ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে পিতা সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা কারাগারে

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার জামিন বাতিল করে এই আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলায় কামাল হোসেন তার আপন চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে উপস্থাপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, কামাল হোসেন প্রথমে তার জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম এবং মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের নাম ব্যবহার করে কুষ্টিয়ার সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে একই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় তিনি তার আপন চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং পরবর্তীতে সরকারি চাকরি লাভ করেন।

গত বছর ১৫ ডিসেম্বর কামাল হোসেন উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। এরপর ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতার শর্তে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন এবং পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।

তবে, আসামি দুইবার জামিনের শর্ত পালনে ব্যর্থ হওয়ায় দুদক তার জামিন বাতিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। এই ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

মুক্তিযোদ্ধা চাচাকে পিতা সাজিয়ে জালিয়াতির মাধ্যমে চাকরি, বিসিএস ক্যাডার কর্মকর্তা কারাগারে

আপডেট সময় : ০৩:৫৯:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মুক্তিযোদ্ধা কোটায় সরকারি চাকরি হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব মো. কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত। ঢাকা মহানগর দায়রা জজ মো. সাব্বির ফয়েজ বুধবার (২৮ জানুয়ারি) তার জামিন বাতিল করে এই আদেশ দেন।

দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) দায়ের করা এই মামলায় কামাল হোসেন তার আপন চাচা, বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে উপস্থাপন করে জালিয়াতির মাধ্যমে ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় প্রশাসন ক্যাডারে চাকরি নিয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

মামলার বিবরণী অনুযায়ী, কামাল হোসেন প্রথমে তার জন্মদাতা পিতা মো. আবুল কাশেম এবং মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের নাম ব্যবহার করে কুষ্টিয়ার সিরাজনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে পঞ্চম শ্রেণি এবং ফিলিপনগর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পড়াশোনা করেন। পরবর্তীতে একই বিদ্যালয়ে নবম শ্রেণিতে ভর্তি হওয়ার সময় তিনি তার আপন চাচা মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব এবং চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে পিতা-মাতা হিসেবে দেখিয়ে রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন করেন। এই জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি এবং পরবর্তীতে সরকারি চাকরি লাভ করেন।

গত বছর ১৫ ডিসেম্বর কামাল হোসেন উচ্চ আদালত থেকে চার সপ্তাহের আগাম জামিন নিয়েছিলেন। এরপর ২৩ ডিসেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিনের আবেদন করলে আদালত তাকে তদন্তকারী কর্মকর্তাকে সহযোগিতার শর্তে ডিএনএ পরীক্ষা পর্যন্ত জামিন মঞ্জুর করেন এবং পরীক্ষার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে জামিন শুনানির দিন ধার্য করেন।

তবে, আসামি দুইবার জামিনের শর্ত পালনে ব্যর্থ হওয়ায় দুদক তার জামিন বাতিলের আবেদন করে। শুনানি শেষে আদালত আবেদন মঞ্জুর করে কামাল হোসেনকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।

গত ২৬ ডিসেম্বর দুদকের উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টু বাদী হয়ে কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪২০/৪৬৭/৪৬৮/৪৭১ ধারায় প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে মামলাটি দায়ের করেন। এই ঘটনা মহান মুক্তিযুদ্ধের চেতনার সঙ্গে চরম প্রতারণা বলে উল্লেখ করা হয়েছে।