যৌথ অভিযান পরিচালনা, নির্বাচনকেন্দ্রমুখী সড়কগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন এবং রোহিঙ্গাদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন সময়ে সিআইসি এবং এপিবিএন সদস্যদের ক্যাম্পের বাইরে অন্য কোনো দায়িত্ব প্রদান না করার নির্দেশনাও রয়েছে। এছাড়াও, ক্যাম্পের সীমানা প্রাচীর ও সিসি ক্যামেরা সংস্কার, বিদেশি নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্গম এলাকা পরিদর্শনে নিরুৎসাহিত করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এমন অভিযোগ রয়েছে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

অন্তর্বর্তী সরকারের ১৩৩ অধ্যাদেশের বিষয়ে সিদ্ধান্ত হবে সংসদে

জাতীয় নির্বাচন ও গণভোটে রোহিঙ্গা সম্পৃক্ততা রোধে সর্বোচ্চ নিরাপত্তা ব্যবস্থা

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:৩৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন ও একটি গুরুত্বপূর্ণ গণভোটকে সামনে রেখে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর সম্ভাব্য অপব্যবহারের মাধ্যমে কোনো প্রকার বিশৃঙ্খলা বা নাশকতামূলক কর্মকাণ্ড প্রতিরোধে গোয়েন্দা সংস্থাগুলো সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে। এই আশঙ্কার পরিপ্রেক্ষিতে, নির্বাচন কমিশন (ইসি) রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোর বাইরে তাদের চলাচলের ওপর কঠোর বিধিনিষেধ আরোপসহ একাধিক নিরাপত্তামূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ প্রদান করেছে।

সম্প্রতি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং একটি নির্ভরযোগ্য গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে নির্বাচন কমিশন এই গুরুত্বপূর্ণ নির্দেশনাগুলো জারি করেছে। নির্বাচন ব্যবস্থাপনা শাখার সিনিয়র সহকারী সচিব মো. শাহীনুল ইসলাম কর্তৃক রিটার্নিং কর্মকর্তা, সশস্ত্র বাহিনীর প্রিন্সিপাল স্টাফ অফিসার, পুলিশের মহাপরিদর্শক, র‍্যাব, বিজিবি, আনসার ও কোস্ট গার্ডের মহাপরিচালকগণকে এ বিষয়ে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠানো হয়েছে।

নির্দেশনা অনুযায়ী, নির্বাচন প্রক্রিয়াকে কেন্দ্র করে রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে রোহিঙ্গাদের বাইরে বের হওয়া সম্পূর্ণভাবে স্থগিত রাখতে হবে। এছাড়াও, আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) পরিচালিত চেকপোস্টগুলোতে শতভাগ পরিচয় যাচাই এবং কঠোর তল্লাশি ব্যবস্থা জোরদার করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে। বিশেষত, নির্বাচনের আগের দিন এবং ভোটগ্রহণের দিন ক্যাম্পের অভ্যন্তরে সিএনজি, অটো রিকশা এবং মোটরসাইকেলসহ সকল প্রকার যান চলাচল সম্পূর্ণভাবে নিষিদ্ধ থাকবে।

নিরাপত্তা জোরদার করার অংশ হিসেবে, নির্বাচনের অন্তত এক সপ্তাহ আগে থেকে রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে সক্রিয় থাকা সকল সামাজিক প্ল্যাটফর্ম এবং রোহিঙ্গা সংগঠনগুলোর সভা-সমাবেশ স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। রোহিঙ্গারা যেন কোনো অবস্থাতেই নির্বাচনী প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত হতে না পারে, সে বিষয়ে স্থানীয় মসজিদের ইমাম এবং রোহিঙ্গা মাঝি বা নেতাদের মাধ্যমে ব্যাপক জনসচেতনতামূলক প্রচার চালানোর জন্যও নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।

