ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না জিতলে দেশবাসী চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে: জেনারেল সারওয়ার্দী

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী না হলে দেশের হাজার হাজার নাগরিক, বিশেষ করে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থার (বাইসস) চেয়ারম্যান বীর বিক্রম লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাইসস ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।

চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, এই গণভোট কেবল একটি ভোট নয়, এটি জনগণের অস্তিত্ব, তাদের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা এবং পরাধীনতা থেকে মুক্তির লড়াই। এই ব্যালটের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ টিকে থাকবে নাকি অন্য কোনো পরিণতির দিকে যাবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সচেতনভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস আমরা জয়ী হব। তবে, কোনো কারণে যদি ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আমরা অতীতে দেখেছি কীভাবে সংবিধান পরিবর্তন করে মানুষকে অন্যায়ভাবে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ‘না’ জয়ী হলে তারা ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ বিচার করবে, আমার, আপনার এবং আমাদের সন্তানেরও বিচার করবে। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে এবং হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হবে।” তিনি দেশবাসীকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে, বাংলাদেশকে বাঁচাতে এবং নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আগামী দিনের বিদেশি শাসন এবং সিকিম হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে, নিজেদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।

বাইসসের চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমরা রাজার হাত থেকে বাঁচতে চাই, রাজার অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই, রাজতন্ত্র থেকে পরিত্রাণ চাই। আমরা গোলামি থেকে স্বাধীনতা চাই। আমরা আমাদের ১৯৭১ সালের প্রতিশ্রুত ক্ষমতা আমাদের কাছে ফিরে পেতে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ‘৭২-এর তথাকথিত সংবিধানের মাধ্যমে জনগণকে পরাধীন করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সরকার এলেও কেউই এই পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য কাজ করেনি। বরং, যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের উন্নয়নTheFund নিজেদের পকেটে ভরেছেন এবং দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এই ধারা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. মো. হেলাল উদ্দিন এবং সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বাইসসের প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্র গোলাম সারওয়ার মিলন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ না জিতলে দেশবাসী চরম ঝুঁকির মুখে পড়বে: জেনারেল সারওয়ার্দী

আপডেট সময় : ০৫:৫৫:২১ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন গণভোটে ‘হ্যাঁ’ জয়ী না হলে দেশের হাজার হাজার নাগরিক, বিশেষ করে ‘জুলাই যোদ্ধা’দের জীবন চরম হুমকির মুখে পড়বে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ ইউনিয়ন সদস্য সংস্থার (বাইসস) চেয়ারম্যান বীর বিক্রম লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) ড. চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী। শনিবার সকালে জাতীয় প্রেস ক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে আয়োজিত এক সেমিনারে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এই উদ্বেগ প্রকাশ করেন। বাইসস ‘গণভোটে হ্যাঁ ভোট দিন’ শীর্ষক এই সেমিনারের আয়োজন করে।

চৌধুরী হাসান সারওয়ার্দী বলেন, এই গণভোট কেবল একটি ভোট নয়, এটি জনগণের অস্তিত্ব, তাদের অধিকার নিয়ে বেঁচে থাকার আকাঙ্ক্ষা এবং পরাধীনতা থেকে মুক্তির লড়াই। এই ব্যালটের রায়ের মাধ্যমেই নির্ধারিত হবে বাংলাদেশ টিকে থাকবে নাকি অন্য কোনো পরিণতির দিকে যাবে। বাংলাদেশের ২০ কোটি মানুষের ভবিষ্যৎ, ভবিষ্যৎ প্রজন্মের আশা-আকাঙ্ক্ষা এবং ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ সম্মান ও মর্যাদা রক্ষার এটি এক গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ।

গণভোটে ‘হ্যাঁ’ পক্ষে স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের সচেতনভাবে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, “আমার বিশ্বাস আমরা জয়ী হব। তবে, কোনো কারণে যদি ‘না’ জয়যুক্ত হয়, তাহলে তার পরিণতি হবে ভয়াবহ। আমরা অতীতে দেখেছি কীভাবে সংবিধান পরিবর্তন করে মানুষকে অন্যায়ভাবে দণ্ড দেওয়া হয়েছে। ‘না’ জয়ী হলে তারা ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ বিচার করবে, আমার, আপনার এবং আমাদের সন্তানেরও বিচার করবে। ফ্যাসিবাদ ফিরে আসবে এবং হাজার হাজার মানুষকে ফাঁসির কাষ্ঠে ঝোলানো হবে।” তিনি দেশবাসীকে এই ভয়াবহ পরিস্থিতি থেকে বাঁচতে, বাংলাদেশকে বাঁচাতে এবং নিজেদের সন্তানদের ভবিষ্যৎ সুরক্ষিত করতে ‘হ্যাঁ’ ভোটে রায় দেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, বাংলাদেশকে আগামী দিনের বিদেশি শাসন এবং সিকিম হয়ে যাওয়ার হাত থেকে রক্ষা করতে হলে, নিজেদের স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে হলে ‘হ্যাঁ’ ভোটের ওপরই নির্ভর করছে সবকিছু।

বাইসসের চেয়ারম্যান আরও বলেন, “আমরা রাজার হাত থেকে বাঁচতে চাই, রাজার অত্যাচার থেকে মুক্তি চাই, রাজতন্ত্র থেকে পরিত্রাণ চাই। আমরা গোলামি থেকে স্বাধীনতা চাই। আমরা আমাদের ১৯৭১ সালের প্রতিশ্রুত ক্ষমতা আমাদের কাছে ফিরে পেতে চাই।” তিনি অভিযোগ করেন যে, স্বাধীনতার ৫৪ বছরে ‘৭২-এর তথাকথিত সংবিধানের মাধ্যমে জনগণকে পরাধীন করে রাখা হয়েছে। বিভিন্ন সরকার এলেও কেউই এই পরাধীনতা থেকে মুক্তির জন্য কাজ করেনি। বরং, যারা ক্ষমতায় এসেছেন, তারা ক্ষমতার অপব্যবহার করে জনগণের উন্নয়নTheFund নিজেদের পকেটে ভরেছেন এবং দেশ-বিদেশে সম্পদ গড়ে তুলেছেন। এই ধারা থেকে মুক্তি পেতে হলে গণভোটে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিয়ে জয়যুক্ত করার আহ্বান জানান তিনি।

সেমিনারে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঢাকা মহানগর দক্ষিণের নায়েবে আমির ড. মো. হেলাল উদ্দিন এবং সাবেক কূটনীতিক সাকিব আলী। শুভেচ্ছা বক্তব্য প্রদান করেন সাবেক শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ও বাইসসের প্রধান সমন্বয়ক ও মুখপাত্র গোলাম সারওয়ার মিলন।