ঢাকা ১০:২১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

ন্যায় ও কল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াত অপরিহার্য: এটিএম আজহারুল ইসলাম

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশে ন্যায় ও কল্যাণমূলক সমাজ এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাদের দলের কোনো বিকল্প নেই। একটি মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন। গত ৩১ জানুয়ারি তারাগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভোট চুরির সংস্কৃতি চালু করে গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছে যে, তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিনা অপরাধে তাকে টানা ১৪ বছর কারাবন্দি রাখা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে তিনটি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি আজ মুক্ত হয়ে জনগণের সামনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, তার জীবনে আর কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে তিনি তার বাকি জীবন উৎসর্গ করতে চান। এজন্য তিনি জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

দলের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল ত্রাণের স্লিপ দিয়ে সাময়িক সহানুভূতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের আত্মমর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। জনসভায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা, যুবক, ছাত্র এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

ন্যায় ও কল্যাণমূলক সমাজ প্রতিষ্ঠায় জামায়াত অপরিহার্য: এটিএম আজহারুল ইসলাম

আপডেট সময় : ০৯:১৮:০৭ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেছেন, দেশে ন্যায় ও কল্যাণমূলক সমাজ এবং ইনসাফভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় তাদের দলের কোনো বিকল্প নেই। একটি মানবিক ও দুর্নীতিমুক্ত সমাজ গঠনে ইসলামী আদর্শভিত্তিক রাজনীতির প্রয়োজনীয়তার ওপরও তিনি জোর দেন। গত ৩১ জানুয়ারি তারাগঞ্জ উপজেলার তেঁতুলতলা উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে এক নির্বাচনি জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

আজহারুল ইসলাম তার বক্তব্যে অভিযোগ করেন, দেশের জনগণ দীর্ঘদিন ধরে তাদের সাংবিধানিক ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত। তিনি ক্ষমতাসীন সরকারের বিরুদ্ধে পরিকল্পিতভাবে ভোট চুরির সংস্কৃতি চালু করে গণতন্ত্র ধ্বংসের অভিযোগ তোলেন। তার দাবি, সাধারণ মানুষ ভোটকেন্দ্রে গিয়ে দেখেছে যে, তাদের ভোট আগেই দেওয়া হয়ে গেছে। তিনি আরও উল্লেখ করেন, ২০২৪ সালের জুলাইয়ে ছাত্রসমাজের ঐক্যবদ্ধ আন্দোলনের মুখে সরকার পিছু হটতে বাধ্য হয়েছিল।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে জামায়াতের এই নেতা বলেন, বিনা অপরাধে তাকে টানা ১৪ বছর কারাবন্দি রাখা হয়েছিল এবং তার বিরুদ্ধে তিনটি মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে মহান আল্লাহর অশেষ রহমতে তিনি আজ মুক্ত হয়ে জনগণের সামনে কথা বলার সুযোগ পেয়েছেন।

তিনি বলেন, তার জীবনে আর কোনো ব্যক্তিগত চাওয়া-পাওয়া নেই। দেশের মানুষের কল্যাণ, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ গঠনে তিনি তার বাকি জীবন উৎসর্গ করতে চান। এজন্য তিনি জনগণকে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দিয়ে তাকে সেবা করার সুযোগ দেওয়ার জন্য উদাত্ত আহ্বান জানান।

দলের কর্মপরিকল্পনা তুলে ধরে তিনি বলেন, জামায়াতে ইসলামী কেবল ত্রাণের স্লিপ দিয়ে সাময়িক সহানুভূতির রাজনীতিতে বিশ্বাসী নয়, বরং স্থায়ী কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে মানুষের আত্মমর্যাদাশীল জীবন নিশ্চিত করতে চায়। পাশাপাশি দুর্নীতি, লুটপাট, চাঁদাবাজি ও দুঃশাসনের বিরুদ্ধে সামাজিক প্রতিরোধ গড়ে তুলতে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান।

এটিএম আজহারুল ইসলাম বলেন, এই নির্বাচন কেবল ক্ষমতার লড়াই নয়, এটি ভোটাধিকার পুনরুদ্ধার, ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা এবং একটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার সংগ্রাম। জনসভায় স্থানীয় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃবৃন্দ ছাড়াও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, আলেম-ওলামা, যুবক, ছাত্র এবং বিপুল সংখ্যক সাধারণ ভোটার উপস্থিত ছিলেন।