ঢাকা ০৫:৪৩ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মহিমান্বিত রজনী শবেবরাত: আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১২ বার পড়া হয়েছে

পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় একটি রাত। ইসলামি পরিভাষায় এটি কেবল হালুয়া-রুটি কিংবা উৎসবের রাত নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের এক অনন্য সুযোগ। এই মহিমান্বিত রজনীকে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করার জন্য মুমিন মুসলমানদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শবেবরাতের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধি। এ রাতে করণীয় কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ‘কিয়ামুল লাইল’ বা গভীর রাতে নফল নামাজ আদায় করা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং তওবা-ইস্তেগফার করা। এছাড়া নিজের জন্য, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং দেশ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা বাঞ্ছনীয়। সম্ভব হলে মৃত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করাও এই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ইবাদতের সময় বিগলিত চিত্তে ক্রন্দন করো; যদি কান্না না-ও আসে, তবে অন্তত কান্নার ভান করো। কেননা আল্লাহর কাছে বান্দার চোখের পানির গুরুত্ব অপরিসীম।

অন্যদিকে, এই পবিত্র রাতের গাম্ভীর্য নষ্ট হয় এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। বর্তমানে শবেবরাতকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে অযথা ঘোরাফেরা, আতশবাজি বা পটকা ফোটানো এবং হইহুল্লোড় করতে দেখা যায়, যা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। এছাড়া দলবেঁধে গাড়ি ভাড়া করে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাওয়া কিংবা লৌকিকতার উদ্দেশ্যে ইবাদত করাও অনুচিত। বিশেষ করে অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস বা কেবল হালুয়া-রুটি নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠা এই রাতের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। মনে রাখতে হবে, আমাদের কোনো আচরণের কারণে যেন অন্য কারও ইবাদত বা ঘুমের বিঘ্ন না ঘটে।

মানুষের জীবনে ভুল বা গুনাহ হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে সেই ভুলের ওপর অটল থাকা বিপজ্জনক। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বারবার বান্দাকে তওবা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সূরা তাহরিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো। আশা করা যায় তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের জান্নাতে দাখিল করবেন।’ একইভাবে সূরা জুমারে আল্লাহ আশ্বস্ত করেছেন যে, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তারা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়, কারণ তিনি পরম দয়ালু এবং ক্ষমাশীল।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, গুনাহ করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হলেও তা থেকে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। মৃত্যুর আগমুহূর্তে যদি কেউ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে মহান আল্লাহ তার সারা জীবনের গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। তাই এই মহিমান্বিত রজনীকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার আগেই নিজেকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে ইবাদতের মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। নতুনভাবে জীবন গড়ার প্রত্যয়ে এবং মহান রবের ক্ষমা লাভের আশায় নিবিষ্টচিত্তে ইবাদতে মশগুল হওয়াই হোক এই রাতের মূল লক্ষ্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজনগরে ক্রিকেট খেলা নিয়ে বিরোধ: ছুরিকাঘাতে হিফজ বিভাগের ছাত্র নিহত

মহিমান্বিত রজনী শবেবরাত: আত্মশুদ্ধির মাধ্যমে মহান আল্লাহর নৈকট্য লাভের আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:০৯:৫০ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

পবিত্র শবেবরাত বা লাইলাতুল বরাত মুসলিম উম্মাহর কাছে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ ও বরকতময় একটি রাত। ইসলামি পরিভাষায় এটি কেবল হালুয়া-রুটি কিংবা উৎসবের রাত নয়, বরং মহান আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জন এবং পরকালীন পাথেয় সংগ্রহের এক অনন্য সুযোগ। এই মহিমান্বিত রজনীকে যথাযথ মর্যাদা ও ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে পালন করার জন্য মুমিন মুসলমানদের প্রতি বিশেষ গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।

