দেশের উত্তরাঞ্চলের দীর্ঘদিনের বঞ্চনা ও উন্নয়ন বৈষম্য দূর করতে তিস্তা মহাপরিকল্পনা দ্রুত বাস্তবায়নের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে ১১ দলীয় জোট। রোববার রংপুর-৪ আসনের নির্বাচনী প্রচারণা উপলক্ষে পীরগাছা সরকারি কলেজ মাঠে আয়োজিত এক বিশাল পথসভায় জোটের শীর্ষ নেতারা এই অঙ্গীকার ব্যক্ত করেন।
পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এনসিপির সদস্য সচিব আকতার হোসেন বলেন, “বিগত ১৬ বছর পীরগাছাসহ এই অঞ্চলের মানুষ চরম নিপিড়নের শিকার হয়েছে। আমরা কথা দিচ্ছি, তরুণ প্রজন্মের হাত ধরেই রংপুরসহ সমগ্র উত্তরবঙ্গের ভাগ্যোন্নয়ন নিশ্চিত করা হবে। দেশের সকল অনিয়ম ও দুর্নীতি দূর করতে আমরা বদ্ধপরিকর।” তিনি আরও বলেন, ক্ষমতায় গেলে প্রতিটি বরাদ্দের হিসাব সাধারণ মানুষের সামনে দৃশ্যমান করতে ডিজিটাল বোর্ড স্থাপন করা হবে, যাতে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত হয়।
তিস্তা নদী প্রসঙ্গে আকতার হোসেন বলেন, তিস্তার পানি সংকট ও নাব্যতা হ্রাসের কারণে এই অঞ্চলের কৃষি ও অর্থনীতি আজ বিপর্যস্ত। ১১ দলীয় জোট নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে ‘তিস্তা মহাপরিকল্পনা’ বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি জুলাই বিপ্লবের শহীদ আবু সাঈদের বীরত্বগাথা স্মরণ করে বলেন, আবু সাঈদের আত্মত্যাগের ফলেই দেশ আজ ফ্যাসিবাদমুক্ত। এই অর্জনকে অর্থবহ করতে হলে আসন্ন নির্বাচনে ব্যালটের মাধ্যমে আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে রায় দিতে হবে।
সভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আব্দুল হালিম বলেন, আগামী নির্বাচন হবে ইনসাফ কায়েম ও বৈষম্যমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার লড়াই। ভারতীয় আধিপত্যবাদের বিরুদ্ধে এবং জুলাই বিপ্লবের আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়নে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের বিজয়ী করা এখন সময়ের দাবি। তিনি অভিযোগ করেন, ছাত্রদের মধ্যে সৃষ্ট গণজোয়ার দেখে একটি স্বার্থান্বেষী মহল ষড়যন্ত্র শুরু করেছে, যা ঐক্যবদ্ধভাবে রুখে দেওয়া হবে।
এনসিপির মুখপাত্র আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া তার বক্তব্যে বলেন, বারবার তিস্তা মহাপরিকল্পনার কথা বলা হলেও অতীতে তা বাস্তবায়ন করা হয়নি। আমরা নির্বাচিত হলে দ্রুততম সময়ের মধ্যে এই প্রকল্প সম্পন্ন করব। এছাড়া নাগরিক ভোগান্তি কমাতে একাধিক কার্ডের পরিবর্তে একটি মাত্র ‘স্মার্ট কার্ডে’র মাধ্যমে সকল সরকারি সেবা নিশ্চিত করার পরিকল্পনা রয়েছে আমাদের। তিনি ঋণখেলাপি ও অর্থ পাচারকারীদের মনোনয়ন দেওয়ার কঠোর সমালোচনা করেন।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ বলেন, ছাত্র ও যুব সমাজ এবার ভোটকেন্দ্র পাহারা দিয়ে জনগণের ভোটাধিকার রক্ষা করবে। ব্যাংক লুটেরা ও চাঁদাবাজদের হাত থেকে সংসদকে মুক্ত করতে হবে। তিনি সাধারণ মানুষকে নির্ভয়ে ভোটকেন্দ্রে আসার আহ্বান জানান।
ছাত্র শক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানের সঞ্চালনায় উক্ত পথসভায় আরও বক্তব্য রাখেন রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম খান, এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন এবং যুব শক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলামসহ জোটের স্থানীয় নেতৃবৃন্দ। বক্তারা উন্নয়নের স্বার্থে এবং নতুন বাংলাদেশ বিনির্মাণে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়যুক্ত করার জন্য ভোটারদের প্রতি উদাত্ত আহ্বান জানান।
রিপোর্টারের নাম 
























