ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

বদরগঞ্জে ধানের শীষের জনসভায় আ.লীগ নেতাকে সভাপতি করায় উত্তেজনা, বিএনপির একাংশের মঞ্চত্যাগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৫২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

রংপুরের বদরগঞ্জে ধানের শীষের নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক জনসভায় ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতিকে সরিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সভাপতির আসনে বসানোকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির একটি বড় অংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সভামঞ্চ ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে মধুপুর ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আলী সরকারের সমর্থনে এক নির্বাচনি জনসভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি মোকসেদুল হক সভাপতিত্ব করছিলেন। তবে সভা চলাকালীন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জাসদ নেতা অধ্যাপক আজিজুল হক সভামঞ্চে উপস্থিত হয়ে আকস্মিকভাবে মোকসেদুল হককে চেয়ার থেকে সরিয়ে দেন। তার পরিবর্তে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ‘মোটকা’ এনামুলকে সভার সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করা হয়।

উপজেলা নেতার এমন সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তা উপেক্ষা করে সভা চালিয়ে যান। একপর্যায়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হকের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের জনসমর্থন কমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা।

ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হক বলেন, “আমি তৃণমূলের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সভাপতি। অথচ আমাকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে দিয়ে সভার সভাপতিত্ব করানো হয়েছে। এটি কেবল আমার জন্য নয়, বরং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য চরম অবমাননাকর।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও পাকার মাতা এলাকায় একইভাবে বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের এই চেষ্টা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

একই সুরে কথা বলেন বদরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী রাজ। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির কর্মীরা। এখন ভোটের মাঠে যদি সেই সুবিধাবাদীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা দলের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন।

অন্যদিকে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক জানান, নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা মান-অভিমান তৈরি হলেও তা দ্রুত মিটে যাবে। তার দাবি, নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী নিজেই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার এবং তাদের প্রতি নমনীয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী বিষ্ণুপুর ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশ গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ: পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের উদ্বেগজনক চিত্র

বদরগঞ্জে ধানের শীষের জনসভায় আ.লীগ নেতাকে সভাপতি করায় উত্তেজনা, বিএনপির একাংশের মঞ্চত্যাগ

আপডেট সময় : ১০:৫২:১৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

রংপুরের বদরগঞ্জে ধানের শীষের নির্বাচনি জনসভাকে কেন্দ্র করে চরম উত্তেজনা ও অভ্যন্তরীণ কোন্দল প্রকাশ্যে এসেছে। উপজেলার মধুপুর ইউনিয়নে আয়োজিত এক জনসভায় ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতিকে সরিয়ে ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের এক নেতাকে সভাপতির আসনে বসানোকে কেন্দ্র করে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। এর প্রতিবাদে ক্ষুব্ধ হয়ে বিএনপির একটি বড় অংশের নেতাকর্মী ও সমর্থকরা সভামঞ্চ ত্যাগ করেন।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, গত রবিবার রাতে মধুপুর ইউনিয়নে ধানের শীষের প্রার্থী মো. আলী সরকারের সমর্থনে এক নির্বাচনি জনসভার আয়োজন করা হয়। সভার শুরুতে নিয়ম অনুযায়ী ইউনিয়ন বিএনপির নির্বাচিত সভাপতি মোকসেদুল হক সভাপতিত্ব করছিলেন। তবে সভা চলাকালীন উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক জাসদ নেতা অধ্যাপক আজিজুল হক সভামঞ্চে উপস্থিত হয়ে আকস্মিকভাবে মোকসেদুল হককে চেয়ার থেকে সরিয়ে দেন। তার পরিবর্তে স্থানীয় ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ‘মোটকা’ এনামুলকে সভার সভাপতি হিসেবে ঘোষণা করে নতুন করে কার্যক্রম শুরু করা হয়।

উপজেলা নেতার এমন সিদ্ধান্তে তাৎক্ষণিকভাবে উপস্থিত সাধারণ ভোটার ও তৃণমূল নেতাকর্মীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ ছড়িয়ে পড়ে। তারা এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদ জানালেও উপজেলা সাধারণ সম্পাদক তা উপেক্ষা করে সভা চালিয়ে যান। একপর্যায়ে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হকের নেতৃত্বে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ও সমর্থক সভাস্থল ত্যাগ করে চলে যান। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে এবং সাধারণ ভোটারদের মধ্যে ধানের শীষের জনসমর্থন কমার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন তৃণমূলের কর্মীরা।

ঘটনার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে ইউনিয়ন বিএনপির সভাপতি মোকসেদুল হক বলেন, “আমি তৃণমূলের প্রত্যক্ষ ভোটে নির্বাচিত সভাপতি। অথচ আমাকে সরিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাকে দিয়ে সভার সভাপতিত্ব করানো হয়েছে। এটি কেবল আমার জন্য নয়, বরং দলের ত্যাগী নেতাকর্মীদের জন্য চরম অবমাননাকর।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, এর আগেও পাকার মাতা এলাকায় একইভাবে বিএনপি নেতাদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগ নেতাদের প্রাধান্য দেওয়ার ঘটনা ঘটেছে। বছরের পর বছর জেল-জুলুম সহ্য করা নেতাকর্মীদের বাদ দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের এই চেষ্টা সাধারণ মানুষ ভালোভাবে নেবে না বলে তিনি সতর্ক করেন।

একই সুরে কথা বলেন বদরগঞ্জ উপজেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব আলী রাজ। তিনি জানান, দীর্ঘ সময় ধরে আওয়ামী লীগের দমন-পীড়নের শিকার হয়েছেন বিএনপির কর্মীরা। এখন ভোটের মাঠে যদি সেই সুবিধাবাদীদেরই প্রাধান্য দেওয়া হয়, তবে সাধারণ ভোটাররা দলের ওপর আস্থা হারিয়ে ফেলবেন।

অন্যদিকে, ঘটনার সত্যতা স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক আজিজুল হক জানান, নেতাকর্মীদের মধ্যে কিছুটা মান-অভিমান তৈরি হলেও তা দ্রুত মিটে যাবে। তার দাবি, নির্বাচনি কৌশলের অংশ হিসেবে অনেক সময় এমন সিদ্ধান্ত নিতে হয়। তিনি আরও বলেন, প্রার্থী নিজেই আওয়ামী লীগ নেতাদের সঙ্গে নিয়ে কাজ করার এবং তাদের প্রতি নমনীয় থাকার নির্দেশনা দিয়েছেন। এমনকি পার্শ্ববর্তী বিষ্ণুপুর ইউনিয়নেও আওয়ামী লীগ নেতাদের সহযোগিতায় ভোট করার পরিকল্পনা রয়েছে এবং এটি কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তের আলোকেই করা হচ্ছে বলে তিনি দাবি করেন।