ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

বিএনপিতে জাইমা রহমানের উত্থান: নতুন নেতৃত্বের বার্তা নাকি নির্বাচনী কৌশল?

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, বিএনপি তারুণ্য ও নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে ধীরে ধীরে সামনে আনছে। যদিও তিনি এখনো দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই, দেশে ফেরার পর থেকে তার কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়েছে। সীমিত কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও, তার উপস্থিতি দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে জাইমা রহমানের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তবে, তিনি গত বছরের ২৫শে ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। এর আগে, ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তারেক রহমান সপরিবারে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর থেকে জাইমা রহমান বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, যা গত বছরের ২৪শে নভেম্বর তৈরি হয়েছে, সেখানে তিনি নিজেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে দলে কোনো পদ না থাকলেও, জাইমা রহমান গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসী ভোটারদের নিয়ে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এছাড়াও, তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে যোগ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি, তিনি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন এবং একটি রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সাথে তারেক রহমানের আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন। তার দাদি, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, জাইমা রহমান তার পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই”।

জাইমা রহমানের রাজনৈতিক উত্থানকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি ইঙ্গিত। আবার অনেকে একে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের বিপরীতে বিএনপির নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার প্রয়াসও এর পেছনে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এবারের নির্বাচনী প্রচারে তিনি এখনো মঞ্চে ওঠেননি, তার ক্রমবর্ধমান জনসম্পৃক্ততা বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার একটি ইঙ্গিত বহন করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

বিএনপিতে জাইমা রহমানের উত্থান: নতুন নেতৃত্বের বার্তা নাকি নির্বাচনী কৌশল?

আপডেট সময় : ০৪:৩৯:৪৪ অপরাহ্ন, শনিবার, ৩১ জানুয়ারী ২০২৬

রাজনৈতিক পর্যবেক্ষকদের একাংশের ধারণা, বিএনপি তারুণ্য ও নারী ভোটারদের আকৃষ্ট করতে এবং নেতৃত্বের ধারাবাহিকতা বজায় রাখতে তারেক রহমানের কন্যা জাইমা রহমানকে ধীরে ধীরে সামনে আনছে। যদিও তিনি এখনো দলের কোনো আনুষ্ঠানিক পদে নেই, দেশে ফেরার পর থেকে তার কার্যক্রমকে ঘিরে রাজনৈতিক অঙ্গনে আগ্রহ ও কৌতূহল বেড়েছে। সীমিত কিছু অনুষ্ঠানে অংশ নিলেও, তার উপস্থিতি দলটির ভবিষ্যৎ নেতৃত্ব নিয়ে জল্পনা-কল্পনার জন্ম দিয়েছে।

বাংলাদেশের রাজনীতিতে জিয়া পরিবারের সদস্য হিসেবে জাইমা রহমানের পরিচিতি দীর্ঘদিনের। তবে, তিনি গত বছরের ২৫শে ডিসেম্বর স্ত্রী ও একমাত্র সন্তানকে নিয়ে ১৭ বছর পর লন্ডন থেকে দেশে ফিরেছেন। এর আগে, ২০০৮ সালে সেনা সমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময়ে তারেক রহমান সপরিবারে লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন। দেশে ফেরার পর থেকে জাইমা রহমান বিভিন্ন সামাজিক ও রাজনৈতিক অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করছেন। তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজ, যা গত বছরের ২৪শে নভেম্বর তৈরি হয়েছে, সেখানে তিনি নিজেকে ‘ব্যারিস্টার-অ্যাট-ল, কমিউনিকেশনস স্ট্রাটেজিস্ট এবং কর্পোরেট ল’ইয়ার’ হিসেবে পরিচয় দিচ্ছেন।

আনুষ্ঠানিকভাবে দলে কোনো পদ না থাকলেও, জাইমা রহমান গত বছরের নভেম্বরে প্রবাসী ভোটারদের নিয়ে আয়োজিত একটি ভার্চুয়াল সভায় অংশ নিয়ে আলোচনায় আসেন। এছাড়াও, তিনি তারেক রহমানের প্রতিনিধি হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডিসিতে ন্যাশনাল প্রেয়ার ব্রেকফাস্টে যোগ দিয়েছিলেন। সম্প্রতি, তিনি একটি অনুষ্ঠানে বক্তব্য রেখেছেন এবং একটি রিল-মেকিং প্রতিযোগিতার বিজয়ীদের সাথে তারেক রহমানের আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন। তার দাদি, প্রয়াত প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার মৃত্যুর পর, জাইমা রহমান তার পারিবারিক দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি রাজনৈতিকভাবেও সক্রিয় হওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন। তিনি বলেছেন, “দেশে ফিরে ইনশাআল্লাহ, আমি ‘দাদু’র পাশে থাকতে চাই। এই সময়টাতে আব্বুকে সর্বাত্মক সহায়তা করতে চাই। একজন দায়িত্বশীল নাগরিক হিসেবে দেশের জন্য সর্বস্ব দিয়ে সর্বোচ্চ ভূমিকা রাখতে চাই”।

জাইমা রহমানের রাজনৈতিক উত্থানকে বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা হচ্ছে। কেউ কেউ মনে করছেন, এটি বিএনপির ভবিষ্যৎ নেতৃত্বের একটি ইঙ্গিত। আবার অনেকে একে আসন্ন সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে তরুণ ও নারী ভোটারদের সমর্থন আদায়ের একটি কৌশল হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে, ২০২৪ সালের গণ-অভ্যুত্থানে তরুণ প্রজন্মের অংশগ্রহণ এবং নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামীর মতো দলের বিপরীতে বিএনপির নারী নেতৃত্বকে শক্তিশালী করার প্রয়াসও এর পেছনে কাজ করতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। যদিও এবারের নির্বাচনী প্রচারে তিনি এখনো মঞ্চে ওঠেননি, তার ক্রমবর্ধমান জনসম্পৃক্ততা বিএনপির ভবিষ্যৎ রাজনৈতিক কর্মকাণ্ডে তার ভূমিকার একটি ইঙ্গিত বহন করছে।