ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

১২ ঘণ্টার মধ্যে ফল না এলে কারচুপির আশঙ্কা: মির্জা আব্বাস

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা না হলে অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগে কোনো পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরবে না।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব, বায়রা ও অ্যাটাব—এই তিনটি সংগঠনের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। তাঁর মতে, ঢাকা-৮ আসনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, যার মাধ্যমে সারা দেশের নির্বাচন বানচাল করা যায়। তিনি বলেন, ‘তারা নানাভাবে উসকানি দিচ্ছে, কিন্তু আমি ও আমার নেতাকর্মীরা ধৈর্য ধারণ করছি।’

উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, শুধু সমর্থন দিলেই হবে না, তাঁর সমর্থক ও কর্মীদের সবার কাছে যেতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে অন্তত ১০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বললে তাঁর কাজে লাগবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু তাঁর জয়লাভই বড় কথা নয়, সারা দেশে বিএনপিকে জয়ী হতে হবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা এখন কেমন আছি? হাসিনা চলে যাওয়ার পর যতটুকু ভালো থাকার কথা ছিল, আমরা সেই ভালো নেই। শুধু পুলিশি অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোথাও ভালো নেই, স্বস্তিতে নেই। এটি আমাদের দুর্ভাগ্য।’

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত। এটি কোনো দান নয়, যেমন মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান ছিল না। ১৭ বছর ধরে তাঁরা আন্দোলন করেছেন, অগুনতি শহীদ হয়েছেন, অনেকে গুম হয়েছেন। তাঁদের আন্দোলনের ফলেই দেশের মানুষের পায়ের মাটি শক্ত হয়েছে এবং একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি যখন তরুণ ছিলেন, তখন মঞ্চে ‘বর্ষীয়ান নেতা’ হিসেবে অন্যদের পরিচয় করানো হতো। আজ তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘বর্ষীয়ান নেতা’ বলা হয়। তিনি স্বীকার করেন, অনেকে মনে করে তাঁর বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু তাঁর যে অভিজ্ঞতা, তা অনেকেরই নেই এবং আগামীতে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

কিছু ‘নব্য গজিয়ে ওঠা’ রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন এমন কিছু ছেলেপেলে গজিয়েছে, যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। সারাদিন শুধু আমাকে বকাবাজি করছে। তুমিতো সেদিন চাঁদপুর থেকে এসেছো। আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। এলাকার মানুষ আমাকে চিনে।’ ঢাকা-৮ আসন একটি ব্যবসায়িক এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে স্বার্থের প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছে। তিনি অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে ভোটের অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

মির্জা আব্বাস কষ্টার্জিত ভোটের অধিকার প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একটি দলের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ বোরখা বানানোর অভিযোগ তুলে পুরুষদের নারী সেজে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং কর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।

মতবিনিময় সভা শেষে মির্জা আব্বাস ভাসানী গলি থেকে শুরু করে জোনাকী সিনেমা হলের গলি এবং পল্টন থানার উল্টো পাশের গলিতে গণসংযোগ করেন। বিকেলে তিনি পুরানা পল্টন জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে এর আশপাশে প্রচার চালান। রাতে তিনি সেগুনবাগিচা স্বজন টাওয়ার, নকশী টাওয়ার, ডোম ইনো আলতুরা এবং সিলিকন ভিলা-ইস্টার্ন ড্রিমে পৃথক পৃথক উঠোন বৈঠক করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

১২ ঘণ্টার মধ্যে ফল না এলে কারচুপির আশঙ্কা: মির্জা আব্বাস

আপডেট সময় : ০৬:৪৭:১৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, নির্বাচন শেষ হওয়ার পর ১২ ঘণ্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা না হলে অসৎ উদ্দেশ্য আছে বলে ধরে নেওয়া হবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, নির্বাচনী ফলাফল ঘোষণার আগে কোনো পোলিং এজেন্ট ঘরে ফিরবে না।

শনিবার রাজধানীর নয়াপল্টনের আনন্দ কমিউনিটি সেন্টারে হাব, বায়রা ও অ্যাটাব—এই তিনটি সংগঠনের সঙ্গে এক নির্বাচনী মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন।

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র এখনো থামেনি। তাঁর মতে, ঢাকা-৮ আসনে এমন পরিস্থিতি সৃষ্টির চেষ্টা চলছে, যার মাধ্যমে সারা দেশের নির্বাচন বানচাল করা যায়। তিনি বলেন, ‘তারা নানাভাবে উসকানি দিচ্ছে, কিন্তু আমি ও আমার নেতাকর্মীরা ধৈর্য ধারণ করছি।’

