ঢাকা ১২:৪৯ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ হামলা: দুই গ্রামে ১৬২ জনের প্রাণহানি, নিরাপত্তা সংকট গভীর

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুয়ারা রাজ্যের ওরু ও নুকু গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত এই হামলাকে চলতি বছরে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো বুধবার নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘লাকুরাওয়া’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার জন্য দায়ী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা গ্রামের বাসিন্দাদের একত্র করে হাত পেছনে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। কায়ামা অঞ্চলের রাজনীতিবিদ সাইদু বাবা আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বন্দুকধারীরা বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। বর্তমানে সেনাবাহিনীর সহায়তায় গ্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে এবং আশপাশের বন ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি অভিযান চলছে। এই ঘটনায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাসকসহ বেশ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ১৭০ জনেরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, গত পাঁচ মাস ধরে বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে আসছিল, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা জিহাদি মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং নিয়মিত গ্রামে এসে শরিয়া আইন অনুসরণের দাবিতে প্রচারণা চালাত। গত মঙ্গলবার একটি ধর্মীয় সমাবেশে গ্রামবাসীরা তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে হামলা চালায়।

কুয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুল রহমান আবদুল রাজাক এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নাইজেরিয়াজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহ, উত্তর-পশ্চিমে সশস্ত্র ডাকাতদের তৎপরতা এবং মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী কুয়ারা রাজ্যে অভিযান চালিয়ে ১৫০ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার দাবি করেছিল। তবে এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘটিত এই ভয়াবহ বেসামরিক হত্যাকাণ্ড দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে এবং সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও পাম্পে অকটেনের হাহাকার: কারণ কী?

নাইজেরিয়ায় ভয়াবহ হামলা: দুই গ্রামে ১৬২ জনের প্রাণহানি, নিরাপত্তা সংকট গভীর

আপডেট সময় : ০৯:১৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৫ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

নাইজেরিয়ার পশ্চিমাঞ্চলীয় কুয়ারা রাজ্যের ওরু ও নুকু গ্রামে সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের বর্বরোচিত হামলায় অন্তত ১৬২ জন নিহত হয়েছেন। গত মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) সংঘটিত এই হামলাকে চলতি বছরে দেশটির সবচেয়ে প্রাণঘাতী সহিংসতা হিসেবে দেখা হচ্ছে।

স্থানীয় সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ওমর বায়ো বুধবার নিহতের সংখ্যা নিশ্চিত করে জানান, ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে সম্পৃক্ত ‘লাকুরাওয়া’ নামের একটি সশস্ত্র গোষ্ঠী এই হামলার জন্য দায়ী বলে সন্দেহ করা হচ্ছে। যদিও এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী আনুষ্ঠানিকভাবে এর দায় স্বীকার করেনি।

প্রত্যক্ষদর্শী এবং স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের বর্ণনা অনুযায়ী, হামলাকারীরা গ্রামের বাসিন্দাদের একত্র করে হাত পেছনে বেঁধে সারিবদ্ধভাবে দাঁড় করিয়ে নির্বিচারে গুলি চালায়। কায়ামা অঞ্চলের রাজনীতিবিদ সাইদু বাবা আহমেদ জানান, হত্যাকাণ্ডের পাশাপাশি বন্দুকধারীরা বহু ঘরবাড়ি ও দোকানপাটে আগুন ধরিয়ে দেয়। বর্তমানে সেনাবাহিনীর সহায়তায় গ্রাম থেকে মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে এবং আশপাশের বন ও ঝোপঝাড়ে তল্লাশি অভিযান চলছে। এই ঘটনায় গ্রামের ঐতিহ্যবাহী শাসকসহ বেশ কয়েকজন এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।

মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল এই হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে এবং নিহতের সংখ্যা ১৭০ জনেরও বেশি হতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। সংস্থাটি অভিযোগ করেছে, গত পাঁচ মাস ধরে বন্দুকধারীরা গ্রামবাসীদের হুমকি দিয়ে আসছিল, কিন্তু নিরাপত্তা বাহিনীর যথাযথ পদক্ষেপের অভাবে এই ভয়াবহ বিপর্যয় ঠেকানো যায়নি।

গ্রামবাসীরা জানিয়েছেন, হামলাকারীরা জিহাদি মতাদর্শে বিশ্বাসী এবং নিয়মিত গ্রামে এসে শরিয়া আইন অনুসরণের দাবিতে প্রচারণা চালাত। গত মঙ্গলবার একটি ধর্মীয় সমাবেশে গ্রামবাসীরা তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করলে সন্ত্রাসীরা নির্বিচারে হামলা চালায়।

কুয়ারা রাজ্যের গভর্নর আবদুল রহমান আবদুল রাজাক এই হামলাকে ‘সন্ত্রাসীদের কাপুরুষোচিত কাজ’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। বিশ্লেষকদের মতে, এই ঘটনা নাইজেরিয়াজুড়ে ক্রমবর্ধমান নিরাপত্তা সংকটকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে। দেশটির উত্তর-পূর্বাঞ্চলে জিহাদি বিদ্রোহ, উত্তর-পশ্চিমে সশস্ত্র ডাকাতদের তৎপরতা এবং মধ্যাঞ্চলে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় সাধারণ মানুষ চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে জীবনযাপন করছে।

উল্লেখ্য, গত ৩০ জানুয়ারি নাইজেরিয়ার সামরিক বাহিনী কুয়ারা রাজ্যে অভিযান চালিয়ে ১৫০ জন সন্ত্রাসী নিহত হওয়ার দাবি করেছিল। তবে এর মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই সংঘটিত এই ভয়াবহ বেসামরিক হত্যাকাণ্ড দেশটির নিরাপত্তা ব্যবস্থার দুর্বলতাকেই নতুন করে সামনে এনেছে এবং সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।