যশোরের চৌগাছায় দুই শিবির নেতাকে গুলি করে মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১। একইসাথে এই মামলায় অভিযুক্ত আরও তিনজনকে আদালতে হাজিরার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ এর সদস্য বিচারপতি শফিউল আলম মাহমুদ ও অবসরপ্রাপ্ত জেলা ও দায়রা জজ মোহিতুল হক এনাম চৌধুরীর সমন্বয়ে গঠিত বিচারিক প্যানেল রোববার এই আদেশ প্রদান করে।
মামলার প্রসিকিউশন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ উত্থাপন করার পর, অভিযোগ আমলে নিয়ে আদালত এই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির আবেদন মঞ্জুর করে।
এ প্রসঙ্গে চিফ প্রসিকিউটর মোহাম্মদ তাজুল ইসলাম জানান, ২০১৬ সালের ৩ আগস্ট যশোরের চৌগাছায় রুহুল আমিন ও ইসরাফিল নামে দুই ছাত্রনেতাকে পুলিশ একটি মিথ্যা মামলায় আটক করে। তাদের আদালতে হাজির না করে টানা দুই রাত ধরে নির্যাতন করা হয়। পরবর্তীতে তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানের নির্দেশে অধস্তন পুলিশ কর্মকর্তারা তাদের পায়ে গুলি করে। এরপর ক্ষতস্থানে বালি ঢুকিয়ে গামছা দিয়ে বেঁধে একটি মিথ্যা অস্ত্র মামলায় তাদের চালান দেওয়া হয়। পরবর্তীতে এই অস্ত্র মামলাটি মিথ্যা প্রমাণিত হয়।
চিফ প্রসিকিউটর আরও জানান, ভুক্তভোগীদের পায়ে বালি ঢুকে যাওয়ায় পচন ধরে এবং পরবর্তীতে তাদের পা কেটে ফেলতে হয়। এই নৃশংস ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে যশোরের তৎকালীন পুলিশ সুপার আনিসুর রহমানসহ আটজনের বিরুদ্ধে অভিযোগ আমলে নিয়েছে ট্রাইব্যুনাল। আসামিদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির পাশাপাশি আগামী ১৬ ফেব্রুয়ারি আদালতে হাজির হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
এই মামলায় বর্তমানে তিনজন আসামি গ্রেপ্তার রয়েছেন। তারা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন এসআই আকিকুল ইসলাম, কনস্টেবল সাজ্জাদুর রহমান এবং কনস্টেবল জহরুল হক। প্রসিকিউশন জানিয়েছে, তারা ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে সরাসরি গুলি চালানোর ঘটনায় জড়িত ছিলেন।
আনিসুর রহমান ছাড়াও এই মামলায় অভিযুক্ত অন্য আসামিরা হলেন চৌগাছা থানার তৎকালীন ওসি মশিউর রহমান, এসআই মোখলেছ, এসআই জামাল এবং এসআই মাজেদুল। এদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধেই গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 

























