আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে রংপুরের পীরগাছা উপজেলায় ভোটের পছন্দ প্রকাশ করায় এক ব্যক্তিকে মারধর ও প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দেওয়ার কথা জানালে ইদ্রিস আলী নামের ওই ব্যক্তিকে লাঞ্ছিত করা হয়। এ ঘটনায় পীরগাছা উপজেলা যুবদলের এক নেতাকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ এবং আদালত তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
মামলা ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (তারিখ উল্লেখ নেই, তাই ‘গত বৃহস্পতিবার’ বা ‘সম্প্রতি’ ব্যবহার করা যেতে পারে। মূল লেখায় ‘বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে’ আছে, তাই ‘গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে’ ব্যবহার ভালো।) গত বৃহস্পতিবার সকাল ৯টার দিকে পীরগাছা উপজেলার অন্নদানগর ইউনিয়নের জগজীবন এলাকার বাসিন্দা ইদ্রিস আলীর (মৃত মজিব উদ্দিনের ছেলে) বাড়ির উঠানে কয়েকজন রাজনৈতিক কর্মী তার ভোটের সিদ্ধান্ত জানতে চান। ইদ্রিস আলী জানান যে তিনি শাপলা কলি প্রতীকে ভোট দিতে ইচ্ছুক। জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্য সচিব আখতার হোসেন এই প্রতীক নিয়ে রংপুর-৪ (কাউনিয়া–পীরগাছা) আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন বলে জানা গেছে।
ইদ্রিস আলীর এই কথা শুনে অভিযুক্তরা ক্ষিপ্ত হয়ে ওঠেন এবং তাকে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। একপর্যায়ে তারা ইদ্রিস আলীকে এলোপাতাড়ি মারধর করে গুরুতর আহত করেন। একই সাথে তাকে হুমকি দিয়ে বলা হয় যে, এলাকায় বসবাস করতে হলে বিএনপির পক্ষে ভোট দিতে হবে।
ইদ্রিস আলীর চিৎকারে স্থানীয় বাসিন্দারা এগিয়ে এলে অভিযুক্তরা দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করে। পরে আহত ইদ্রিস আলীকে উদ্ধার করে পীরগাছা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ভর্তি করা হয়। এ ঘটনায় ইদ্রিস আলী চারজনের নাম উল্লেখ করে পীরগাছা থানায় একটি মামলা দায়ের করেন।
মামলা দায়েরের পর পুলিশ অভিযান চালিয়ে অন্নদানগর ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ড যুবদলের সাংগঠনিক সম্পাদক মজনু মিয়াকে গ্রেপ্তার করে। শুক্রবার দুপুরে তাকে আদালতে হাজির করা হলে বিচারক তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে জেল হাজতে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
ভুক্তভোগী ইদ্রিস আলী সাংবাদিকদের বলেন, “আমি কেবল আমার গণতান্ত্রিক ভোটাধিকার প্রয়োগের কথা জানিয়েছিলাম। এর জন্যই আমাকে এমনভাবে মারধর করা হলো। আমি এখনো নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।”
এ ধরনের ঘটনায় স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে। তারা জানান, নির্বাচনের আগে এমন সহিংসতা সাধারণ ভোটারদের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াচ্ছে, যা একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠানের পথে বাধা সৃষ্টি করতে পারে। তারা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে প্রশাসনের কঠোর ও নিরপেক্ষ ভূমিকা পালনের দাবি জানিয়েছেন।
এ বিষয়ে পীরগাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এ কে এম খন্দকার মহিব্বুল ইসলাম জানান, ইদ্রিস আলীর অভিযোগের ভিত্তিতে মামলা গ্রহণ করা হয়েছে এবং একজনকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়েছে। আদালত তার জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।
রিপোর্টারের নাম 

























