ঢাকা ১০:২৩ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৩ এপ্রিল ২০২৬

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ডে তীব্র নিন্দা, বিচার দাবি মামুনুল হকের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

শেরপুরে এক জামায়াত নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে বিচার দাবি করেছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার তার চতুর্থ দিনের ‘জাগরণী পদযাত্রা’ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “শেরপুরে জামায়াত কর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক একটি ঘটনা। আমরা এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। আমরা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না।”

তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “এই ঘটনার পর এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া বা অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ব্যর্থতা। এক্ষেত্রে বিএনপিরও দায়িত্বহীনতার পরিচয় পাওয়া গেছে। একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের যে ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল, তা তারা করছে না। বরং তাদের নেতৃবৃন্দ নারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অসভ্য ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সভ্যতার সকল সীমা অতিক্রম করেছে। আমার বিশ্বাস, নেতাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াই মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে।”

একই সাথে, তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ এনেছেন, তা থেকে বোঝা যায় তিনি বিধিমালা সম্পর্কে অবগত নন। নির্বাচনি আচরণবিধিতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রঙিন বিলবোর্ড লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আমি সেই নিয়ম মেনেই বিলবোর্ড স্থাপন করেছি। শুধু আমি নই, ববি হাজ্জাজ নিজেও নিয়ম মেনে বিলবোর্ড লাগিয়েছেন।”

আল্লামা মামুনুল হক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আচরণবিধিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড লাগাতে পারবেন। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমি একটি বিলবোর্ডও বেশি লাগিয়েছি, তবে আমি নিজে সকল বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলব। অথচ ববি হাজ্জাজ প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা অল্প জায়গায় তার ২৬টির মতো বিলবোর্ড দেখেছি। আমার ধারণা, তিনি ৫০টিরও বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও তিনি আরও নানাভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। আমরা মনে করি, এটি আইনের প্রতি চরম ধৃষ্টতা এবং অবজ্ঞা প্রদর্শন। এখন নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।”

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফেসবুকে ফটোকার্ড শেয়ার নিয়ে শাহবাগ থানায় উত্তেজনা: ডাকসু নেতা ও সাংবাদিকদের মারধর করল ছাত্রদল

শেরপুরে জামায়াত নেতা হত্যাকাণ্ডে তীব্র নিন্দা, বিচার দাবি মামুনুল হকের

আপডেট সময় : ০৫:০২:১৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

শেরপুরে এক জামায়াত নেতাকে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যার ঘটনাকে কেন্দ্র করে তীব্র নিন্দা ও অবিলম্বে বিচার দাবি করেছেন ঢাকা-১৩ আসনের সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী আল্লামা মামুনুল হক। বৃহস্পতিবার তার চতুর্থ দিনের ‘জাগরণী পদযাত্রা’ চলাকালে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই দাবি জানান।

আল্লামা মামুনুল হক বলেন, “শেরপুরে জামায়াত কর্মীকে প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে হত্যা করা অত্যন্ত দুঃখজনক ও অমানবিক একটি ঘটনা। আমরা এই ধরনের সহিংসতা কোনোভাবেই সমর্থন করি না। আমরা দ্রুত ও সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের চিহ্নিত করে তাদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানাচ্ছি।” তিনি একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে ১১ দলীয় জোটের নেতাকর্মীদের ধৈর্য ধারণের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “অত্যন্ত বিচক্ষণতার সাথে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হবে। কোনো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন বানচাল করার অপচেষ্টা সফল হতে দেওয়া যাবে না।”

তিনি নির্বাচন কমিশন ও বিএনপির ভূমিকার সমালোচনা করে বলেন, “এই ঘটনার পর এখনো পর্যন্ত কোনো কার্যকর আইনানুগ ব্যবস্থা না নেওয়া বা অপরাধীদের গ্রেপ্তার না করা নির্বাচন কমিশনের স্পষ্ট ব্যর্থতা। এক্ষেত্রে বিএনপিরও দায়িত্বহীনতার পরিচয় পাওয়া গেছে। একটি বড় রাজনৈতিক দল হিসেবে তাদের যে ভূমিকা পালন করা উচিত ছিল, তা তারা করছে না। বরং তাদের নেতৃবৃন্দ নারীদের বিরুদ্ধে অত্যন্ত আক্রমণাত্মক ও অসভ্য ভাষায় বক্তব্য দিচ্ছেন। প্রকাশ্য দিবালোকে নারীদের বিবস্ত্র করার হুমকি দেওয়া হচ্ছে, যা সভ্যতার সকল সীমা অতিক্রম করেছে। আমার বিশ্বাস, নেতাদের এমন উসকানিমূলক বক্তব্যের প্রতিক্রিয়াই মাঠ পর্যায়ের কর্মীদের মধ্যে সহিংসতার জন্ম দিচ্ছে।”

একই সাথে, তিনি তার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগকে ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে মামুনুল হক বলেন, “আমার প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী আচরণবিধি লঙ্ঘনের যে অভিযোগ এনেছেন, তা থেকে বোঝা যায় তিনি বিধিমালা সম্পর্কে অবগত নন। নির্বাচনি আচরণবিধিতে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে রঙিন বিলবোর্ড লাগানোর সুযোগ রয়েছে। আমি সেই নিয়ম মেনেই বিলবোর্ড স্থাপন করেছি। শুধু আমি নই, ববি হাজ্জাজ নিজেও নিয়ম মেনে বিলবোর্ড লাগিয়েছেন।”

আল্লামা মামুনুল হক চ্যালেঞ্জ ছুড়ে দিয়ে বলেন, “আচরণবিধিতে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ আছে যে একজন প্রার্থী সর্বোচ্চ ২০টি বিলবোর্ড লাগাতে পারবেন। যদি কেউ প্রমাণ করতে পারে যে আমি একটি বিলবোর্ডও বেশি লাগিয়েছি, তবে আমি নিজে সকল বিলবোর্ড সরিয়ে ফেলব। অথচ ববি হাজ্জাজ প্রকাশ্যে আচরণবিধি লঙ্ঘনের ঘোষণা দিয়েছেন। আমরা অল্প জায়গায় তার ২৬টির মতো বিলবোর্ড দেখেছি। আমার ধারণা, তিনি ৫০টিরও বেশি বিলবোর্ড ব্যবহার করেছেন। এছাড়াও তিনি আরও নানাভাবে আচরণবিধি লঙ্ঘন করেছেন। আমরা মনে করি, এটি আইনের প্রতি চরম ধৃষ্টতা এবং অবজ্ঞা প্রদর্শন। এখন নির্বাচন কমিশন তার বিরুদ্ধে কী ব্যবস্থা নেয়, সেটাই দেখার বিষয়।”