ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে: রিজভী; সাইবার হয়রানির শিকারদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্নতার শিকার হবেন। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়) রাজধানীর গুলশানে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হয়রানির শিকার একাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন, যারা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

রিজভী জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা নারীদের পরিপূর্ণ বিকাশ চাননি। তারা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিক— এটা আপনারা চান না। তারা একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক— এটাও আপনারা চান না। অথচ নারীদের দিয়েই আপনারা ভোট চাইছেন এবং তাদের কাছ থেকেই ভোট প্রার্থনা করছেন। আপনাদের মধ্যেই মৌলিক গলদ রয়েছে। আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন, তাহলে এ দেশে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা।”

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি চিঠির বিষয়ে মন্তব্য করেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, পাহাড়ের গুহা থেকে সাধারণত দস্যুরা অথবা জঙ্গিরা এ ধরনের চিঠি পাঠায়।” তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে বিরোধী মতের নারীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং চালানো হচ্ছে। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে নারীদের অশ্লীল গালিগালাজ করা হচ্ছে। তাদের ‘বট বাহিনী’ ও ‘মব বাহিনী’ মিলে সমাজকে এক ভয়ঙ্কর অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রিজভী আরও বলেন, ভোট পাওয়ার জন্য জামায়াত নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং তাদের একেকজনের মুখ থেকে একেক ধরনের কথা বেরিয়ে আসছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য তারা অত্যন্ত বাজে ও ইতর শ্রেণির শব্দ ব্যবহার করছে।

হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম বলেন, “কয়েকজন লোক এসে বাসার দারোয়ানের কাছে চিঠি দিয়ে গেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আমার মতো নারী, যারা আমার আশেপাশে বসে আছেন অথবা গার্মেন্টসে যে মেয়েটি কাজ করেন— তাদেরকে থামিয়ে রাখা সম্ভব না।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা যে নারী-বিরোধী, তা আমি বলব না। তারা সেই নারীদের বিরোধী, যারা একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। তারা নারীকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার জন্য, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার জন্য।”

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫ মাস কারাবন্দী থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন আরেকটি রাজনৈতিক দলের শত্রু হয়ে গিয়েছেন। জামায়াতের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তাদের কাছে একমাত্র তাদের দলের নারীরাই সেরা, পর্দাশীল, যোগ্য ও চরিত্রসম্পন্ন। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শী নারীরা তাদের কাছে চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিদ্বেষী।”

কুবরা আরও বলেন, জামায়াতের একটি ‘স্পেশাল ফোর্স’ বা ‘বট বাহিনী’ রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিরোধী দলের সেই সব নারী, যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলে। তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, ইনবক্সে হুমকি পাঠায়, অনলাইনে সাইবার বুলিং করে। চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিরোধী ট্যাগ দেয়— যাতে নারীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় এবং ভয় পেয়ে ঘরে বসে পড়ে। এই কাজগুলো তারা নারীদের মানসিকভাবে অসহায় ও হেনস্তা করার জন্য করে থাকে।

কুবরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “তাদের কাছে একমাত্র জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার নারীরাই ‘সেফ’ এবং পর্দাশীল। অন্য দলের নারীরা তাদের কাছে কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।” নিজের সংগ্রাম তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন আপনারা কথা বলতে পারেননি, তখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে আমি ১৫ মাস জেল খেটেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আপনারা বাকস্বাধীনতা হারিয়েছিলেন। এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি। অবশেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে সফল হয়েছি। আর তার ফলস্বরূপ এখন পাচ্ছি সাইবার বুলিং— যা ইচ্ছা তাই।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

জামায়াত ক্ষমতায় এলে নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে: রিজভী; সাইবার হয়রানির শিকারদের উপস্থিতিতে সংবাদ সম্মেলন

আপডেট সময় : ০২:৫৭:৫২ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী মন্তব্য করেছেন যে, জামায়াতে ইসলামী যদি রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসে, তবে দেশের নারীরাই সবচেয়ে বেশি বিপন্নতার শিকার হবেন। শুক্রবার (তারিখ উল্লেখ না থাকায়) রাজধানীর গুলশানে দলের কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। এ সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সাইবার হয়রানির শিকার একাধিক নারী উপস্থিত ছিলেন, যারা তাদের তিক্ত অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন।

রিজভী জামায়াতকে উদ্দেশ্য করে বলেন, “আপনারা নারীদের পরিপূর্ণ বিকাশ চাননি। তারা একটি রাজনৈতিক দলের নেতৃত্ব দিক— এটা আপনারা চান না। তারা একটি রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিক— এটাও আপনারা চান না। অথচ নারীদের দিয়েই আপনারা ভোট চাইছেন এবং তাদের কাছ থেকেই ভোট প্রার্থনা করছেন। আপনাদের মধ্যেই মৌলিক গলদ রয়েছে। আপনারা যদি ক্ষমতায় আসেন, তাহলে এ দেশে সবচেয়ে বেশি বিপন্ন হবে নারীরা।”