শবেবরাতের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত ইবাদত-বন্দেগি ও আত্মশুদ্ধি। এ রাতে করণীয় কাজগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো— ‘কিয়ামুল লাইল’ বা গভীর রাতে নফল নামাজ আদায় করা, পবিত্র কোরআন তিলাওয়াত, জিকির-আজকার এবং তওবা-ইস্তেগফার করা। এছাড়া নিজের জন্য, বাবা-মা ও আত্মীয়-স্বজনের জন্য এবং দেশ ও মুসলিম উম্মাহর কল্যাণ কামনায় মহান আল্লাহর দরবারে দোয়া করা বাঞ্ছনীয়। সম্ভব হলে মৃত ব্যক্তিদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় কবর জিয়ারত করাও এই রাতের একটি গুরুত্বপূর্ণ আমল। রাসুলুল্লাহ (সা.) ইরশাদ করেছেন, ইবাদতের সময় বিগলিত চিত্তে ক্রন্দন করো; যদি কান্না না-ও আসে, তবে অন্তত কান্নার ভান করো। কেননা আল্লাহর কাছে বান্দার চোখের পানির গুরুত্ব অপরিসীম।

অন্যদিকে, এই পবিত্র রাতের গাম্ভীর্য নষ্ট হয় এমন সব কাজ থেকে বিরত থাকা জরুরি। বর্তমানে শবেবরাতকে কেন্দ্র করে অনেক ক্ষেত্রে অযথা ঘোরাফেরা, আতশবাজি বা পটকা ফোটানো এবং হইহুল্লোড় করতে দেখা যায়, যা সম্পূর্ণ বর্জনীয়। এছাড়া দলবেঁধে গাড়ি ভাড়া করে এক মসজিদ থেকে অন্য মসজিদে যাওয়া কিংবা লৌকিকতার উদ্দেশ্যে ইবাদত করাও অনুচিত। বিশেষ করে অতিরিক্ত খাদ্যাভ্যাস বা কেবল হালুয়া-রুটি নিয়ে উৎসবে মেতে ওঠা এই রাতের মূল উদ্দেশ্যকে ব্যাহত করে। মনে রাখতে হবে, আমাদের কোনো আচরণের কারণে যেন অন্য কারও ইবাদত বা ঘুমের বিঘ্ন না ঘটে।

মানুষের জীবনে ভুল বা গুনাহ হওয়া অস্বাভাবিক নয়, তবে সেই ভুলের ওপর অটল থাকা বিপজ্জনক। আল্লাহ তাআলা পবিত্র কোরআনে বারবার বান্দাকে তওবা করার আহ্বান জানিয়েছেন। সূরা তাহরিমে ইরশাদ হয়েছে, ‘হে মুমিনগণ! তোমরা আল্লাহর কাছে খাঁটি তওবা করো। আশা করা যায় তোমাদের পালনকর্তা তোমাদের পাপসমূহ মোচন করবেন এবং তোমাদের জান্নাতে দাখিল করবেন।’ একইভাবে সূরা জুমারে আল্লাহ আশ্বস্ত করেছেন যে, যারা নিজেদের ওপর জুলুম করেছে তারা যেন আল্লাহর রহমত থেকে নিরাশ না হয়, কারণ তিনি পরম দয়ালু এবং ক্ষমাশীল।

ইসলামি চিন্তাবিদদের মতে, গুনাহ করা মানুষের স্বভাবজাত প্রবৃত্তি হলেও তা থেকে ফিরে আসাই হলো প্রকৃত মুমিনের পরিচয়। মৃত্যুর আগমুহূর্তে যদি কেউ আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করে, তবে মহান আল্লাহ তার সারা জীবনের গুনাহ মাফ করে দিতে পারেন। তাই এই মহিমান্বিত রজনীকে কেন্দ্র করে সন্ধ্যার আগেই নিজেকে পবিত্র ও পরিচ্ছন্ন করে ইবাদতের মানসিক প্রস্তুতি নেওয়া প্রয়োজন। নতুনভাবে জীবন গড়ার প্রত্যয়ে এবং মহান রবের ক্ষমা লাভের আশায় নিবিষ্টচিত্তে ইবাদতে মশগুল হওয়াই হোক এই রাতের মূল লক্ষ্য।