লক্ষ্মীপুর-৪ আসনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (হাতপাখা) প্রার্থী মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ জামায়াতে ইসলামীর সঙ্গে জোটবদ্ধ হওয়ার সম্ভাবনা এখনো দেখছেন। শনিবার সকালে দলীয় কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি জানান, জামায়াত যদি তাদের শর্ত মেনে চলে, তাহলে ভোটের একদিন আগেও জোট গঠন সম্ভব।
মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ বলেন, “জামায়াতে ইসলামীসহ ইসলামি দলগুলোর বৃহত্তর জোটের সঙ্গে আমাদের প্রধান দাবি ছিল সরকার গঠন করে শরিয়া আইন চালু করা। শুরুতে জামায়াত আমাদের এই দাবির সঙ্গে একমত থাকলেও পরবর্তীতে তারা তাদের অবস্থান থেকে সরে আসে। তখন তারা জানায়, এই মুহূর্তে বাংলাদেশে শরিয়া আইন চালু করার মতো পরিস্থিতি নেই।” তিনি মনে করেন, জামায়াত পশ্চিমাদের প্রভাবে ক্ষমতার লোভে শরিয়া আইন মানতে চাইছে না। এ কারণেই তাদের সঙ্গে ঐকমত্যে পৌঁছানো সম্ভব হয়নি, কারণ ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কোরআন-হাদিসের আলোকে দেশ পরিচালনা করতে চায়, ক্ষমতার রাজনীতি করে না।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, জামায়াতে ইসলামী শরিয়া আইন চালু করবে না এবং হিন্দু সম্প্রদায়ের মানুষকে দলীয় মনোনয়ন দিয়েছে—যখন আমরা এই বিষয়গুলো বুঝতে পারি, তখনই ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাদের সঙ্গে একমত হতে পারেনি।
দুর্নীতি প্রসঙ্গে মাওলানা খালেদ বলেন, বাংলাদেশ দুর্নীতিমুক্ত হতে হলে প্রথমে বড় দুর্নীতিবাজদের শরিয়া আইনে বিচার করতে হবে। এতে ছোট দুর্নীতিবাজরাও ভয়ে দুর্নীতি ছেড়ে দেবে। তিনি দাবি করেন, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশই একমাত্র ইসলামি দল যারা আল্লাহর আইনে শতভাগ বিশ্বাসী। যারা ইসলামী আন্দোলনের সঙ্গে জোট করতে চায়, তাদের অবশ্যই ইসলামি রাষ্ট্র নির্মাণে প্রতিজ্ঞাবদ্ধ হতে হবে। যারা রাষ্ট্রক্ষমতার লোভে আল্লাহর আইন ও শরিয়া মানবে না, তাদের এই মুসলিম রাষ্ট্র মেনে নেবে না।
নিজ দলের কেউ দুর্নীতিতে জড়ালে কী পদক্ষেপ নেওয়া হবে—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে মাওলানা খালেদ সাইফুল্লাহ দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, যেকোনো অনিয়ম বা দুর্নীতিতে নিজ দলের কেউ জড়িত হলেও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ তাকে শরিয়া আইনে বিচার করতে বদ্ধপরিকর।
তিনি জানান, এসব বিষয়ে জাতির সামনে বিস্তারিত তুলে ধরতে রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) উপজেলার হাজিরহাট বালুর মাঠে এক জনসভা অনুষ্ঠিত হবে। ওই জনসভায় প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেবেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় আমির মুফতি সৈয়দ রেজাউল করিম।
মতবিনিময় সভায় অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ কমলনগর শাখার সভাপতি মাওলানা আব্দুর রহমান মাহমুদী, মুফতি শরীফুল ইসলাম, জেলা কার্যনির্বাহী সদস্য ও নির্বাচন পরিচালক মুফতি একেএম আব্দুজ জাহের আরেফী, লক্ষ্মীপুর জেলা ইসলামী যুব আন্দোলনের সাধারণ সম্পাদক মুহাম্মদ শোরাফ উদ্দিন স্বপন এবং মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান।
রিপোর্টারের নাম 
























