ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা মির্জা আব্বাসের: ভোটদানের অধিকার রক্ষায় সজাগ থাকার আহ্বান

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, এমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। দেশের মানুষ বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট অডিটোরিয়ামে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখার সময় মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন। এরপর তিনি কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড এবং পিজি হাসপাতালের আশপাশে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। রাতে নয়াপল্টনের গাজী ভবন এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং এর আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করার কথা রয়েছে তার।

নির্বাচনী সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ডাক্তার, নার্স, রাজনীতিবিদ, কুলি-মজুর নির্বিশেষে সবার ভোট দেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান, “দয়া করে ভোট দিতে যাবেন, এই অধিকারটা প্রয়োগ করবেন।”

নিজের ২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করছি এবারও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পনা হতে পারে।” তিনি সম্ভাব্য কারচুপির লক্ষণ হিসেবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টিকে তুলে ধরেন। তার ভাষায়, আগে ভোট শেষে পোলিং এজেন্টরা সন্ধ্যার মধ্যেই ফলাফল নিয়ে ফিরত, অথচ এখন বলা হচ্ছে ফল পেতে দুই-তিন দিনও লাগতে পারে। এটিকে তিনি “কারচুপির সম্ভাব্য লক্ষণ” হিসেবে উল্লেখ করে দৃঢ়ভাবে বলেন, “এটা আমরা কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেব না।”

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা এখনো আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন না হোক, অথবা নির্বাচন হলেও যেন বিএনপি জয়ী হতে না পারে। তিনি আরও বলেন, একদল লোক দেশের বাইরে থেকে নিজেদের দেশপ্রেমিক দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেন। তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “দেশের জন্য যদি এতই প্রেম থাকে, তাহলে দেশে আসেন না কেন? দেশে এসে নির্বাচন করেন, জনগণের সঙ্গে কাজ করেন।” অথচ তারা বিদেশে বসে বিএনপিকে কীভাবে ক্ষতি করা যায়, কীভাবে বদনাম ও অপবাদ দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কিছু লোকের সমালোচনা করে আব্বাস বলেন, কিছু ব্যক্তি সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা সারাদিন মির্জা আব্বাস কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। তাদের মুখে মিথ্যা কথার তুবড়ি ছুটতেই থাকে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “তারা নাকি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে। তাহলে কি ভবিষ্যতে আমরা আমাদের সন্তানদের আর মাদ্রাসায় পাঠাতে পারব না? মাদ্রাসায় গিয়ে কি মানুষ মিথ্যা বলা শেখে? মাদ্রাসায় মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সত্য শিক্ষা পায়। সেখানে গীবত কী, মিথ্যা কী এসব শেখানো হয় এবং গীবত ও মিথ্যা বলা নিষেধ করা হয়। অথচ এরা মাদ্রাসায় পড়ে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা মিথ্যা কথাই বলে যাচ্ছে।”

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন করেন, ভোট চান। কিন্তু ভোট চাইতে হলে বলুন, আপনি কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কী করবেন। আপনি কোথা থেকে এসেছেন, সেটা আমার দেখার বিষয় না। কথা হলো, আপনি নিজের কাজের কথা বলে মানুষের ভোট চান। অন্যের গীবত করে, অপবাদ দিয়ে সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

বিএনপির এই নেতা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমি অন্তত পাঁচবার নির্বাচন করেছি, আপনারা দেখেছেন। এখানে যারা পুরোনো লোক আছেন, আপনারা কি কখনো শুনেছেন যে আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলেছি? আমি সবসময় আমার কথাই বলেছি, আমি কী করব, সেটাই বলেছি।” নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোট চাইতে হলে নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে হবে, অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে নয়।

