চাঁদপুর-৪ (ফরিদগঞ্জ) আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী ও উপজেলা বিএনপির সাবেক আহ্বায়ক এমএ হান্নান অভিযোগ করেছেন যে, দল তাকে যথাযথ মূল্যায়ন না করে অন্য একজনকে মনোনয়ন দিয়েছে। তিনি আরও দাবি করেছেন, কুচক্রী মহলের ইন্ধনে তার কর্মীদের ওপর হামলা, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর এবং ভোটারদের ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনা ঘটছে। শনিবার (৩১ জানুয়ারি) বিকেলে ফরিদগঞ্জ বাসস্ট্যান্ডে আয়োজিত এক জনসভায় তিনি এই অভিযোগ করে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন যে, এমন আচরণ পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলবে।
এমএ হান্নান বলেন, দলমত নির্বিশেষে ফরিদগঞ্জের মানুষের জন্য তিনি দীর্ঘদিন ধরে কাজ করেছেন। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের নীতি ও আদর্শে বিশ্বাসী হয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে তাকে জেল-জুলুম ও নানা নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তবুও তিনি দল ছাড়েননি। তবে তার অভিযোগ, দলের দুঃসময়ে ত্যাগী হওয়া সত্ত্বেও তাকে মূল্যায়ন না করে এমন একজনকে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে যিনি ‘এক ফ্যাসিস্টের দোসর’। এই কারণেই জনগণ তাকে জাতীয় সংসদ নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে দাঁড় করিয়েছে।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, তার কর্মীদের ওপর পরিকল্পিতভাবে হামলা চালানো হচ্ছে, নির্বাচনী ক্যাম্প ভাঙচুর করা হচ্ছে এবং ভোটারদের নানাভাবে ভয় দেখানো হচ্ছে। এসব বিষয়ে প্রশাসনের কাছে একাধিকবার বিচার চেয়েও তিনি ন্যায়বিচার পাচ্ছেন না বলে দাবি করেন। তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘ফ্যাসিবাদী আচরণ করে বিদ্রোহীকে অতি বিদ্রোহী করে তুললে পরিস্থিতি ভালো হবে না।’
এমএ হান্নান দাবি করেন, দলের দুঃসময়ে বিএনপির মনোনয়ন পাওয়ার কথা থাকলেও, আওয়ামী লীগের সঙ্গে আঁতাত করে তার মনোনয়ন ‘চুরি’ করা হয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন, বর্তমানে যিনি ধানের শীষের প্রার্থী হয়েছেন, তিনি এর আগেও ‘আম’ প্রতীক নিয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচন করেছেন। অথচ এখন তাকে (হান্নানকে) স্বতন্ত্র বা বিদ্রোহী আখ্যা দিয়ে তার নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, নির্যাতন ও ভয়ভীতি প্রদর্শন করা হচ্ছে। তিনি আবারও হুঁশিয়ারি দেন যে, নেতাকর্মীদের হয়রানির পরিণাম শুভ হবে না।
সুষ্ঠু ও সুন্দর পরিবেশে নির্বাচন সম্পন্ন করার জন্য তিনি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীসহ সংশ্লিষ্ট সকল বিভাগের হস্তক্ষেপ কামনা করেন।
উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক ও সাবেক মেয়র মঞ্জিল হোসেনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এই জনসভায় আরও বক্তব্য রাখেন পৌর বিএনপির সদ্য সাবেক আহ্বায়ক আমানত হোসেন গাজী, উপজেলা বিএনপির সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক আবু জাফর খসরু মোল্লা, নজরুল ইসলাম নজু পাটওয়ারী, আলমগীর পাটওয়ারী, মাসুদ আলম বেপারী, পৌর বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক জামাল মিজি, উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি আমজাদ হোসেন শিপন, সাধারণ সম্পাদক জাহাঙ্গীর আলম নান্টু, পৌর যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক ইমাম হোসেন পাটওয়ারী এবং পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সাবেক আহ্বায়ক আরিফ পাটওয়ারীসহ স্থানীয় নেতৃবৃন্দ।
রিপোর্টারের নাম 
























