ঢাকা ১০:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

সিলেটে এনসিপি’র পদযাত্রায় হামলা: শেখ বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬
  • ২ বার পড়া হয়েছে

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শেখ বদরুল হকের বিরুদ্ধে উস্কানি ও হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ বদরুল হক একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও তিনি ইউনাইটেড আরব আমিরাত যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহিরও ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে এনসিপির নেতারা বের হওয়ার সময় তাদের গাড়িবহরে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহিকে শেখ বদরুল হকের পাশে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শেখ বদরুল হক বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। এছাড়াও গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ বদরুল হকের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

হামলার সময় গোলাপগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদল আহমদকেও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে স্থানীয়রা হামলাকারীদের মধ্যে গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের ফয়েজ আহমেদ, তানিম, নাহিদ এবং ফুলবাড়ী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সানাইকেও শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে শেখ বদরুল হক দলীয় অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই হামলা চালিয়েছেন। এদিকে, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো গ্রেপ্তার বা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য আসেনি।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খাবারে টেস্টিং সল্টের অবাধ ব্যবহার: নীরব ঘাতক বাড়ছে স্বাস্থ্যঝুঁকি

সিলেটে এনসিপি’র পদযাত্রায় হামলা: শেখ বদরুলের বিরুদ্ধে অভিযোগের তীর

আপডেট সময় : ০৭:৫১:৩৭ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩১ জুলাই ২০২৬

সিলেটের গোলাপগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) ‘জুলাই পদযাত্রা’ কর্মসূচিতে অংশ নিতে যাওয়া নেতাদের গাড়িবহরে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় শেখ বদরুল হকের বিরুদ্ধে উস্কানি ও হামলার নেতৃত্ব দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শেখ বদরুল হক একসময় আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত থাকলেও বর্তমানে তিনি সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সিলেট-৬ (গোলাপগঞ্জ-বিয়ানীবাজার) আসনের সংসদ সদস্য এমরান আহমদ চৌধুরীর ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত। এছাড়াও তিনি ইউনাইটেড আরব আমিরাত যুবদলের সিনিয়র যুগ্ম সম্পাদক এবং গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহিরও ঘনিষ্ঠ বলে জানা গেছে।

বৃহস্পতিবার গোলাপগঞ্জ পৌরসভা অডিটোরিয়ামে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবারের সদস্যদের নিয়ে আয়োজিত এক আলোচনা সভা শেষে এনসিপির নেতারা বের হওয়ার সময় তাদের গাড়িবহরে এই হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। হামলার সময় ধারণ করা একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে, যেখানে গোলাপগঞ্জ পৌর বিএনপির সভাপতি মশিকুর রহমান মহিকে শেখ বদরুল হকের পাশে দেখা গেছে বলে দাবি করা হচ্ছে।

স্থানীয়দের একাংশের অভিযোগ, শেখ বদরুল হক বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হওয়ার আগে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর তিনি পুনরায় বিএনপির রাজনীতিতে সক্রিয় হয়েছেন। এছাড়াও গোলাপগঞ্জের বিভিন্ন বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে তার সম্পৃক্ততার অভিযোগও রয়েছে। তবে এসব অভিযোগের বিষয়ে শেখ বদরুল হকের কোনো বক্তব্য তাৎক্ষণিকভাবে পাওয়া যায়নি।

হামলার সময় গোলাপগঞ্জ পৌর যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক বাদল আহমদকেও আক্রমণাত্মক ভূমিকায় দেখা গেছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ঘটনার ভিডিও ও স্থিরচিত্র বিশ্লেষণ করে স্থানীয়রা হামলাকারীদের মধ্যে গোলাপগঞ্জ পৌর ছাত্রদলের ফয়েজ আহমেদ, তানিম, নাহিদ এবং ফুলবাড়ী ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের সানাইকেও শনাক্ত করেছেন বলে দাবি করেছেন।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিএনপির কয়েকজন কর্মী-সমর্থক অভিযোগ করেন, স্থানীয় সংসদ সদস্যের সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সুবাদে শেখ বদরুল হক দলীয় অবস্থান সুদৃঢ় করার লক্ষ্যে এই হামলা চালিয়েছেন। এদিকে, এ ঘটনায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো গ্রেপ্তার বা অভিযোগের সত্যতা সম্পর্কে কোনো বক্তব্য আসেনি।