সংবাদ সম্মেলনে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক নাহরিন ইসলামের বাসায় হুমকি দিয়ে চিঠি পাঠানোর ঘটনা তুলে ধরেন রিজভী। তিনি চিঠির বিষয়ে মন্তব্য করেন, “আমার কাছে মনে হয়েছে, পাহাড়ের গুহা থেকে সাধারণত দস্যুরা অথবা জঙ্গিরা এ ধরনের চিঠি পাঠায়।” তিনি অভিযোগ করেন, সারাদেশে বিরোধী মতের নারীদের লক্ষ্য করে সাইবার বুলিং চালানো হচ্ছে। ধর্মের নাম ভাঙিয়ে রাজনীতি করতে গিয়ে নারীদের অশ্লীল গালিগালাজ করা হচ্ছে। তাদের ‘বট বাহিনী’ ও ‘মব বাহিনী’ মিলে সমাজকে এক ভয়ঙ্কর অধঃপতনের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

রিজভী আরও বলেন, ভোট পাওয়ার জন্য জামায়াত নানা ধরনের বিভ্রান্তি তৈরি করছে এবং তাদের একেকজনের মুখ থেকে একেক ধরনের কথা বেরিয়ে আসছে। প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার জন্য তারা অত্যন্ত বাজে ও ইতর শ্রেণির শব্দ ব্যবহার করছে।

হুমকি দিয়ে পাঠানো চিঠির বিষয়ে থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করা হয়েছে জানিয়ে অধ্যাপক নাহরিন ইসলাম বলেন, “কয়েকজন লোক এসে বাসার দারোয়ানের কাছে চিঠি দিয়ে গেছে। আমি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি।” তবে তিনি দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “আমি বিশ্বাস করি, চিঠি পাঠিয়ে হুমকি দিয়ে আমার মতো নারী, যারা আমার আশেপাশে বসে আছেন অথবা গার্মেন্টসে যে মেয়েটি কাজ করেন— তাদেরকে থামিয়ে রাখা সম্ভব না।” তিনি আরও যোগ করেন, “তারা যে নারী-বিরোধী, তা আমি বলব না। তারা সেই নারীদের বিরোধী, যারা একটি ন্যারেটিভ তৈরি করতে পারে। তারা নারীকে ব্যবহার করে ভোট চাওয়ার জন্য, জান্নাতের টিকিট বিক্রি করার জন্য।”

আওয়ামী লীগের শাসনামলে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে ১৫ মাস কারাবন্দী থাকা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী খাদিজাতুল কুবরা তার অভিজ্ঞতা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, নির্দিষ্ট একটি রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার পর তিনি ভিন্ন আরেকটি রাজনৈতিক দলের শত্রু হয়ে গিয়েছেন। জামায়াতের ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, “তাদের কাছে একমাত্র তাদের দলের নারীরাই সেরা, পর্দাশীল, যোগ্য ও চরিত্রসম্পন্ন। কিন্তু ভিন্ন রাজনৈতিক মতাদর্শী নারীরা তাদের কাছে চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিদ্বেষী।”

কুবরা আরও বলেন, জামায়াতের একটি ‘স্পেশাল ফোর্স’ বা ‘বট বাহিনী’ রয়েছে, যারা নির্দিষ্ট রাজনৈতিক গোষ্ঠীর এজেন্ডা নিয়ে কাজ করে। তাদের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে বিরোধী দলের সেই সব নারী, যারা নারীর অধিকার নিয়ে কথা বলে। তারা প্রকাশ্যে হুমকি দেয়, ইনবক্সে হুমকি পাঠায়, অনলাইনে সাইবার বুলিং করে। চরিত্রহীন, অযোগ্য এবং ইসলামবিরোধী ট্যাগ দেয়— যাতে নারীরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয় এবং ভয় পেয়ে ঘরে বসে পড়ে। এই কাজগুলো তারা নারীদের মানসিকভাবে অসহায় ও হেনস্তা করার জন্য করে থাকে।

কুবরা দৃঢ়তার সঙ্গে বলেন, “তাদের কাছে একমাত্র জামায়াতের ছাত্রী সংস্থার নারীরাই ‘সেফ’ এবং পর্দাশীল। অন্য দলের নারীরা তাদের কাছে কোনোভাবেই নিরাপদ নয়।” নিজের সংগ্রাম তুলে ধরে তিনি বলেন, “যখন আপনারা কথা বলতে পারেননি, তখন শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে কথা বলে আমি ১৫ মাস জেল খেটেছি। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনের কারণে আপনারা বাকস্বাধীনতা হারিয়েছিলেন। এই আইনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছি, জেল খেটেছি। অবশেষে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন বাতিলে সফল হয়েছি। আর তার ফলস্বরূপ এখন পাচ্ছি সাইবার বুলিং— যা ইচ্ছা তাই।”