ঢাকা ১০:৪৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানকে ট্রাম্পের চরমপত্র: পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আসার জন্য ইরানকে কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কোনো সমাধানে না পৌঁছালে তেহরানকে আগের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে ওয়াশিংটনের এই হুঁশিয়ারি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন রুখে দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর বর্তমানে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান যদি সঠিক পথে না ফেরে, তবে তাদের ওপর চালানো হামলা হবে ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী অভিযান।

মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। তবে হুমকি ও জবরদস্তি বাদ দিয়ে যদি সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনার প্রস্তাব আসে, তবে তেহরান তাতে ইতিবাচক সাড়া দিতে পারে। আরাগচির মতে, মার্কিন সামরিক হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার দাবি, ইরান বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল সময় পার করছে। দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা সংকটের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে রুবিও বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে দেশটিতে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর তেহরান তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের দুর্বল ভাবার ভুল করে, তবে এর জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশনও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আলোচনার পথ খোলা রাখলেও একে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আত্মরক্ষা এবং পাল্টা আঘাতের ক্ষেত্রে ইরান এমন এক কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই চরমপত্র এবং ইরানের অনমনীয় মনোভাবের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাস ও লঞ্চে একচেটিয়া ভাড়া বৃদ্ধির পাঁয়তারা বন্ধের দাবি যাত্রী কল্যাণ সমিতির

পারমাণবিক ইস্যুতে ইরানকে ট্রাম্পের চরমপত্র: পাল্টা হুঁশিয়ারি তেহরানের

আপডেট সময় : ০৯:২২:৩৬ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৯ জানুয়ারী ২০২৬

পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সমঝোতায় আসার জন্য ইরানকে কঠোর আল্টিমেটাম দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় সামরিক উপস্থিতি জোরদার করার পাশাপাশি তিনি সতর্ক করেছেন যে, আলোচনার মাধ্যমে দ্রুত কোনো সমাধানে না পৌঁছালে তেহরানকে আগের চেয়েও ভয়াবহ পরিণতির মুখোমুখি হতে হবে। তবে ওয়াশিংটনের এই হুঁশিয়ারি সরাসরি প্রত্যাখ্যান করে ইরান জানিয়েছে, যেকোনো ধরনের সামরিক আগ্রাসন রুখে দিতে তাদের সশস্ত্র বাহিনী সম্পূর্ণ প্রস্তুত।

সম্প্রতি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেন, একটি বিশাল মার্কিন নৌবহর বর্তমানে ইরানের দিকে অগ্রসর হচ্ছে। পারমাণবিক ইস্যুতে নতুন চুক্তিতে পৌঁছানোর সুযোগ প্রায় শেষ হয়ে আসছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ইরান যদি সঠিক পথে না ফেরে, তবে তাদের ওপর চালানো হামলা হবে ইতিহাসের অন্যতম বিধ্বংসী অভিযান।

মার্কিন প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থানের বিপরীতে কড়া প্রতিক্রিয়া জানিয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, ইরান কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না। তবে হুমকি ও জবরদস্তি বাদ দিয়ে যদি সমতা ও ন্যায্যতার ভিত্তিতে আলোচনার প্রস্তাব আসে, তবে তেহরান তাতে ইতিবাচক সাড়া দিতে পারে। আরাগচির মতে, মার্কিন সামরিক হুমকি মধ্যপ্রাচ্যের স্থিতিশীলতাকে আরও ঝুঁকির মুখে ফেলছে।

এদিকে, ইরানের অভ্যন্তরীণ পরিস্থিতি নিয়ে মন্তব্য করেছেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও। তার দাবি, ইরান বর্তমানে রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিকভাবে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বল সময় পার করছে। দেশটির বর্তমান শাসনব্যবস্থা সংকটের মুখে রয়েছে উল্লেখ করে রুবিও বলেন, সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ খামেনির পরবর্তী নেতৃত্ব নিয়ে দেশটিতে চরম অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে।

মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রীর এমন মন্তব্যের পর তেহরান তাদের অবস্থান আরও কঠোর করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, ওয়াশিংটন যদি তাদের দুর্বল ভাবার ভুল করে, তবে এর জবাব হবে তাৎক্ষণিক ও ভয়াবহ। জাতিসংঘে নিযুক্ত ইরানের মিশনও এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, তারা আলোচনার পথ খোলা রাখলেও একে দুর্বলতা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই। আত্মরক্ষা এবং পাল্টা আঘাতের ক্ষেত্রে ইরান এমন এক কঠোর পন্থা অবলম্বন করবে, যা আগে কখনো দেখা যায়নি।

বিশ্লেষকরা মনে করছেন, ট্রাম্পের এই চরমপত্র এবং ইরানের অনমনীয় মনোভাবের ফলে মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে বড় ধরনের সামরিক সংঘাতের আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখন গভীর উদ্বেগের সঙ্গে দুই দেশের পরবর্তী পদক্ষেপের দিকে নজর রাখছে।