ঢাকা ০৩:৩৫ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচার: ভাণ্ডারিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় শত কোটি টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা দুদকের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

মামলার এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম তার মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান—ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে নামে জমি, ফ্ল্যাট, দোকান এবং ৯টি বিলাসবহুল গাড়িসহ মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৯ টাকা। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার আয়ের বৈধ উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ ৫ হাজার টাকা। ফলে আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে ভোগদখল করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তিনি তার মালিকানাধীন ‘মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অর্জিত এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি মানি লন্ডারিং করেছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা সন্দেহজনকভাবে লেনদেন করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাটি করা হয়।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এলজিইডির বিভিন্ন টেন্ডারে অংশ নিয়ে কোনো কাজ সম্পাদন না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতির ঘটনায় পিরোজপুর জেলা দুদকের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ইতোমধ্যেই আরও আটটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

স্মার্ট নজরদারিতে শরীয়তপুর: ১২০টি এআই ক্যামেরার আওতায় পুরো শহর

শত কোটি টাকার অবৈধ সম্পদ ও অর্থ পাচার: ভাণ্ডারিয়ার সাবেক চেয়ারম্যান দম্পতির বিরুদ্ধে দুদকের মামলা

আপডেট সময় : ০৬:২৪:৪৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৩০ জানুয়ারী ২০২৬

পিরোজপুরের ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম ও তার স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধে জ্ঞাত আয়বহির্ভূত বিপুল সম্পদ অর্জন এবং মানি লন্ডারিংয়ের অভিযোগে পৃথক দুটি মামলা দায়ের করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ক্ষমতার অপব্যবহার করে প্রায় শত কোটি টাকার অসংগতিপূর্ণ সম্পদ অর্জন এবং সরকারি অর্থ আত্মসাতের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় এই আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।

গত বৃহস্পতিবার দুদকের পিরোজপুর সমন্বিত জেলা কার্যালয়ে সংস্থাটির সহকারী পরিচালক মোহাম্মদ মনিরুল ইসলাম বাদী হয়ে মামলাগুলো দায়ের করেন। বর্তমানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন জেলা দুদকের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম।

মামলার এজাহার ও তদন্ত সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ভাণ্ডারিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান মিরাজুল ইসলাম তার মালিকানাধীন বিভিন্ন ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠান—ইফতি ইটিসিএল (প্রা.) লিমিটেড, ইফতি এন্টারপ্রাইজ ও সাউথ বাংলা ট্রেড ইন্টারন্যাশনালের নামে নামে জমি, ফ্ল্যাট, দোকান এবং ৯টি বিলাসবহুল গাড়িসহ মোট ৮৭ কোটি ৩৪ লাখ ৪৯ হাজার টাকার স্থাবর-অস্থাবর সম্পদ গড়ে তুলেছেন। পারিবারিক ব্যয়সহ তার মোট অর্জিত সম্পদের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ১১৬ কোটি ৮৩ লাখ ৯২ হাজার ৪৫৯ টাকা। তবে দুদকের অনুসন্ধানে তার আয়ের বৈধ উৎস পাওয়া গেছে মাত্র ১৭ কোটি ৭১ লাখ ৫ হাজার টাকা। ফলে আয়ের সাথে অসংগতিপূর্ণ প্রায় ৯৯ কোটি ১২ লাখ ৮৭ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের তথ্য গোপন ও অবৈধভাবে ভোগদখল করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।

অন্যদিকে, মিরাজুল ইসলামের স্ত্রী শামীমা আক্তারের বিরুদ্ধেও দুর্নীতির গুরুতর অভিযোগ আনা হয়েছে। এজাহারে উল্লেখ করা হয়, তিনি তার মালিকানাধীন ‘মেসার্স শিমু এন্টারপ্রাইজ’-এর মাধ্যমে ২৪ কোটি ৪৫ লাখ ৫৩ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদ অর্জন করেছেন। এছাড়া স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) তালিকাভুক্ত ঠিকাদার হিসেবে বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্পের কাজ না করেই সরকারি অর্থ আত্মসাৎ করার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। অর্জিত এই অর্থ বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে স্থানান্তর ও হস্তান্তরের মাধ্যমে তিনি মানি লন্ডারিং করেছেন বলে দুদকের তদন্তে উঠে এসেছে। বিশেষ করে ব্র্যাক ব্যাংকের একটি হিসাব থেকে ১২২ কোটি ৩৯ লাখ ৯৯ হাজার টাকা সন্দেহজনকভাবে লেনদেন করার অপরাধে তার বিরুদ্ধে পৃথক মামলাটি করা হয়।

দুদক সূত্রে আরও জানা গেছে, সংশ্লিষ্ট ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মাধ্যমে এলজিইডির বিভিন্ন টেন্ডারে অংশ নিয়ে কোনো কাজ সম্পাদন না করেই প্রায় এক হাজার কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ রয়েছে এই দম্পতির বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতির ঘটনায় পিরোজপুর জেলা দুদকের উপ-পরিচালক আমিনুল ইসলাম বাদী হয়ে ইতোমধ্যেই আরও আটটি মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।