ঢাকা ০৯:০৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সমরশক্তিতে নতুন মাত্রা: মাটির নিচে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করল ইরান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিতে মাটির নিচে নির্মিত একটি অত্যাধুনিক মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বুধবার এই ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাটি জনসমক্ষে আনে।

ঘাঁটিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের অ্যারোস্পেস শাখার প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সায়েদ মাজেদ মৌসাভি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতির বিভিন্ন কারিগরি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি বলেন, যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য বিদেশি আগ্রাসন বা হুমকি মোকাবিলায় ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রস্তুত। তিনি জানান, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তাদের সামরিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আগের ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান থেকে সরে এসে তেহরান এখন ‘আক্রমণাত্মক’ রণকৌশল গ্রহণ করেছে। এই নতুন কৌশলের আওতায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে বড় পরিসরে নিখুঁত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের জলসীমার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশের কারণে ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও দুই দেশ সংকট নিরসনে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে কূটনৈতিক সমাধান না এলে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরানে হামলা চালায়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এর ফলে উদ্ভূত যুদ্ধ কেবল ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মূলত নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতেই ইরান ভূগর্ভস্থ এসব গোপন ও শক্তিশালী ঘাঁটি নির্মাণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

শিক্ষামন্ত্রীর সঙ্গে পাকিস্তানের হাইকমিশনারের সৌজন্য সাক্ষাৎ: দ্বিপাক্ষিক শিক্ষা উন্নয়নে সহযোগিতার আগ্রহ

সমরশক্তিতে নতুন মাত্রা: মাটির নিচে বিশাল ক্ষেপণাস্ত্র ঘাঁটি উন্মোচন করল ইরান

আপডেট সময় : ১১:১৫:১০ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান চরম উত্তেজনার মধ্যেই নিজেদের সামরিক সক্ষমতার জানান দিতে মাটির নিচে নির্মিত একটি অত্যাধুনিক মিসাইল ঘাঁটি উন্মোচন করেছে ইরান। দেশটির ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) বুধবার এই ভূগর্ভস্থ সামরিক স্থাপনাটি জনসমক্ষে আনে।

ঘাঁটিটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান মেজর জেনারেল আব্দুল রহমান মৌসাভি এবং বিপ্লবী গার্ডের অ্যারোস্পেস শাখার প্রধান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সায়েদ মাজেদ মৌসাভি। উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে শীর্ষস্থানীয় সামরিক কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন এবং তারা আইআরজিসির ক্ষেপণাস্ত্র সক্ষমতা ও যুদ্ধপ্রস্তুতির বিভিন্ন কারিগরি দিক নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেন।

পরিদর্শনকালে সশস্ত্র বাহিনীর প্রধান আব্দুল রহমান মৌসাভি বলেন, যেকোনো ধরনের সম্ভাব্য বিদেশি আগ্রাসন বা হুমকি মোকাবিলায় ইরান এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি শক্তিশালী ও প্রস্তুত। তিনি জানান, গত বছরের জুনে ইসরায়েলের সঙ্গে ১২ দিনের যুদ্ধের পর ইরান তাদের সামরিক কৌশলে আমূল পরিবর্তন এনেছে। আগের ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অবস্থান থেকে সরে এসে তেহরান এখন ‘আক্রমণাত্মক’ রণকৌশল গ্রহণ করেছে। এই নতুন কৌশলের আওতায় অত্যন্ত স্বল্প সময়ের নোটিশে বড় পরিসরে নিখুঁত অভিযান পরিচালনার সক্ষমতা অর্জন করেছে দেশটি। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের সামরিক পরিকল্পনা নস্যাৎ করতে ‘অসম যুদ্ধ’ বা অ্যাসিমেট্রিক ওয়ারফেয়ারের ওপরও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক সময়ে মার্কিন সামরিক তৎপরতা বৃদ্ধির প্রেক্ষাপটে ইরানের এই পদক্ষেপকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক বিশ্লেষকরা। বিশেষ করে ইরানের জলসীমার কাছাকাছি যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন এবং অতিরিক্ত সৈন্য সমাবেশের কারণে ওই অঞ্চলে নতুন করে যুদ্ধ আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। যদিও দুই দেশ সংকট নিরসনে আলোচনার টেবিলে বসার ইঙ্গিত দিয়েছে, তবে কূটনৈতিক সমাধান না এলে ওয়াশিংটন সামরিক পদক্ষেপ নিতে পারে—এমন আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।

উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কড়া হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনি। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি কোনো ধরনের হঠকারী সিদ্ধান্ত নিয়ে ইরানে হামলা চালায়, তবে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। এর ফলে উদ্ভূত যুদ্ধ কেবল ইরানের সীমান্তে সীমাবদ্ধ থাকবে না, বরং তা পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। মূলত নিজেদের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং আঞ্চলিক আধিপত্য বজায় রাখতেই ইরান ভূগর্ভস্থ এসব গোপন ও শক্তিশালী ঘাঁটি নির্মাণ করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।