জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে বিভিন্ন রাজনৈতিক দল যখন জনকল্যাণমূলক নানা প্রতিশ্রুতি ও প্রকল্প ঘোষণা করছে, তখন বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান জানিয়েছেন যে, তারা ক্ষমতায় গেলে চার কোটি পরিবারকে ‘ফ্যামিলি কার্ড’ দেবেন। এই কার্ডের মাধ্যমে প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা আর্থিক সহায়তা অথবা প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কেনার সুযোগ পাবেন গৃহকর্ত্রীরা। গত বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে দলের অফিসিয়াল ইউটিউব চ্যানেলে প্রচারিত একটি পডকাস্টে তারেক রহমান এই পরিকল্পনার বিস্তারিত তুলে ধরেন।
বিএনপির প্রস্তাবিত এই ‘ফ্যামিলি কার্ড’ কর্মসূচির মূল উদ্দেশ্য হলো পরিবারের নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী ক্রয়ে সহায়তা প্রদান এবং এর মাধ্যমে পারিবারিক ব্যয় কমিয়ে সঞ্চয়ের সুযোগ তৈরি করা। তারেক রহমান তার পডকাস্টে কার্ডের সুবিধা, কারা এর আওতায় আসবেন, কী পরিমাণ সহায়তা দেওয়া হবে এবং সামগ্রিকভাবে এটি কীভাবে অর্থনৈতিকভাবে পরিবারগুলোকে লাভবান করবে, সে বিষয়ে বিশদ ব্যাখ্যা দেন।
পডকাস্টের শুরুতে একটি প্রতীকী ফ্যামিলি কার্ড দেখিয়ে তারেক রহমান বলেন, ‘এটি দেশের কোটি কোটি মা-বোনের জন্য একটি ছোট্ট কার্ড। এই কার্ডটি আমরা বাংলাদেশের মা-বোনদের হাতে তুলে দেব।’ তিনি জানান, প্রাথমিকভাবে চার কোটি পরিবারকে এই কার্ডের আওতায় আনার পরিকল্পনা রয়েছে। যদিও এটি ধাপে ধাপে সম্পন্ন করা হবে, তবে সব পরিবারের কাছে পৌঁছানোর চেষ্টা থাকবে।
এই ফ্যামিলি কার্ডের মাধ্যমে গৃহিণীরা প্রতি মাসে আড়াই হাজার টাকা পাবেন। এই অর্থ নগদ গ্রহণ করা যাবে অথবা পরিবারের জন্য প্রয়োজনীয় খাদ্য সামগ্রী কিনতে ব্যবহার করা যাবে। তারেক রহমান আরও উল্লেখ করেন যে, এই কার্যক্রম গ্রাম থেকেই শুরু হবে এবং শহরের দরিদ্র, নিম্নবিত্ত ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোকেও এর আওতায় আনা হবে।
ফ্যামিলি কার্ডের সুফল ব্যাখ্যা করে তিনি বলেন, সরকারি এই সহায়তার মাধ্যমে পরিবারগুলো টাকা জমানোর সুযোগ পাবে। এই জমানো অর্থ মা-বোনেরা তাদের সন্তানদের সুস্বাস্থ্য ও লেখাপড়ার পেছনে খরচ করতে পারবেন অথবা ছোটখাটো বিনিয়োগের মাধ্যমে সংসারের জন্য অতিরিক্ত আয়ের পথ তৈরি করতে পারবেন। তারেক রহমানের বিশ্বাস, পাঁচ থেকে সাত বছর পর্যন্ত এই সহযোগিতা পেলে পরিবারগুলো ধীরে ধীরে সচ্ছল হয়ে উঠবে এবং সন্তানেরা সুস্বাস্থ্য ও সুশিক্ষার সুযোগ পাবে।
কারা এই কার্ড পাবেন, সে বিষয়ে তারেক রহমান বলেন, গ্রামের কৃষক থেকে শুরু করে প্রাইমারি স্কুলের শিক্ষক, ভ্যানচালক, এমনকি ইউএনও, ডিসি বা এসপি সাহেবের স্ত্রী—সব গৃহিণীই এই কার্ডের যোগ্য হবেন। তবে যাদের প্রয়োজন নেই, তারা কার্ড ফিরিয়ে দিলে তা সত্যিকার অর্থে অভাবী পরিবারের কাছে পৌঁছে দেওয়া যাবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। কার্ডে গ্রহীতার নাম, একটি নম্বর, মেয়াদ এবং স্ক্যানিংয়ের জন্য প্রয়োজনীয় দাগ থাকবে।
এদিকে, বিএনপির নির্বাচন পরিচালনা কমিটির মুখপাত্র ও বিএনপি চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহদী আমিন জানিয়েছেন, নির্বাচনকে সামনে রেখে তারেক রহমান পডকাস্টের মাধ্যমে সরাসরি দেশের মানুষের সামনে তার চিন্তা, দর্শন ও ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা তুলে ধরবেন। তিনি বলেন, জনগণ কোনো অবাস্তবায়নযোগ্য ফাঁকা বুলি বা মিথ্যা আশ্বাস চায় না, বরং চায় স্পষ্ট অঙ্গীকার ও বিশ্বাসযোগ্য নেতৃত্ব। এই পডকাস্ট সিরিজে ফ্যামিলি কার্ড ছাড়াও পরিবেশ সুরক্ষা, কৃষক কার্ড (কৃষিপণ্যের ন্যায্যমূল্য, সহজ শর্তে ঋণ), ক্রীড়া ও যুব উন্নয়ন পরিকল্পনার মতো বিষয়গুলো ধারাবাহিকভাবে তুলে ধরা হবে।
রিপোর্টারের নাম 
























