ঢাকা ০২:৫৯ অপরাহ্ন, রবিবার, ২১ জুন ২০২৬

ইরানে সরকার পরিবর্তন: নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়, মার্কিন হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান তেহরানের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১২:৪১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তন এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেট সদস্য মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ক্ষমতা হারালে কে দেশটির নেতৃত্ব দেবেন, তা বলা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান অবশ্য মার্কিন হুমকি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মার্কিন সিনেটে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও উল্লেখ করেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন ভেনেজুয়েলার মতো সহজ হবে না, যেখানে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। তিনি বলেন, “এটি কোনো ফ্রোজেন ডিনারের মতো নয়, যা মাইক্রোওয়েভে দুই মিনিট পঁয়ত্রিশ সেকেন্ডে গরম করলে খাওয়ার মতো হয়ে যায়। এগুলো অত্যন্ত জটিল বিষয়।” রুবিও আরও যোগ করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ক্ষমতা হারালে কে নেতৃত্ব দেবে, তা কেউ জানে না এবং সরকারের পতনের পর কী হবে তার কোনো সহজ উত্তর নেই। তিনি অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনা ও সহযোগী স্থাপনার নিরাপত্তার প্রয়োজনে আগাম প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তবে একইসঙ্গে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশাও প্রকাশ করেন।

এর আগে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধে একটি চুক্তি করার আহ্বান জানান।

মার্কিন এই সতর্কবার্তার তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “হুমকির পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তারা তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে। কিছু ইরানি কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, যেকোনো হামলা বড় সংঘাতের সূচনা করতে পারে, যেখানে মার্কিন স্বার্থ ও অঞ্চলের সহযোগীরাও লক্ষ্য হতে পারে।

বর্তমানে উভয় পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা বন্ধে একটি চুক্তি হোক, অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে তারা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং কোনো হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাউজানে যুবদল নেতা মাকসুদ হত্যা মামলার এজাহারভুক্ত আসামি বাঘাইছড়িতে গ্রেপ্তার

ইরানে সরকার পরিবর্তন: নেতৃত্ব নিয়ে সংশয়, মার্কিন হুঁশিয়ারি প্রত্যাখ্যান তেহরানের

আপডেট সময় : ১২:৪১:০৯ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের কঠোর হুঁশিয়ারির কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরানের সম্ভাব্য সরকার পরিবর্তন এবং পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন সিনেট সদস্য মার্কো রুবিও। তিনি বলেছেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি ক্ষমতা হারালে কে দেশটির নেতৃত্ব দেবেন, তা বলা কঠিন। এমন পরিস্থিতিতে তেহরান অবশ্য মার্কিন হুমকি প্রত্যাখ্যান করে পাল্টা কড়া জবাবের হুঁশিয়ারি দিয়েছে।

মার্কিন সিনেটে দেওয়া এক বক্তব্যে রুবিও উল্লেখ করেন, ইরানে সরকার পরিবর্তন ভেনেজুয়েলার মতো সহজ হবে না, যেখানে মার্কিন বাহিনী প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে ক্ষমতাচ্যুত করেছিল। তিনি বলেন, “এটি কোনো ফ্রোজেন ডিনারের মতো নয়, যা মাইক্রোওয়েভে দুই মিনিট পঁয়ত্রিশ সেকেন্ডে গরম করলে খাওয়ার মতো হয়ে যায়। এগুলো অত্যন্ত জটিল বিষয়।” রুবিও আরও যোগ করেন, ইরানের সর্বোচ্চ নেতা ক্ষমতা হারালে কে নেতৃত্ব দেবে, তা কেউ জানে না এবং সরকারের পতনের পর কী হবে তার কোনো সহজ উত্তর নেই। তিনি অঞ্চলে থাকা মার্কিন সেনা ও সহযোগী স্থাপনার নিরাপত্তার প্রয়োজনে আগাম প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ নেওয়ার ইঙ্গিত দেন, তবে একইসঙ্গে এমন পরিস্থিতি এড়ানোর আশাও প্রকাশ করেন।

এর আগে বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, একটি বিশাল নৌবহর ইরানের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরার এবং পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধে একটি চুক্তি করার আহ্বান জানান।

মার্কিন এই সতর্কবার্তার তীব্র নিন্দা ও প্রত্যাখ্যান করেছে ইরান। দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, “হুমকির পরিবেশে কোনো আলোচনা সম্ভব নয়।” তিনি আরও সতর্ক করে বলেন, মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের ক্ষেত্রে তারা তাৎক্ষণিক ও শক্তিশালী প্রতিক্রিয়া জানাবে। কিছু ইরানি কর্মকর্তা উল্লেখ করেছেন, যেকোনো হামলা বড় সংঘাতের সূচনা করতে পারে, যেখানে মার্কিন স্বার্থ ও অঞ্চলের সহযোগীরাও লক্ষ্য হতে পারে।

বর্তমানে উভয় পক্ষই তাদের অবস্থানে অনড় রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র চায়, ইরানের পারমাণবিক অস্ত্র সক্ষমতা বন্ধে একটি চুক্তি হোক, অন্যদিকে তেহরান জোর দিয়ে বলছে যে তারা শান্তিপূর্ণ পারমাণবিক কার্যক্রম চালিয়ে যাবে এবং কোনো হুমকির মুখে আলোচনায় বসবে না।