আসন্ন জাতীয় নির্বাচনকে সামনে রেখে দেশের সচেতন নাগরিক সমাজকে নারী নিপীড়ক, চাঁদাবাজ এবং সকল প্রকার অপরাধীদের প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী ছাত্রশিবির। সংগঠনটির সেক্রেটারি জেনারেল সিবগাতুল্লাহ বলেছেন, বিএনপি তাদের অতীত ভুল থেকে শিক্ষা নিতে ব্যর্থ হয়েছে। তিনি স্মরণ করিয়ে দেন যে, পূর্ববর্তী স্বৈরাচারী শাসনামলে শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন সরকার কর্তৃক জুলাই মাসে সংঘটিত নারী নির্যাতনের ঘটনা আন্দোলন দমনের পরিবর্তে তা আরও বেগবান করেছিল। আগামী ১২ তারিখের নির্বাচনকে একটি নতুন ভোরের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, সেদিন দেশের জনগণ সকল চাঁদাবাজ ও নারী নিপীড়কদের চূড়ান্তভাবে ‘লালকার্ড’ দেখিয়ে দেবে।
রোববার সন্ধ্যায় রাজধানীর একটি বিক্ষোভ-পরবর্তী সমাবেশে তিনি এ কথা বলেন। গাজীপুরে ছাত্রদল কর্তৃক সংঘটিত নারী হত্যা এবং দেশব্যাপী বিএনপি ও এর অঙ্গসংগঠনগুলোর অব্যাহত নারী নির্যাতনের প্রতিবাদে ইসলামী ছাত্রশিবির, ঢাকা মহানগর এই কর্মসূচির আয়োজন করে। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে মিছিলটি কেন্দ্রীয় প্রচার সম্পাদক আজিজুর রহমানের নেতৃত্বে গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে শাহবাগে এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশের মাধ্যমে শেষ হয়।
ঢাকা মহানগর পূর্ব সভাপতি ও ডাকসুর পরিবহন সম্পাদক আসিফ আব্দুল্লাহর সঞ্চালনায় আয়োজিত এই সমাবেশে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন ছাত্রশিবিরের সেক্রেটারি জেনারেল সিবাগাতুল্লাহ সিবগাহ। তিনি বলেন, শত-সহস্র শহীদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে বাংলাদেশ আজ এক ঐতিহাসিক সন্ধিক্ষণে দাঁড়িয়ে। অতীতের কলুষিত রাজনীতিকে পেছনে ফেলে যখন দেশে এক নতুন ধারার রাজনীতির সূচনা হতে চলেছে, ঠিক তখনই একটি বিশেষ গোষ্ঠী বাংলাদেশকে নিয়ে গভীর ষড়যন্ত্রে লিপ্ত হয়েছে। দেশের মানুষ যখন নিজেদের পছন্দের সরকার গঠনের দ্বারপ্রান্তে, তখন সেই দলটি দেশজুড়ে হত্যা, নারী নির্যাতন ও পৈশাচিক অত্যাচারে মেতে উঠেছে। তারা দেশের প্রতিটি জনপদে নারীদের ওপর হায়েনার মতো ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
তিনি অভিযোগ করেন, শনিবার ছাত্রদল নেতা কর্তৃক গাজীপুরে একজন হিন্দু ধর্মাবলম্বী নারীকে হত্যা এবং চট্টগ্রামে সপ্তম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের ঘটনায় ছাত্রদলের সংশ্লিষ্টতার খবর পাওয়া গেছে। তিনি আরও বলেন, ২০১৮ সালে ধানের শীষে ভোট দেওয়ার কারণে যারা ধর্ষণের শিকার হয়েছিলেন, তাদের মামলার আসামিরাও এখন বিএনপির নির্বাচনি প্রচারণায় অংশ নিচ্ছে, যা অত্যন্ত লজ্জাজনক।
ছাত্র সংসদ নির্বাচনে নারীদের বিপুল ভোটে ছাত্রশিবিরকে জয়যুক্ত করার পর এখন তাদের ভয়ভীতি সৃষ্টি করা হচ্ছে, যাতে তারা আগামী জাতীয় নির্বাচনে ভোটকেন্দ্রে যেতে নিরুৎসাহিত হয়। সাইবার আক্রমণ ও প্রশাসনের ভূমিকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি নেতা আলতাফ হোসেনের নির্বাচনে সরকারের বিভিন্ন এজেন্সিকে ব্যবহারের বক্তব্যের বিষয়টি অত্যন্ত উদ্বেগজনক। তিনি সংশ্লিষ্ট এজেন্সিগুলোর কাছে এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা দাবি করেন এবং বলেন, অন্যথায় ধরে নেওয়া হবে যে তারা ফ্যাসিস্টদের পরিণতি থেকে শিক্ষা নেননি।
সমাবেশে ডাকসুর ভিপি সাদিক কায়েম বলেন, জুলাই বিপ্লবের পর বাংলাদেশে যে ঐতিহাসিক সংস্কার ও নতুন দিনের সুযোগ তৈরি হয়েছিল, তা নস্যাৎ করার জন্য একটি দল মরিয়া হয়ে উঠেছে। দীর্ঘ দেড় বছর পর তাদের এক নেতার দেশে ফেরার পর দলের সন্ত্রাসীরা আরও বেপরোয়া হয়ে পড়েছে। বাংলাদেশের সাধারণ নাগরিকরা যখন ন্যায়বিচারের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছে, তখন তারা উন্মত্ত হয়ে আমাদের মা-বোনদের ওপর হামলা ও হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছে।
সমাবেশে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় এইচআরএম সম্পাদক সাইদুল ইসলাম এবং জকসু ভিপি রিয়াজুল ইসলাম। এ সময় ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় বায়তুলমাল সম্পাদক আনিসুর রহমান, ঢাকা মহানগর পশ্চিম সভাপতি হাফেজ আবু তাহেরসহ ঢাকা মহানগর ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
রিপোর্টারের নাম 
























