ঢাকা ০৯:৪৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

সংসদে তীব্র বাদানুবাদ: মন্ত্রীদের ভাষায় ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকারের প্রতিফলন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে বিতর্ক

জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এক তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বাজেট সমালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতাকে নিয়ে করা কিছু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সদস্যরা বাজেট, সীমান্ত হত্যা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংসদীয় রীতিনীতি নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। আবদুল হান্নান মাসউদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের মতো বর্তমান সংসদের কোনো কোনো মন্ত্রীও একই ভাষায় কথা বলছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন সব সীমান্ত হত্যাকে সীমান্ত হত্যা বলা যাবে না।’ তিনি এই বক্তব্যকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বিগত সরকারের আমলের নামকরণের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘২০২৪ পরবর্তী সংসদে এসে আমরা একটা খ্যাতির বিড়ম্বনা দেখতে পাচ্ছি। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা গিয়েছিল, যার নামে সবকিছু নামকরণ করা হতো। বর্তমানে আমাদের এই সংসদের একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিড়ম্বনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে তাঁর অজান্তেই ১০-১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নের নাম তাঁর পরিবারের নামে হয়ে যাচ্ছে।’

এই মন্তব্যের জেরে সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সংসদের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে থাকে, যা অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাজেট বক্তৃতায় সময়সীমা অতিক্রম, স্পিকারের পরামর্শ: ‘বাকি কথা টকশোতে বলুন’

সংসদে তীব্র বাদানুবাদ: মন্ত্রীদের ভাষায় ‘ফ্যাসিবাদী’ সরকারের প্রতিফলন, সীমান্ত হত্যা নিয়ে বিতর্ক

আপডেট সময় : ০৮:২৩:৩০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

জাতীয় সংসদের ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটের ওপর সাধারণ আলোচনায় এক তীব্র বাদানুবাদ ও উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়েছে। নোয়াখালী-৬ আসন থেকে নির্বাচিত সংসদ সদস্য আবদুল হান্নান মাসউদের বাজেট সমালোচনা এবং প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতাকে নিয়ে করা কিছু মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে সরকারি ও বিরোধী দলের সদস্যদের মধ্যে এই পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়।

রোববার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের দ্বিতীয় অধিবেশনে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে সদস্যরা বাজেট, সীমান্ত হত্যা, আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং সংসদীয় রীতিনীতি নিয়ে তাদের বক্তব্য তুলে ধরেন। আবদুল হান্নান মাসউদ তাঁর বক্তব্যে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আওয়ামী সরকারের মতো বর্তমান সংসদের কোনো কোনো মন্ত্রীও একই ভাষায় কথা বলছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন সব সীমান্ত হত্যাকে সীমান্ত হত্যা বলা যাবে না।’ তিনি এই বক্তব্যকে দেশের সার্বভৌমত্বের জন্য হুমকি হিসেবে অভিহিত করেন।

বক্তব্যের এক পর্যায়ে আবদুল হান্নান মাসউদ বিগত সরকারের আমলের নামকরণের রাজনীতির সমালোচনা করে বলেন, ‘২০২৪ পরবর্তী সংসদে এসে আমরা একটা খ্যাতির বিড়ম্বনা দেখতে পাচ্ছি। অতীতে শেখ মুজিবুর রহমানের ক্ষেত্রে এমনটি দেখা গিয়েছিল, যার নামে সবকিছু নামকরণ করা হতো। বর্তমানে আমাদের এই সংসদের একজন প্রতিমন্ত্রীর ক্ষেত্রেও একই বিড়ম্বনা দেখা যাচ্ছে, যেখানে তাঁর অজান্তেই ১০-১২টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ইউনিয়নের নাম তাঁর পরিবারের নামে হয়ে যাচ্ছে।’

এই মন্তব্যের জেরে সরকারি দলের সদস্যরা তীব্র প্রতিবাদ জানান এবং সংসদের কার্যক্রমে বিশৃঙ্খলা দেখা দেয়। উভয় পক্ষের সদস্যদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় চলতে থাকে, যা অধিবেশনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে ব্যাঘাত ঘটায়।