চট্টগ্রাম বন্দরের নিউমুরিং কনটেইনার টার্মিনাল (এনসিটি) পরিচালনার দায়িত্ব বিদেশি কোম্পানিকে দেওয়ার প্রক্রিয়া বৈধ ঘোষণা করেছেন হাইকোর্ট। এ সংক্রান্ত একটি রুল খারিজ করে বৃহস্পতিবার বিচারপতি জাফর আহমেদের একক হাইকোর্ট বেঞ্চ এই রায় প্রদান করেন। আদালতের এই রায়ের ফলে এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি সম্পন্ন করতে বন্দর কর্তৃপক্ষের আর কোনো আইনি বাধা রইল না।
মামলার বিবরণ থেকে জানা যায়, এর আগে গত ৩০ জুলাই এনসিটি পরিচালনায় বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তির চলমান প্রক্রিয়া কেন আইনগত কর্তৃত্ববহির্ভূত ঘোষণা করা হবে না, তা জানতে চেয়ে রুল জারি করেছিলেন হাইকোর্ট। একই সঙ্গে যেকোনো অপারেটর নিয়োগের ক্ষেত্রে উন্মুক্ত ও প্রতিযোগিতামূলক দরপত্র কেন আহ্বান করা হবে না, তাও জানতে চাওয়া হয়েছিল। গত ৪ ডিসেম্বর এই রুলের ওপর শুনানি শেষে হাইকোর্টের একটি দ্বৈত বেঞ্চ দ্বিধাবিভক্ত রায় প্রদান করেন। ওই বেঞ্চের জ্যেষ্ঠ বিচারপতি চুক্তি প্রক্রিয়াকে অবৈধ ঘোষণা করলেও কনিষ্ঠ বিচারপতি রিটটি খারিজ করে প্রক্রিয়াটিকে বৈধ বলেন। নিয়মানুযায়ী বিষয়টি চূড়ান্ত নিষ্পত্তির জন্য প্রধান বিচারপতি পরবর্তীতে বিচারপতি জাফর আহমেদের একক বেঞ্চে পাঠান।
আজকের রায়ের পর্যবেক্ষণে আদালত জানান, দুবাই সরকারের পক্ষে ডিপি ওয়ার্ল্ডের সঙ্গে সরকারি-বেসরকারি অংশীদারত্ব (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের সমঝোতা স্মারকটি আইনগতভাবেই সম্পাদিত হয়েছে। বর্তমানে যে প্রক্রিয়ায় কার্যক্রম এগোচ্ছে, তা ২০১৭ সালের প্রকিউরমেন্ট পলিসি ও সমঝোতা স্মারকের অধীনেই রয়েছে। ওই নীতিমালায় সরাসরি অপারেটর বাছাই বা নির্বাচন করার সুযোগ যেমন রয়েছে, তেমনি দরপত্রের বিধানও রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে আইনগতভাবেই এই ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে এবং এখানে প্রচলিত কোনো আইনকে চ্যালেঞ্জ করা হয়নি। এছাড়া কাউকে এখনো চূড়ান্ত কার্যাদেশ দেওয়া হয়নি বিধায় রিট আবেদনটিকে ‘অপরিপক্ব’ হিসেবে গণ্য করেছেন আদালত।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন ব্যারিস্টার জমির উদ্দিন সরকার, অ্যাডভোকেট আহসানুল করিম ও ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন। অন্যদিকে রাষ্ট্রপক্ষে শুনানি করেন অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল অনীক আর হক।
এদিকে হাইকোর্টের এই রায় ঘোষণার পর রিট আবেদনকারীরা এর বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে আপিল বিভাগে আবেদন করেছেন বলে জানা গেছে। তবে বর্তমান অবস্থায় চট্টগ্রাম বন্দর কর্তৃপক্ষের বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে চুক্তি কার্যক্রম চালিয়ে যেতে কোনো আইনি প্রতিবন্ধকতা নেই।
রিপোর্টারের নাম 
























