নারীদের ওপর আক্রমণ বা হয়রানি করলে জড়িতদের গাছে ঝুলিয়ে দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন। গত রোববার (১লা ফেব্রুয়ারি) রংপুরের কাউনিয়া-হারাগাছায় এনসিপির নির্বাচনি পদযাত্রার পথসভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই মন্তব্য করেন। একই সঙ্গে তিনি দেশের দুর্নীতি, সুশাসন ও আঞ্চলিক বৈষম্য দূরীকরণে তার জোটের প্রতি ভোট চেয়েছেন।
আখতার হোসেন বলেন, “গতকালও আমাদের এলাকায় নারীদের উপর আক্রমণ করেছে, নারীদের হয়রানি করেছে। আমরা আপনাদের স্পষ্ট করে বলছি, নারীদের নিয়ে বাঁদরামি কইরেন না। বাঁদরামি করলে একটা একটা করে গাছে ঝুলিয়ে দিব। এমনভাবে ঝুলিয়ে দিব, এক গাছ থেকে আরেক গাছেও লাফিয়ে যেতে পারবেন না।”
রংপুর-৪ আসনে এগারো দলীয় জোটের প্রার্থী আখতার হোসেন তার বক্তব্যে আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ দীর্ঘ সময় ধরে জুলুমের শিকার হয়েছে। শত শত গুম, খুন ও জুলুমের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ পেলেও দুর্নীতি, ঘুষ ও রাষ্ট্রীয় ষড়যন্ত্র থেকে মুক্তি মেলেনি। এসব সংস্কার এবং একটি উন্নত বাংলাদেশ গড়তে জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপিসহ এগারো দলীয় ঐক্যজোট গঠিত হয়েছে। তিনি দালাল ও নেতাদের উপর নির্ভরতা কমিয়ে জনগণের দোরগোড়ায় সেবা পৌঁছে দেওয়ার অঙ্গীকার করেন। নির্বাচিত হলে কাউনিয়া ও হারাগাছার সকল আয়-ব্যয়ের হিসাব বোর্ডের মাধ্যমে প্রদর্শন এবং গর্ভবতী মায়েদের নিরাপদ প্রসবের জন্য ভ্রাম্যমাণ মেডিকেল সেন্টার স্থাপনের প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়নের বিষয়ে ডাকসুর সাবেক সমাজসেবা সম্পাদক আখতার হোসেন বলেন, তিস্তার গভীরতা ও পানির অভাবে উত্তরাঞ্চলের মানুষ অভাবগ্রস্ত। এগারো দলীয় জোট নির্বাচিত হলে এবং এনসিপির ‘শাপলা কলি’ মার্কা জয়ী হলে তিস্তা মহাপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে। তিনি উত্তরাঞ্চলের উন্নয়ন বৈষম্য দূর করারও আশ্বাস দেন। তরুণ নেতৃত্ব নিয়ে কটাক্ষের জবাবে তিনি বলেন, “আমাদের রংপুরের ছেলে আবু সাঈদ যদি তরুণ বয়সে বুক পেতে না দিত, তাহলে আমরা আজও ফ্যাসিবাদ মুক্ত হতে পারতাম না। আমরা কথা দিচ্ছি, এই তারুণ্যের শক্তি দিয়েই রংপুরসহ উত্তরবঙ্গের উন্নতি করব এবং বাংলাদেশের সকল অনিয়ম দূর করব।” তিনি একটি গণভোটের জন্য ‘হ্যাঁ’ ভোটকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
পথসভায় এনসিপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির চেয়ারম্যান আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া বলেন, এগারো দলীয় জোট নির্বাচিত হলে শাপলা গণহত্যা, জুলাই গণহত্যা এবং হাদী ভাইয়ের হত্যাসহ সকল হত্যার বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি আওয়ামী লীগ ও বিএনপির শাসনকালকে ‘লুটপাটের ইতিহাস’ আখ্যা দিয়ে সুশাসন প্রতিষ্ঠার নিশ্চয়তা দেন। তিনি বলেন, আখতার হোসেনের অনুরোধে তিস্তার পাড় বাঁধাইয়ের জন্য আড়াইশ কোটি টাকাসহ দশ কোটি টাকারও বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। তিনি আধিপত্যবাদ বিরোধী আন্দোলন এবং জুলাই বিপ্লবে আখতার হোসেনের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে ফেলানী, আবরার ফাহাদ ও শরীফ উসমান হাদী হত্যাকাণ্ডের জন্য দায়ী শক্তিদের সঙ্গে বন্ধুত্ব করা দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানান।
এনসিপির দক্ষিণাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক হাসনাত আব্দুল্লাহ তার বক্তব্যে কাউনিয়াবাসীর কর্মসংস্থান, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও সুশাসনের অভাবের কথা তুলে ধরেন এবং আখতার হোসেন নির্বাচিত হলে এসব অধিকার আদায় করা হবে বলে জানান। তিনি চাঁদাবাজদের অর্থ নিয়ে রাজনীতিতে না আসার ঘোষণা দিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের জীবন ‘জাহান্নাম’ করার হুঁশিয়ারি দেন। শাড়ি, লুঙ্গি বা স্কুল ব্যাগ বিতরণ করে ভোট চাওয়া দলগুলোকে প্রত্যাখ্যান করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দুর্নীতি, চাঁদাবাজ ও দখলবাজমুক্ত বাংলাদেশ এবং আজীবন একজন ব্যক্তিকে ক্ষমতায় না দেখতে চাইলে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিতে হবে।
রংপুর মহানগর জামায়াতের আমির এটিএম আজম বলেন, জনগণের অধিকার আদায়ে জামায়াত, খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ও এনসিপিসহ এগারো দলীয় ঐক্যজোট সম্মিলিতভাবে কাজ করবে। তিনি জুলুম-নির্যাতন, চাঁদাবাজ ও দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে আখতার হোসেনের ‘শাপলা কলি’ মার্কায় ভোট দিয়ে তাকে বিজয়ী করার আহ্বান জানান।
ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদ আহসানের সঞ্চালনায় নির্বাচনি পথসভায় আরও বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক পার্টির শিক্ষা ও গবেষণা সম্পাদক ফয়সাল মাহমুদ শান্ত, জাতীয় যুবশক্তির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট তারিকুল ইসলাম, এনসিপির যুগ্ম সদস্য সচিব আকরাম হোসেন এবং এনসিপির যুগ্ম আহ্বায়ক মনিরা শারমিন প্রমুখ।
রিপোর্টারের নাম 
