মির্জা আব্বাস তার নির্বাচনী এলাকায় নিজের উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ দেন। তিনি ঢাকায় দুটি হাসপাতাল—মুগদা মেডিকেল হাসপাতাল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকায় চাকরির ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার কথাও জানান। তার লিফলেটে এসব কাজের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার আদায়ের জন্য তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, সেটাই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। মানুষ তাকে ভোট দিক বা না দিক, ভোট দিতে পারাটাই তার শান্তি। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কেউ একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগও প্রমাণ করতে পারবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

নির্বাচনে কারচুপির আশঙ্কা মির্জা আব্বাসের: ভোটদানের অধিকার রক্ষায় সজাগ থাকার আহ্বান

আপডেট সময় : ১১:১৩:৪৬ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা-৮ আসনে বিএনপি মনোনীত প্রার্থী ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস আসন্ন জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির পরিকল্পনার আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন। তিনি দ্ব্যর্থহীন কণ্ঠে জানিয়েছেন, এমন কোনো পরিস্থিতি মেনে নেওয়া হবে না। দেশের মানুষ বহু ত্যাগ ও সংগ্রামের মধ্য দিয়ে ভোটাধিকার অর্জন করেছে উল্লেখ করে তিনি সবাইকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে নিজেদের পছন্দমতো প্রার্থীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

বৃহস্পতিবার রাজধানীর শাহবাগের আজিজ সুপার মার্কেট অডিটোরিয়ামে এক নির্বাচনী সভায় বক্তব্য রাখার সময় মির্জা আব্বাস এসব কথা বলেন। এরপর তিনি কাটাবন, এলিফ্যান্ট রোড এবং পিজি হাসপাতালের আশপাশে ধানের শীষের পক্ষে গণসংযোগ করেন। রাতে নয়াপল্টনের গাজী ভবন এলাকায় ব্যবসায়ীদের সঙ্গে মতবিনিময় এবং এর আশপাশের এলাকায় গণসংযোগ করার কথা রয়েছে তার।

নির্বাচনী সভায় মির্জা আব্বাস বলেন, ডাক্তার, নার্স, রাজনীতিবিদ, কুলি-মজুর নির্বিশেষে সবার ভোট দেওয়ার অধিকার ও দায়িত্ব রয়েছে। তিনি ভোটারদের প্রতি অনুরোধ জানান, “দয়া করে ভোট দিতে যাবেন, এই অধিকারটা প্রয়োগ করবেন।”

নিজের ২০০৮ সালের নির্বাচনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে তিনি বলেন, “আমি লক্ষ্য করছি এবারও নির্বাচনকে প্রভাবিত করার একটি পরিকল্পনা হতে পারে।” তিনি সম্ভাব্য কারচুপির লক্ষণ হিসেবে নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশে দীর্ঘসূত্রিতার বিষয়টিকে তুলে ধরেন। তার ভাষায়, আগে ভোট শেষে পোলিং এজেন্টরা সন্ধ্যার মধ্যেই ফলাফল নিয়ে ফিরত, অথচ এখন বলা হচ্ছে ফল পেতে দুই-তিন দিনও লাগতে পারে। এটিকে তিনি “কারচুপির সম্ভাব্য লক্ষণ” হিসেবে উল্লেখ করে দৃঢ়ভাবে বলেন, “এটা আমরা কোনো পরিস্থিতিতেই মেনে নেব না।”

মির্জা আব্বাস অভিযোগ করেন, সরকারের ভেতরে এমন কিছু ব্যক্তি রয়েছেন যারা এখনো আওয়ামী লীগের হয়ে কাজ করছেন। তাদের উদ্দেশ্য হলো নির্বাচন না হোক, অথবা নির্বাচন হলেও যেন বিএনপি জয়ী হতে না পারে। তিনি আরও বলেন, একদল লোক দেশের বাইরে থেকে নিজেদের দেশপ্রেমিক দাবি করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কথা বলেন। তিনি তাদের চ্যালেঞ্জ জানিয়ে বলেন, “দেশের জন্য যদি এতই প্রেম থাকে, তাহলে দেশে আসেন না কেন? দেশে এসে নির্বাচন করেন, জনগণের সঙ্গে কাজ করেন।” অথচ তারা বিদেশে বসে বিএনপিকে কীভাবে ক্ষতি করা যায়, কীভাবে বদনাম ও অপবাদ দেওয়া যায়, সেই চেষ্টা চালাচ্ছে বলে তিনি অভিযোগ করেন।

