ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

জাতীয় নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা হবে: নাহিদ ইসলাম

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জাতীয় নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রতিবেশী দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জনগণের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। এই নির্বাচন সেইসব বীরদের লড়াইয়ের ফসল, যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছিল। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশটি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই দেশটি মন্তব্য করেছে যে ১১ দলীয় জোট ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারবে না। নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষ নিয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে এবং কারা ক্ষমতায় আসবে, তা কেবল বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।

তিনি আরও বলেন, যদি ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। তাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে জুলাই গণঅভুত্থানে শহীদদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জুলাইয়ের বীরেরা এবং শহীদ ওসমান হাদি। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

জাতীয় নির্বাচনে বিদেশি হস্তক্ষেপ প্রতিহত করা হবে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ০৫:০২:৫৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম বলেছেন, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ও জাতীয় নির্বাচনে পার্শ্ববর্তী কোনো দেশের হস্তক্ষেপের চেষ্টা করা হলে তা কঠোরভাবে প্রতিহত করা হবে। তিনি অভিযোগ করেন, একটি প্রতিবেশী দেশ দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে, বিশেষ করে নির্বাচনী প্রক্রিয়ায় প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করে আসছে।

শনিবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রামে আয়োজিত ১১ দলীয় জোটের নির্বাচনী সমাবেশে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এসব মন্তব্য করেন। নাহিদ ইসলাম জোর দিয়ে বলেন, আসন্ন নির্বাচন কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, বরং এটি জনগণের দীর্ঘদিনের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের একটি ধারাবাহিক প্রচেষ্টা। এই নির্বাচন সেইসব বীরদের লড়াইয়ের ফসল, যারা চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানে নিজেদের রক্ত দিয়ে ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছিল।

তিনি আরও বলেন, গত জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থান ছিল ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের অবসান ঘটানোর লক্ষ্যেই পরিচালিত হয়েছিল। এই নির্বাচনকে কেন্দ্র করে পার্শ্ববর্তী দেশটি বিভিন্ন ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। তিনি উল্লেখ করেন, ওই দেশটি মন্তব্য করেছে যে ১১ দলীয় জোট ভোট চুরি ছাড়া ক্ষমতায় আসতে পারবে না। নাহিদ ইসলাম বলেন, বিগত ১৬ বছর ধরে তারা ফ্যাসিবাদী শক্তির পক্ষ নিয়েছিল।

নাহিদ ইসলাম স্পষ্ট ভাষায় জানিয়ে দেন, বাংলাদেশে কে সরকার গঠন করবে এবং কারা ক্ষমতায় আসবে, তা কেবল বাংলাদেশের জনগণই নির্ধারণ করবে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, কোনো আধিপত্যবাদী শক্তি যদি এই নির্বাচনে হস্তক্ষেপের চেষ্টা করে, তবে দেশের জনগণ তাদের প্রতিহত করবে।

তিনি আরও বলেন, যদি ১১ দলীয় জোট সরকার গঠনে সক্ষম হয়, তবে জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর অসমাপ্ত কাজগুলো সম্পন্ন করা হবে। তাদের সরকারের প্রধান অগ্রাধিকারগুলোর মধ্যে জুলাই গণঅভুত্থানে শহীদদের বিচার নিশ্চিত করা এবং ওসমান হাদীর হত্যাকারীদের দ্রুত বিচার সম্পন্ন করা অন্তর্ভুক্ত থাকবে।

নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমরা এমন একটি বাংলাদেশ গড়তে চাই, যে বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছিলেন জুলাইয়ের বীরেরা এবং শহীদ ওসমান হাদি। আমাদের মূল লক্ষ্য হবে সাম্য, ন্যায়বিচার এবং মানবিক মর্যাদার ভিত্তিতে একটি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা।”