জেফ্রি এপস্টেইন সংশ্লিষ্ট যৌন পাচার মামলার লাখ লাখ গোপন নথি পর্যালোচনার পর মার্কিন বিচার বিভাগ জানিয়েছে, নতুন করে কাউকে অভিযুক্ত করার মতো পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ সেখানে মেলেনি। দেশটির ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ গত রবিবার এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। দীর্ঘ তদন্ত ও নথিপত্র যাচাই শেষে হোয়াইট হাউস এখন এই বিতর্কিত অধ্যায়টির সমাপ্তি টেনে সামনের দিকে এগিয়ে যেতে আগ্রহী। তবে বিচার বিভাগ বিষয়টি নিয়ে ইতি টানতে চাইলেও ক্যাপিটল হিলে এই ইস্যু কেন্দ্র করে রাজনৈতিক তৎপরতা এখনো তুঙ্গে।
ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল টড ব্ল্যাঞ্চ জানান, গত নভেম্বর মাসে কংগ্রেসে পাস হওয়া একটি বিশেষ আইনের অধীনে সরকার এপস্টেইন সংক্রান্ত নথিগুলো পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করেছে। তিনি বলেন, “তদন্তে বিপুল পরিমাণ চিঠিপত্র, ইমেইল এবং ছবি পাওয়া গেছে। তবে এসব নথির কোনোটিই কাউকে নতুন করে ফৌজদারি অপরাধে অভিযুক্ত করার মতো আইনি ভিত্তি দেয় না।” মূলত এই পর্যালোচনার মাধ্যমেই সরকার এপস্টেইন অধ্যায়ের আইনি কার্যক্রমের সমাপ্তি দেখতে চাইছে।
বিচার বিভাগ তাদের তদন্ত প্রক্রিয়া শেষ করার কথা জানালেও মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ (হাউস অব রিপ্রেজেন্টেটিভস) বিষয়টি নিয়ে এখনো সক্রিয় রয়েছে। এরই অংশ হিসেবে আগামী ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বিল ক্লিনটন ও সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী হিলারি ক্লিনটনকে সাক্ষ্য দেওয়ার জন্য তলব করা হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রমতে, রিপাবলিকান সদস্যরা কংগ্রেস অবমাননার অভিযোগ আনার হুঁশিয়ারি দেওয়ার পর ক্লিনটন দম্পতি সাক্ষ্য দিতে সম্মত হয়েছেন।
এদিকে, এপস্টেইনের হাতে নিগৃহীত ভুক্তভোগী এবং কংগ্রেসের বেশ কয়েকজন সদস্য দাবি করেছেন যে, এখনো অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি জনসমক্ষে আনা হয়নি। তারা সেই অপ্রকাশিত তথ্যগুলো প্রকাশের জন্য প্রশাসনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছেন। ফলে বিচার বিভাগ এই ইস্যুটি নিষ্পত্তি হয়েছে বলে মনে করলেও, মার্কিন রাজনীতি ও জনমনে এপস্টেইনকাণ্ড নিয়ে বিতর্ক এখনো অমীমাংসিত রয়ে গেছে।
রিপোর্টারের নাম 























