দেশের বিভিন্ন স্থানে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশগ্রহণকারী নারী কর্মীদের ওপর অব্যাহত হামলা, শারীরিক লাঞ্ছনা ও গণতান্ত্রিক অধিকার হরণের প্রতিবাদ জানিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশনারের (সিইসি) কাছে স্মারকলিপি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগ। রোববার বিকেলে রাজধানীর আগারগাঁওস্থ নির্বাচন ভবনে গিয়ে এই স্মারকলিপি প্রদান করা হয়। এতে সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ নিশ্চিত করতে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯ দফা দাবি ও সুপারিশ তুলে ধরা হয়েছে।
স্মারকলিপি প্রদানকালে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ও কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দীকা, সহকারী সেক্রেটারি সাঈদা রুম্মান ও মারজিয়া বেগম এবং কর্মপরিষদ সদস্য ডা. হাবিবা চৌধুরীসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।
স্মারকলিপি প্রদান শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নূরুন্নিসা সিদ্দীকা বলেন, সুস্থ রাজনীতির প্রধান অনুষঙ্গ হলো নির্ভয়ে মতপ্রকাশ ও রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে অংশগ্রহণের স্বাধীনতা। কিন্তু বর্তমানে দেশের রাজনৈতিক পরিস্থিতি নারীদের জন্য চরম উদ্বেগজনক হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নির্বাচনের প্রাক্কালে জামায়াতে ইসলামী ও ১১ দলীয় জোটের নারী কর্মীদের ওপর দেশের বিভিন্ন প্রান্তে যে পরিকল্পিত ও বর্বরোচিত হামলা চালানো হচ্ছে, তা কেবল মানবাধিকারের লঙ্ঘনই নয়, বরং জাতীয় রাজনীতির জন্য একটি কলঙ্কজনক অধ্যায়।
স্মারকলিপিতে দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী কর্মীদের ওপর হওয়া সহিংসতার চিত্র তুলে ধরা হয়। এতে উল্লেখ করা হয়, গত ৯ জানুয়ারি ভোলার লালমোহনে ভোটার সংযোগের সময় নারী কর্মীরা বাধার মুখে পড়েন এবং পরবর্তী সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হন। ১৯ জানুয়ারি ভোলার চরফ্যাশনে এক অন্তঃসত্ত্বা নারীকে লাথি মেরে গুরুতর আহত করার লোমহর্ষক ঘটনা ঘটে। এছাড়া নাটোর, মেহেরপুর, যশোর, লালমনিরহাট, চুয়াডাঙ্গা, রংপুর ও ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে নারী প্রচারকর্মীদের পথরোধ, শারীরিক লাঞ্ছনা, মোবাইল ফোন ও অর্থ ছিনিয়ে নেওয়ার মতো অসংখ্য ঘটনা ঘটছে।
এসব সহিংসতা রোধে নির্বাচন কমিশনের কাছে ৯টি সুনির্দিষ্ট দাবি উত্থাপন করা হয়েছে। দাবিগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো— নির্বাচনী প্রচারণাকালে নারী কর্মীদের ওপর সহিংসতাকে আচরণবিধির গুরুতর লঙ্ঘন হিসেবে গণ্য করে তাৎক্ষণিক শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া; নারী নির্যাতনের ঘটনায় দ্রুত তদন্তের মাধ্যমে দায়ীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করা; নারী প্রার্থী ও প্রচারকর্মীদের জন্য বিশেষ পুলিশ টহল ও নিরাপত্তা প্রটোকল চালু করা; নির্বাচন কমিশনের অধীনে পৃথক নারী-সংবেদনশীল হেল্পলাইন ও অনলাইন অভিযোগ প্ল্যাটফর্ম চালু করা।
অন্যান্য দাবির মধ্যে রয়েছে— কোনো প্রার্থীর সমর্থক দ্বারা নারী নিপীড়নের ঘটনা ঘটলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলের বিধান কার্যকর করা; দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ পুলিশ বা প্রশাসনিক কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া; হিজাব বা ধর্মীয় পরিচয় নিয়ে বিদ্বেষমূলক বক্তব্য বন্ধে আইনি পদক্ষেপ নেওয়া এবং সহিংসতা প্রবণ এলাকাগুলোকে ‘উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত করে অতিরিক্ত নিরাপত্তা নিশ্চিত করা। একইসঙ্গে নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে একটি ‘নারী-সহিংসতামুক্ত নির্বাচন’ ঘোষণা দিয়ে সকল দলের কাছ থেকে লিখিত অঙ্গীকার গ্রহণের দাবি জানানো হয়।
এদিকে, জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধে পাড়ায় পাড়ায় ‘শান্তি কমিটি’ গঠনের বিষয়ে বিএনপির তোলা অভিযোগকে ভিত্তিহীন ও ‘অসুস্থতার লক্ষণ’ বলে অভিহিত করেছেন অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের। তিনি বলেন, জনগণের বিপুল সমর্থন দেখে একটি পক্ষ ভীত হয়ে এ ধরনের আজগুবি অভিযোগ তুলছে। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানে নির্বাচনী প্রচারণার অভিযোগ অস্বীকার করে তিনি জানান, জামায়াতের সকল রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড দিনের আলোতে অত্যন্ত স্বচ্ছতার সঙ্গে পরিচালিত হচ্ছে। নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার অপপ্রয়াস হিসেবেই এসব মিথ্যা প্রচারণা চালানো হচ্ছে বলে তিনি মন্তব্য করেন।
নেতৃবৃন্দ আশা প্রকাশ করেন, নির্বাচন কমিশন তার সাংবিধানিক ক্ষমতা প্রয়োগ করে দেশে একটি ভীতিহীন ও মর্যাদাপূর্ণ রাজনৈতিক পরিবেশ ফিরিয়ে আনবে এবং নারীদের স্বাধীনভাবে রাজনৈতিক অধিকার চর্চার পথ সুগম করবে।
রিপোর্টারের নাম 
