মিয়ানমার সীমান্ত এলাকায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) টহল বৃদ্ধি এবং যেকোনো সশস্ত্র গোষ্ঠীর গতিবিধির ওপর নিবিড় নজরদারির নির্দেশও দেওয়া হয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে দেশি-বিদেশি বেসরকারি সংস্থা (এনজিও), আন্তর্জাতিক সংস্থা এবং বিদেশি পরিদর্শকদের ক্যাম্প পরিদর্শন সীমিত বা নিরুৎসাহিত করার নির্দেশনাও এই সুরক্ষা পরিকল্পনার অন্তর্ভুক্ত।

নির্বাচনি প্রচারণার সময় রোহিঙ্গা শ্রমিক নিয়োগ বন্ধে স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে ব্যবসায়ীদের সতর্ক করার জন্য বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, অতিরিক্ত জনসমাগম এড়ানোর লক্ষ্যে বালুখালী, লেদা এবং নয়াপাড়া ক্যাম্প সংলগ্ন বড় বাজারগুলো নির্বাচনের আগের দিন, ভোটগ্রহণের দিন এবং তার পরের দিন সাময়িকভাবে বন্ধ রাখার প্রস্তাবও করা হয়েছে।

ক্যাম্পগুলোতে পর্যাপ্ত সংখ্যক নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মোতায়েন করে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং তাৎক্ষণিক বিচার নিশ্চিত করার বিষয়টিও চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে। মরিচ্যা, রেজুখাল এবং হোয়াইক্যং চেকপোস্টসহ ক্যাম্পের আশেপাশের এলাকায় এপিবিএন ও বিজিবির যৌথ নজরদারি জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

চিঠিতে আরও স্পষ্ট করা হয়েছে যে, সকল রাজনৈতিক দলগুলোকে সতর্কবার্তা দিতে হবে যেন তারা কোনোভাবেই রোহিঙ্গাদের নির্বাচনী কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত না করে। প্রার্থীদের পক্ষে প্রচার চালানো, অর্থের বিনিময়ে জাল ভোট প্রদান অথবা বিরোধী প্রার্থীকে দমনের জন্য রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর ব্যবহার রোধে এপিবিএন এবং ক্যাম্প ইনচার্জ (সিআইসি) এর সমন্বয়ে ক্যাম্পগুলোতে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

নির্বাচনের পূর্বে ক্যাম্প ও তৎসংলগ্ন এলাকায় অবৈধ অস্ত্র উদ্ধারের জন্য যৌথ অভিযান পরিচালনা, নির্বাচনকেন্দ্রমুখী সড়কগুলোতে বিশেষ চেকপোস্ট স্থাপন এবং রোহিঙ্গাদের ভোটদানে বাধা দেওয়ার জন্য বিশেষ ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও বলা হয়েছে। একই সঙ্গে, নির্বাচনকালীন সময়ে সিআইসি এবং এপিবিএন সদস্যদের ক্যাম্পের বাইরে অন্য কোনো দায়িত্ব প্রদান না করার নির্দেশনাও রয়েছে। এছাড়াও, ক্যাম্পের সীমানা প্রাচীর ও সিসি ক্যামেরা সংস্কার, বিদেশি নাগরিক ও আন্তর্জাতিক সংস্থার কর্মকর্তাদের অবাধ চলাচল নিয়ন্ত্রণ এবং দুর্গম এলাকা পরিদর্শনে নিরুৎসাহিত করার বিষয়টিও উল্লেখ করা হয়েছে।

বর্তমানে কক্সবাজারের বিভিন্ন ক্যাম্পে মিয়ানমার থেকে আসা ১০ লাখেরও বেশি রোহিঙ্গা আশ্রয় গ্রহণ করেছে। এমন অভিযোগ রয়েছে যে, তাদের মধ্যে কেউ কেউ ইতোমধ্যে ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হয়ে জাতীয় পরিচয়পত্রও সংগ্রহ করেছেন। আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি দেশে জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।