ঢাকা ০৭:১৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১১ মার্চ ২০২৬

ভোট জালিয়াতি রুখতে প্রতিটি কেন্দ্রে ‘জনপ্রাচীর’ গড়ার ডাক মামুনুল হকের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের কারচুপি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা মৃত ব্যক্তি বা প্রবাসীদের নাম ব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনের সামনে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, মৃত ব্যক্তি এবং যারা বর্তমানে এলাকায় নেই, তাদের তালিকা তৈরি করে ভোট চুরির পাঁয়তারা চলছে। অতীতে কবরস্থান থেকে ‘মুর্দা’ এসে ভোট দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা আমরা দেখেছি। এবার এমন কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে এমনভাবে জনপ্রাচীর তৈরি করতে হবে যেন কোনো অশুভ শক্তি জালিয়াতি করার সাহস না পায়।” তিনি পোলিং এজেন্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো ভুয়া ভোটার কেন্দ্রে এলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে হবে।

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা অপরিহার্য। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন এই অরাজকতা রুখতে ব্যর্থ হয়, তবে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ঝুঁকির মুখে পড়বে। অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবর্তনকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মামুনুল হক বলেন, এই জোট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে গঠিত হয়েছে। বৈষম্য, শোষণ আর জুলুমমুক্ত সমাজ গঠনই আমাদের মূল অঙ্গীকার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে, তবে রাজনীতির নামে কোনো নির্দোষ মানুষকে হয়রানি বা ‘মামলা বাণিজ্য’ সহ্য করা হবে না।

বিগত ৫৪ বছরের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের মানুষ যে ইনসাফ ও শোষনমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল, তা আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর নতুন প্রজন্ম এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে গুণ্ডামি, আধিপত্যবাদ ও পেশিশক্তির রাজনীতির কোনো স্থান নেই। এখন সময় এসেছে শিক্ষিত, মার্জিত ও দেশপ্রেমিক আলেম-ওলামাদের হাতকে শক্তিশালী করার।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সেদিন জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে তিনি গোপালগঞ্জবাসীকে ‘রিকশা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এখনো সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের পরিণাম শুভ হবে না।

পথসভায় গোপালগঞ্জ-২ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী মো. শুয়াইব ইবরাহীম এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আজিজসহ (মাক্কী) কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে আয়োজিত এই সভায় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ব্রিটিশ গণমাধ্যমে মুসলিমবিদ্বেষ: পক্ষপাতদুষ্ট প্রতিবেদনের উদ্বেগজনক চিত্র

ভোট জালিয়াতি রুখতে প্রতিটি কেন্দ্রে ‘জনপ্রাচীর’ গড়ার ডাক মামুনুল হকের

আপডেট সময় : ০৯:৩৫:৩৪ অপরাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক নির্বাচনকে কেন্দ্র করে যেকোনো ধরনের কারচুপি ও জালিয়াতির বিরুদ্ধে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন। তিনি বলেছেন, যারা মৃত ব্যক্তি বা প্রবাসীদের নাম ব্যবহার করে জাল ভোট দেওয়ার ষড়যন্ত্র করছে, তাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ প্রতিরোধ গড়ে তুলতে হবে। সোমবার দুপুরে গোপালগঞ্জ সমন্বিত সরকারি অফিস ভবনের সামনে আয়োজিত এক নির্বাচনি পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

মাওলানা মামুনুল হক বলেন, “আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে যে, মৃত ব্যক্তি এবং যারা বর্তমানে এলাকায় নেই, তাদের তালিকা তৈরি করে ভোট চুরির পাঁয়তারা চলছে। অতীতে কবরস্থান থেকে ‘মুর্দা’ এসে ভোট দেওয়ার মতো নজিরবিহীন ঘটনা আমরা দেখেছি। এবার এমন কোনো সুযোগ দেওয়া হবে না। প্রতিটি ভোটকেন্দ্রের চারপাশে এমনভাবে জনপ্রাচীর তৈরি করতে হবে যেন কোনো অশুভ শক্তি জালিয়াতি করার সাহস না পায়।” তিনি পোলিং এজেন্টদের প্রতি নির্দেশ দিয়ে বলেন, কোনো ভুয়া ভোটার কেন্দ্রে এলে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে সোপর্দ করতে হবে।

প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ তৈরি করা অপরিহার্য। ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জনপ্রিয়তায় ভীত হয়ে একটি গোষ্ঠী সন্ত্রাস ও ভীতি প্রদর্শনের মাধ্যমে নির্বাচনি পরিবেশ নষ্ট করার চেষ্টা করছে। তিনি সতর্ক করে বলেন, যদি নির্বাচন কমিশন এই অরাজকতা রুখতে ব্যর্থ হয়, তবে নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন ঝুঁকির মুখে পড়বে। অনেক রক্ত আর ত্যাগের বিনিময়ে অর্জিত এই পরিবর্তনকে কোনোভাবেই ব্যর্থ হতে দেওয়া যাবে না।

১১ দলীয় নির্বাচনি জোটের লক্ষ্য ও উদ্দেশ্য ব্যাখ্যা করে মামুনুল হক বলেন, এই জোট কোনো ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর স্বার্থ উদ্ধারের জন্য নয়, বরং দেশের ১৮ কোটি মানুষের ন্যায্য অধিকার নিশ্চিত করতে গঠিত হয়েছে। বৈষম্য, শোষণ আর জুলুমমুক্ত সমাজ গঠনই আমাদের মূল অঙ্গীকার। তিনি স্পষ্ট জানিয়ে দেন, প্রকৃত অপরাধীদের বিচার নিশ্চিত করা হবে, তবে রাজনীতির নামে কোনো নির্দোষ মানুষকে হয়রানি বা ‘মামলা বাণিজ্য’ সহ্য করা হবে না।

বিগত ৫৪ বছরের রাজনীতির সমালোচনা করে তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর থেকে এ দেশের মানুষ যে ইনসাফ ও শোষনমুক্ত সমাজের স্বপ্ন দেখেছিল, তা আজও অপূর্ণ রয়ে গেছে। ২০২৪-এর ছাত্র-জনতার বিপ্লবের পর নতুন প্রজন্ম এক নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখছে, যেখানে গুণ্ডামি, আধিপত্যবাদ ও পেশিশক্তির রাজনীতির কোনো স্থান নেই। এখন সময় এসেছে শিক্ষিত, মার্জিত ও দেশপ্রেমিক আলেম-ওলামাদের হাতকে শক্তিশালী করার।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে দেশের ইতিহাসে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে অভিহিত করে তিনি বলেন, সেদিন জাতীয় নির্বাচনের পাশাপাশি একটি ঐতিহাসিক গণভোটও অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। পরিবর্তনের পক্ষে রায় দিতে তিনি গোপালগঞ্জবাসীকে ‘রিকশা’ মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা এখনো সন্ত্রাসের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলের স্বপ্ন দেখছেন, তাদের পরিণাম শুভ হবে না।

পথসভায় গোপালগঞ্জ-২ আসনের জোট মনোনীত প্রার্থী মো. শুয়াইব ইবরাহীম এবং গোপালগঞ্জ-৩ আসনের প্রার্থী মো. আব্দুল আজিজসহ (মাক্কী) কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন। ঢাকা-খুলনা মহাসড়কের পাশে আয়োজিত এই সভায় বিপুল সংখ্যক নেতা-কর্মী ও সাধারণ মানুষের সমাগম ঘটে।