বিশ্ব ফুটবলের সর্বোচ্চ সংস্থা ফিফার আসন্ন সভাপতি নির্বাচনে বর্তমান সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর টানা তৃতীয় মেয়াদে দায়িত্ব গ্রহণের পথে বড় চ্যালেঞ্জ আসতে পারে। ইউরোপীয় ফুটবল প্রশাসনের বেশ কিছু প্রভাবশালী কর্মকর্তা প্যারিস সেন্ট জার্মেই (পিএসজি)-এর সভাপতি নাসের আল-খেলাইফিকে এই পদে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে বিবেচনা করছেন।
২০২৭ সালের মার্চ মাসে ফিফার পরবর্তী সভাপতি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। ২০১৬ সাল থেকে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে আসা ইনফান্তিনো এবার প্রথমবারের মতো কঠিন প্রতিদ্বন্দ্বিতার সম্মুখীন হতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মূল বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে ইনফান্তিনোর একটি নতুন বাণিজ্যিক পরিকল্পনা। এই পরিকল্পনার অধীনে ফিফা বিশ্বকাপসহ অন্যান্য টুর্নামেন্টের বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনার জন্য একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান গঠন করে সেখানে বাইরের বিনিয়োগকারীদের সংখ্যালঘু অংশীদার করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।
ইনফান্তিনোর দাবি, এই উদ্যোগের মাধ্যমে ফিফার ২১১টি সদস্য দেশের জন্য আরও বেশি অর্থায়ন নিশ্চিত হবে এবং বিশ্বজুড়ে ফুটবলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে। তবে ইউরোপীয় ফুটবল মহল এই পরিকল্পনার তীব্র সমালোচনা করেছে। তাদের অভিযোগ, ফুটবলের মতো বৈশ্বিক সম্পদকে বাণিজ্যিক বিনিয়োগের আওতায় আনার মতো গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে সংশ্লিষ্ট পক্ষগুলোর সঙ্গে কোনো অর্থবহ আলোচনা করা হয়নি।
এই পরিস্থিতিতে ইউরোপের অনেক ফুটবল কর্মকর্তা নাসের আল-খেলাইফিকে বিকল্প নেতৃত্ব হিসেবে দেখছেন। বর্তমানে তিনি পিএসজি-এর সভাপতি হওয়ার পাশাপাশি ইউরোপিয়ান ক্লাব অ্যাসোসিয়েশন (ইসিএ)-এর চেয়ারম্যান, উয়েফা নির্বাহী কমিটির সদস্য এবং ফিফা কাউন্সিলের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন।
রাজনৈতিক মহলে তার নাম আলোচিত হলেও আল-খেলাইফির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, ফিফা সভাপতির পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার কোনো উচ্চাকাঙ্ক্ষা, ইচ্ছা বা আগ্রহ তার নেই। তবে ইনফান্তিনোর বিতর্কিত পরিকল্পনা এবং ইউরোপীয় ফুটবল সংস্থাগুলোর ক্রমবর্ধমান অসন্তোষের কারণে আগামী ফিফা নির্বাচন বিশ্ব ফুটবলের অন্যতম আলোচিত ইস্যুতে পরিণত হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























