ঢাকা ০১:০৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

খুলনার ৬ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:১৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উৎসবমুখর হাওয়া। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠের সমীকরণ বলছে—আসল লড়াই হবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে নিরন্তর প্রচার-প্রচারণা।

নির্বাচনী আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এমন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। গত মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জনসভার পর আজ সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই তৎপরতা খুলনার ভোটের মাঠে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা): হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমির এজাজ খান। এর আগে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও এবার তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অন্যদিকে, জামায়াত এই আসনে চমক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে ব্যবসায়ী নেতা কৃষ্ণ নন্দীকে। সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা): খুলনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দীর্ঘ সময় দলীয় পদ-পদবির বাইরে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ব্যক্তিগত ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতা এখনও অটুট। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল তার সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এখানে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী): শিল্পাঞ্চলখ্যাত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তিনি নিজের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। তার বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী মহানগর আমির মাহফুজুর রহমান। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন।

খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া): এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের। হেলালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে জামায়াতের সুসংগঠিত প্রচার—সব মিলিয়ে এখানে লড়াই হবে সমানে সমান।

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা): দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে এই আসনটি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির সাবেক এমপি ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আলি আসগার লবি। হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জনে দুই প্রার্থীই ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। গোলাম পরওয়ারের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি এবং লবির রাজনৈতিক কৌশলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন এলাকাবাসী।

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা): উপকূলীয় এই আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে লড়াই হচ্ছে বিএনপির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর। এই আসনে জামায়াতের ভোটব্যাংক ঐতিহাসিকভাবেই শক্তিশালী। তবে বাপ্পী তার সভা-সমাবেশের মাধ্যমে পাইকগাছা এলাকায় নিজের অবস্থান সংহত করতে সক্ষম হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়। ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি এলাকার উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। সব মিলিয়ে খুলনার ৬টি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের অপেক্ষা করছে দেশবাসী।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পর্যাপ্ত মজুত সত্ত্বেও পাম্পে অকটেনের হাহাকার: কারণ কী?

খুলনার ৬ আসনে ভোটের লড়াইয়ে মূল প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপি ও জামায়াত

আপডেট সময় : ০২:১৮:৫১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আসন্ন জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে খুলনার রাজনৈতিক অঙ্গনে বইছে উৎসবমুখর হাওয়া। জেলার ৬টি সংসদীয় আসনে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও স্বতন্ত্র মিলিয়ে ৩৮ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলেও মাঠের সমীকরণ বলছে—আসল লড়াই হবে বিএনপি এবং জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের মধ্যে। দীর্ঘ সময় পর একটি মুক্ত ও নিরপেক্ষ পরিবেশে ভোটাধিকার প্রয়োগের সুযোগ পাওয়ায় ভোটারদের দ্বারে দ্বারে ছুটছেন প্রার্থীরা। কাকডাকা ভোর থেকে গভীর রাত পর্যন্ত চলছে নিরন্তর প্রচার-প্রচারণা।

নির্বাচনী আবহাওয়া বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, খুলনার রাজনীতিতে দীর্ঘ এক দশকেরও বেশি সময় পর এমন প্রাণচাঞ্চল্য ফিরে এসেছে। গত মঙ্গলবার জামায়াতে ইসলামীর আমিরের জনসভার পর আজ সোমবার বিএনপি চেয়ারপারসন তারেক রহমানের আগমনকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মধ্যে নতুন উদ্দীপনা তৈরি হয়েছে। দুই দলের শীর্ষ নেতৃত্বের এই তৎপরতা খুলনার ভোটের মাঠে ভিন্নমাত্রা যোগ করেছে।

খুলনা-১ (দাকোপ-বটিয়াঘাটা): হিন্দু ধর্মাবলম্বী অধ্যুষিত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমির এজাজ খান। এর আগে তিনবার প্রতিদ্বন্দ্বিতা করে পরাজিত হলেও এবার তিনি জয়ের ব্যাপারে শতভাগ আশাবাদী। অন্যদিকে, জামায়াত এই আসনে চমক হিসেবে দাঁড় করিয়েছে ব্যবসায়ী নেতা কৃষ্ণ নন্দীকে। সনাতন ধর্মাবলম্বী প্রার্থী হওয়ায় সংখ্যালঘু ভোটারদের বড় একটি অংশ তার দিকে ঝুঁকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

