ঢাকা ০১:২৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

“আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনীতি আর লোনের ব্যাপারটা খতিয়ে দেখছে।”

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:২৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫
  • ৪৩ বার পড়া হয়েছে

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে আর তাদের দেওয়া ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির কাজ কতদূর এগুলো—দুটোই একসাথে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে, তারা একই সাথে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার বার্ষিক মূল্যায়ন (যেটাকে “আর্টিকেল আই ভি রিভিউ” বলে) এবং ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম ধাপের পর্যালোচনা—এই দুটো কাজই একসঙ্গে করছে।

এই খতিয়ে দেখার কাজটা শুরু হয়েছে বুধবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের সাথে একটা বৈঠকের মাধ্যমে। আইএমএফ-এর যে দলটি এসেছে, সেটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির ডেপুটি ইউনিট চিফ ক্রিস পাপাগিওরগিও।

প্রথম দিনের বৈঠকে আইএমএফ-এর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এখনকার অর্থনৈতিক অবস্থা, ট্যাক্স বা রাজস্ব আদায় (রাজস্ব আহরণ), বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) কাজ কতদূর হলো, আর বিদেশি লোন সামলানোর (বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা) ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তারা আরও দেখেছেন যে, (লোনের) শর্তগুলো জুন মাস পর্যন্ত কতটা পূরণ হয়েছে, আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (প্রথমার্ধে) কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতে পারে আর কেমন খরচ হতে পারে, তার একটা আগাম ধারণা (পূর্বাভাস) চেয়েছেন।

একটা সূত্র জানিয়েছে যে, কেন ট্যাক্স (রাজস্ব) আদায়ের লক্ষ্য আর এডিপির কাজ ঠিকমতো পূরণ হচ্ছে না, তার একটা ব্যাখ্যা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে যে, দেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তা-ই এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বুধবারের আলোচনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর জন্য যে ‘পে কমিশন’ গঠন করা হয়েছে, সেটা নিয়ে আইএমএফ কোনো প্রশ্ন করেনি। এই কমিশনের রিপোর্ট ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা আছে, আর সরকারও ভাবছে যে, এটার কিছু অংশ বাস্তবায়ন করা যায় কি না। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এটা করতে গেলে (বাস্তবায়িত হলে) বাজেটের ওপর একটা বাড়তি চাপ পড়তে পারে।

এছাড়া, ব্যাংক খাতের সংস্কার (ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি) নিয়েও কথা হয়েছে। আইএমএফ জানতে চেয়েছে যে, পাঁচটা ব্যাংককে এক করে ফেলার (একীভূতকরণ) কাজ কতদূর এগুলো। জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, উপদেষ্টা পরিষদ এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে এবং এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স নেওয়ার কাজ চলছে।

জানা গেছে, (লোনের) ষষ্ঠ কিস্তির টাকা ছাড়ানোর ব্যাপারে আইএমএফ-এর সাথে এই আলোচনা আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

আইএমএফ-এর নিয়ম (সনদ) অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতি বছরই এরকম একটা বিস্তারিত মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যায়, যেটাকে “আর্টিকেল আই ভি রিভিউ” বলা হয়। এই রিপোর্টটা পরে সংস্থার নির্বাহী বোর্ডে জমা দেওয়া হয় এবং আইএমএফ-এর ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আফগানিস্তানে আপাতত স্বস্তির নিশ্বাস, কাবুলসহ কিছু এলাকায় শান্তি

“আইএমএফ বাংলাদেশের অর্থনীতি আর লোনের ব্যাপারটা খতিয়ে দেখছে।”

আপডেট সময় : ১০:২৬:০৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ৩০ অক্টোবর ২০২৫

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিল (আইএমএফ) বাংলাদেশের অর্থনীতি কেমন চলছে আর তাদের দেওয়া ৫.৫ বিলিয়ন ডলারের ঋণ কর্মসূচির কাজ কতদূর এগুলো—দুটোই একসাথে খতিয়ে দেখা শুরু করেছে। এর অংশ হিসেবে, তারা একই সাথে দেশের সার্বিক অর্থনৈতিক অবস্থার বার্ষিক মূল্যায়ন (যেটাকে “আর্টিকেল আই ভি রিভিউ” বলে) এবং ঋণ কর্মসূচির পঞ্চম ধাপের পর্যালোচনা—এই দুটো কাজই একসঙ্গে করছে।