উপস্থিত ব্যবসায়ীদের উদ্দেশে সাবেক এই মন্ত্রী বলেন, শুধু সমর্থন দিলেই হবে না, তাঁর সমর্থক ও কর্মীদের সবার কাছে যেতে হবে। প্রতিটি ওয়ার্ড ও বাজারে অন্তত ১০ জন ভোটারের সঙ্গে কথা বললে তাঁর কাজে লাগবে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, শুধু তাঁর জয়লাভই বড় কথা নয়, সারা দেশে বিএনপিকে জয়ী হতে হবে।

দেশের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে মির্জা আব্বাস বলেন, ‘আমরা এখন কেমন আছি? হাসিনা চলে যাওয়ার পর যতটুকু ভালো থাকার কথা ছিল, আমরা সেই ভালো নেই। শুধু পুলিশি অত্যাচার থেকে মুক্তি পেয়েছি। আর কোথাও ভালো নেই, স্বস্তিতে নেই। এটি আমাদের দুর্ভাগ্য।’

তিনি আরও বলেন, এই নির্বাচন অনেক ত্যাগ-তিতিক্ষার বিনিময়ে অর্জিত। এটি কোনো দান নয়, যেমন মুক্তিযুদ্ধও কোনো দান ছিল না। ১৭ বছর ধরে তাঁরা আন্দোলন করেছেন, অগুনতি শহীদ হয়েছেন, অনেকে গুম হয়েছেন। তাঁদের আন্দোলনের ফলেই দেশের মানুষের পায়ের মাটি শক্ত হয়েছে এবং একটি ভিত্তি তৈরি হয়েছে।

নিজের দীর্ঘ রাজনৈতিক অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে মির্জা আব্বাস বলেন, তিনি যখন তরুণ ছিলেন, তখন মঞ্চে ‘বর্ষীয়ান নেতা’ হিসেবে অন্যদের পরিচয় করানো হতো। আজ তাঁকে উদ্দেশ্য করে ‘বর্ষীয়ান নেতা’ বলা হয়। তিনি স্বীকার করেন, অনেকে মনে করে তাঁর বয়স হয়ে গেছে, কিন্তু তাঁর যে অভিজ্ঞতা, তা অনেকেরই নেই এবং আগামীতে এই অভিজ্ঞতা কাজে লাগানো যেতে পারে।

কিছু ‘নব্য গজিয়ে ওঠা’ রাজনীতিবিদদের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এখন এমন কিছু ছেলেপেলে গজিয়েছে, যারা আঙুল ফুলে কলাগাছ বনে গেছে। সারাদিন শুধু আমাকে বকাবাজি করছে। তুমিতো সেদিন চাঁদপুর থেকে এসেছো। আমার সম্পর্কে কিছুই জানো না। এলাকার মানুষ আমাকে চিনে।’ ঢাকা-৮ আসন একটি ব্যবসায়িক এলাকা উল্লেখ করে তিনি বলেন, এখানকার কোনো ব্যবসায়ী বলতে পারবে না যে স্বার্থের প্রয়োজনে মির্জা আব্বাসকে কেউ এক কাপ চা খাওয়াতে পেরেছে। তিনি অর্বাচীন বালকদের হাত থেকে দেশকে বাঁচাতে ভোটের অধিকার প্রয়োগের আহ্বান জানান।

মির্জা আব্বাস কষ্টার্জিত ভোটের অধিকার প্রয়োগের ওপর গুরুত্বারোপ করেন। তিনি একটি দলের বিরুদ্ধে ৪০ লাখ বোরখা বানানোর অভিযোগ তুলে পুরুষদের নারী সেজে জাল ভোট দেওয়ার চেষ্টার আশঙ্কা প্রকাশ করেন এবং কর্মীদের এ বিষয়ে সজাগ থাকার নির্দেশ দেন।

মতবিনিময় সভা শেষে মির্জা আব্বাস ভাসানী গলি থেকে শুরু করে জোনাকী সিনেমা হলের গলি এবং পল্টন থানার উল্টো পাশের গলিতে গণসংযোগ করেন। বিকেলে তিনি পুরানা পল্টন জামে মসজিদে নামাজ আদায় করে এর আশপাশে প্রচার চালান। রাতে তিনি সেগুনবাগিচা স্বজন টাওয়ার, নকশী টাওয়ার, ডোম ইনো আলতুরা এবং সিলিকন ভিলা-ইস্টার্ন ড্রিমে পৃথক পৃথক উঠোন বৈঠক করেন।