কিছু লোকের সমালোচনা করে আব্বাস বলেন, কিছু ব্যক্তি সকাল, দুপুর, সন্ধ্যা সারাদিন মির্জা আব্বাস কিংবা অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের নাম নিয়েই বেশি ব্যস্ত থাকেন। তাদের মুখে মিথ্যা কথার তুবড়ি ছুটতেই থাকে। তিনি বিস্ময় প্রকাশ করে বলেন, “তারা নাকি মাদ্রাসায় লেখাপড়া করেছে। তাহলে কি ভবিষ্যতে আমরা আমাদের সন্তানদের আর মাদ্রাসায় পাঠাতে পারব না? মাদ্রাসায় গিয়ে কি মানুষ মিথ্যা বলা শেখে? মাদ্রাসায় মানুষ ধর্মীয় শিক্ষা পায়, সত্য শিক্ষা পায়। সেখানে গীবত কী, মিথ্যা কী এসব শেখানো হয় এবং গীবত ও মিথ্যা বলা নিষেধ করা হয়। অথচ এরা মাদ্রাসায় পড়ে সকাল-দুপুর-সন্ধ্যা মিথ্যা কথাই বলে যাচ্ছে।”

তিনি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, “নির্বাচন করেন, ভোট চান। কিন্তু ভোট চাইতে হলে বলুন, আপনি কী করেছেন এবং ভবিষ্যতে কী করবেন। আপনি কোথা থেকে এসেছেন, সেটা আমার দেখার বিষয় না। কথা হলো, আপনি নিজের কাজের কথা বলে মানুষের ভোট চান। অন্যের গীবত করে, অপবাদ দিয়ে সময় নষ্ট করার কোনো প্রয়োজন নেই।”

বিএনপির এই নেতা তার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে বলেন, “আমি অন্তত পাঁচবার নির্বাচন করেছি, আপনারা দেখেছেন। এখানে যারা পুরোনো লোক আছেন, আপনারা কি কখনো শুনেছেন যে আমি কারও বিরুদ্ধে কথা বলেছি? আমি সবসময় আমার কথাই বলেছি, আমি কী করব, সেটাই বলেছি।” নির্বাচনী প্রচারের বিষয়ে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ভোট চাইতে হলে নিজের কাজ ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনার কথা বলতে হবে, অন্যের বিরুদ্ধে কুৎসা রটিয়ে নয়।

মির্জা আব্বাস তার নির্বাচনী এলাকায় নিজের উন্নয়নমূলক কাজের বিবরণ দেন। তিনি ঢাকায় দুটি হাসপাতাল—মুগদা মেডিকেল হাসপাতাল ও একটি ডায়াবেটিক হাসপাতাল প্রতিষ্ঠার কথা উল্লেখ করেন। পাশাপাশি তার নির্বাচনী এলাকায় চাকরির ব্যবস্থা, খেলার মাঠ, কলেজসহ বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ করার কথাও জানান। তার লিফলেটে এসব কাজের বিবরণ দেওয়া হয়েছে।

তিনি আরও বলেন, ভোটাধিকার আদায়ের জন্য তিনি যে সংগ্রাম করেছেন, সেটাই তার সবচেয়ে বড় সার্থকতা। মানুষ তাকে ভোট দিক বা না দিক, ভোট দিতে পারাটাই তার শান্তি। অপপ্রচারের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে তিনি বলেন, তার বিরুদ্ধে কেউ একটি সুনির্দিষ্ট অভিযোগও প্রমাণ করতে পারবে না।