বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এবং ঢাকা-৮ আসনে দলটির মনোনীত প্রার্থী মির্জা আব্বাস বলেছেন, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু নয়, সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন নাগরিক। যার যার ধর্ম তার তার কাছে, কোনো ধর্মেই হস্তক্ষেপ করা যাবে না—এই নীতিতে দেশ পরিচালিত হচ্ছে। বুধবার রাজধানীর কাকরাইলে সেন্ট মেরী’স ক্যাথলিক খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এসব কথা বলেন।
নির্বাচনী প্রচারণার জন্য মাত্র ২১ দিন সময় পাওয়া যাচ্ছে, যা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনে প্রথম অভিজ্ঞতা বলে জানান মির্জা আব্বাস। তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে বলেন, অতীতে তাদের পক্ষ থেকে কোনো অভিযোগ আসেনি। ভবিষ্যতে কোনো প্রয়োজনে তাকে স্মরণ করলে তিনি পাশে থাকবেন বলে আশ্বাস দেন।
আব্বাস জানান, আগে এই ক্যাথেড্রাল ও কয়েকটি ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান তার নির্বাচনী এলাকার অন্তর্ভুক্ত না থাকলেও, সাম্প্রতিক সীমানা পুনর্বিন্যাসের ফলে তা তার আসনে যুক্ত হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষ বসবাস করলেও খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সংখ্যা তুলনামূলকভাবে কম। তবে এদেশের খ্রিস্টান সম্প্রদায় শান্তিপূর্ণ ও সাবলীল জীবনযাপন করছে এবং কারো সঙ্গে তাদের, বিশেষ করে বাংলাদেশে, কোনো বিরোধপূর্ণ সম্পর্ক নেই। শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে ভূমিকা রাখার জন্য তিনি খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের নেতৃত্বদানকারীদের ধন্যবাদ জানান।
বিএনপির এই নেতা বলেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে সবাই মিলেই বাংলাদেশকে সুন্দর ও শান্তিপূর্ণ দেশ হিসেবে গড়ে তুলতে হবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, বাংলাদেশে কেউ সংখ্যালঘু বা সংখ্যাগরিষ্ঠ নয়—আমরা সবাই সমান অধিকারসম্পন্ন বাংলাদেশি নাগরিক। তিনি ‘সংখ্যালঘু’ শব্দটি ব্যবহার করে কোনো সম্প্রদায়কে আলাদা করে দেখানোকে অনুচিত বলে মন্তব্য করেন। তার মতে, এদেশের প্রত্যেক নাগরিকের ভোটাধিকার সমান এবং কেউ কারো ভোটব্যাংক নয়। এ ধরনের শব্দ ব্যবহারের মাধ্যমে একটি সম্প্রদায়কে পরোক্ষভাবে অপমান করা হয় বলেও তিনি জানান।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, ইসলাম ধর্মে স্পষ্টভাবে বলা আছে—যার যার ধর্ম তার তার কাছে এবং কোনো ধর্মে হস্তক্ষেপ করা যাবে না। সেই শিক্ষার ভিত্তিতেই বাংলাদেশে সবাই মিলেমিশে বসবাস করছে। মাঝে মাঝে কিছু কুচক্রী মহল বিদ্বেষ ছড়ানোর চেষ্টা করলেও সম্মিলিতভাবে তা প্রতিহত করা হয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের উদ্দেশে তিনি বলেন, ভোটের সংখ্যা কম মনে করে যেন কেউ নিজেদের অবহেলা না করেন। একটি ভোটও গুরুত্বপূর্ণ এবং সেই ভোট অন্যদের উৎসাহিত করতে পারে। তিনি আহ্বান জানান, খ্রিস্টান, হিন্দু, বৌদ্ধসহ সব সম্প্রদায়ের মানুষ যেন তার পক্ষে ভোট দেন এবং পরিচিতজনদেরও ভোট দিতে উৎসাহিত করেন।
রিপোর্টারের নাম 






