এই খতিয়ে দেখার কাজটা শুরু হয়েছে বুধবার (২৯ অক্টোবর) অর্থ সচিব মো. খায়রুজ্জামান মজুমদারের সাথে একটা বৈঠকের মাধ্যমে। আইএমএফ-এর যে দলটি এসেছে, সেটার নেতৃত্ব দিচ্ছেন সংস্থাটির ডেপুটি ইউনিট চিফ ক্রিস পাপাগিওরগিও।

প্রথম দিনের বৈঠকে আইএমএফ-এর প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের এখনকার অর্থনৈতিক অবস্থা, ট্যাক্স বা রাজস্ব আদায় (রাজস্ব আহরণ), বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) কাজ কতদূর হলো, আর বিদেশি লোন সামলানোর (বৈদেশিক ঋণ ব্যবস্থাপনা) ব্যাপারে বিস্তারিত কথা বলেছেন। তারা আরও দেখেছেন যে, (লোনের) শর্তগুলো জুন মাস পর্যন্ত কতটা পূরণ হয়েছে, আর চলতি অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে (প্রথমার্ধে) কী পরিমাণ রাজস্ব আদায় হতে পারে আর কেমন খরচ হতে পারে, তার একটা আগাম ধারণা (পূর্বাভাস) চেয়েছেন।

একটা সূত্র জানিয়েছে যে, কেন ট্যাক্স (রাজস্ব) আদায়ের লক্ষ্য আর এডিপির কাজ ঠিকমতো পূরণ হচ্ছে না, তার একটা ব্যাখ্যা সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া হয়েছে। তারা বলেছে যে, দেশে যে রাজনৈতিক পরিস্থিতি চলছে, তা-ই এর জন্য আংশিকভাবে দায়ী।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের একজন কর্মকর্তা বলেছেন, বুধবারের আলোচনায় সরকারি কর্মচারীদের বেতন বাড়ানোর জন্য যে ‘পে কমিশন’ গঠন করা হয়েছে, সেটা নিয়ে আইএমএফ কোনো প্রশ্ন করেনি। এই কমিশনের রিপোর্ট ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেওয়ার কথা আছে, আর সরকারও ভাবছে যে, এটার কিছু অংশ বাস্তবায়ন করা যায় কি না। তবে, সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন যে, এটা করতে গেলে (বাস্তবায়িত হলে) বাজেটের ওপর একটা বাড়তি চাপ পড়তে পারে।

এছাড়া, ব্যাংক খাতের সংস্কার (ব্যাংকিং সেক্টরের উন্নতি) নিয়েও কথা হয়েছে। আইএমএফ জানতে চেয়েছে যে, পাঁচটা ব্যাংককে এক করে ফেলার (একীভূতকরণ) কাজ কতদূর এগুলো। জবাবে অর্থ মন্ত্রণালয় জানিয়েছে যে, উপদেষ্টা পরিষদ এই প্রস্তাবগুলো অনুমোদন দিয়ে দিয়েছে এবং এখন বাংলাদেশ ব্যাংক থেকে আনুষ্ঠানিক লাইসেন্স নেওয়ার কাজ চলছে।

জানা গেছে, (লোনের) ষষ্ঠ কিস্তির টাকা ছাড়ানোর ব্যাপারে আইএমএফ-এর সাথে এই আলোচনা আগামী ১৩ নভেম্বর পর্যন্ত চলবে।

আইএমএফ-এর নিয়ম (সনদ) অনুযায়ী, সদস্য দেশগুলোর অর্থনৈতিক অবস্থা প্রতি বছরই এরকম একটা বিস্তারিত মূল্যায়নের মধ্য দিয়ে যায়, যেটাকে “আর্টিকেল আই ভি রিভিউ” বলা হয়। এই রিপোর্টটা পরে সংস্থার নির্বাহী বোর্ডে জমা দেওয়া হয় এবং আইএমএফ-এর ওয়েবসাইটেও প্রকাশ করা হয়।