খুলনা-২ (সদর-সোনাডাঙ্গা): খুলনার সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই আসনে বিএনপির প্রার্থী জনপ্রিয় নেতা নজরুল ইসলাম মঞ্জু। দীর্ঘ সময় দলীয় পদ-পদবির বাইরে থাকলেও সাধারণ মানুষের মধ্যে তার ব্যক্তিগত ইমেজ ও গ্রহণযোগ্যতা এখনও অটুট। বিপরীতে জামায়াতে ইসলামীর প্রার্থী অ্যাডভোকেট জাহাঙ্গীর হোসাইন হেলাল তার সুসংগঠিত কর্মী বাহিনী এবং সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে প্রচারণার মাধ্যমে শক্ত অবস্থান গড়ে তুলেছেন। এখানে দুই দলের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের আভাস পাওয়া যাচ্ছে।

খুলনা-৩ (খালিশপুর-দৌলতপুর-খানজাহান আলী): শিল্পাঞ্চলখ্যাত এই আসনে বিএনপির প্রার্থী কেন্দ্রীয় ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক রকিবুল ইসলাম বকুল। করোনাকালীন সময়ে সাধারণ মানুষের পাশে থেকে তিনি নিজের জনপ্রিয়তা বাড়িয়েছেন। তার বিপরীতে জামায়াতের প্রার্থী মহানগর আমির মাহফুজুর রহমান। মাদক ও সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি ঘোষণা করে তিনি সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আস্থার জায়গা তৈরি করেছেন।

খুলনা-৪ (রূপসা-তেরখাদা-দিঘলিয়া): এই আসনে বিএনপির কেন্দ্রীয় তথ্যবিষয়ক সম্পাদক আজিজুল বারী হেলালের সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা হবে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থী খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মাওলানা সাখাওয়াত হোসেনের। হেলালের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা এবং সাখাওয়াত হোসেনের পক্ষে জামায়াতের সুসংগঠিত প্রচার—সব মিলিয়ে এখানে লড়াই হবে সমানে সমান।

খুলনা-৫ (ডুমুরিয়া-ফুলতলা): দুই হেভিওয়েট প্রার্থীর লড়াইয়ে সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে এই আসনটি। জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি মিয়া গোলাম পরওয়ারের বিরুদ্ধে লড়ছেন বিএনপির সাবেক এমপি ও বিসিবির সাবেক সভাপতি আলি আসগার লবি। হিন্দু অধ্যুষিত এই এলাকায় সংখ্যালঘু ভোটারদের নিরাপত্তা ও আস্থা অর্জনে দুই প্রার্থীই ব্যাপক তৎপরতা চালাচ্ছেন। গোলাম পরওয়ারের দীর্ঘদিনের সাংগঠনিক ভিত্তি এবং লবির রাজনৈতিক কৌশলের লড়াই দেখতে মুখিয়ে আছেন এলাকাবাসী।

খুলনা-৬ (কয়রা-পাইকগাছা): উপকূলীয় এই আসনে জামায়াতের কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য আবুল কালাম আজাদের সঙ্গে লড়াই হচ্ছে বিএনপির জেলা শাখার ভারপ্রাপ্ত সদস্যসচিব এস এম মনিরুল হাসান বাপ্পীর। এই আসনে জামায়াতের ভোটব্যাংক ঐতিহাসিকভাবেই শক্তিশালী। তবে বাপ্পী তার সভা-সমাবেশের মাধ্যমে পাইকগাছা এলাকায় নিজের অবস্থান সংহত করতে সক্ষম হয়েছেন।

রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, এবারের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের অনুপস্থিতি এবং হিন্দু ভোটারদের সমর্থন কোন দিকে যায়, তার ওপরই নির্ভর করছে জয়-পরাজয়। ভোটাররা বলছেন, তারা এমন একজন প্রতিনিধি চান যিনি এলাকার উন্নয়ন এবং সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবেন। সব মিলিয়ে খুলনার ৬টি আসনেই বিএনপি ও জামায়াতের মধ্যে একটি তীব্র প্রতিদ্বন্দ্বিতামূলক নির্বাচনের অপেক্ষা করছে দেশবাসী।