ঢাকা ০৫:১২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

আয়নাঘর: কুখ্যাত বন্দিশালায় আয়নার অনুপস্থিতি নিয়ে আইনজীবীর জেরায় সাবেক সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জবানবন্দি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত বন্দিশালায় কোনো আয়না ছিল না বলে জানিয়েছেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার মুখে তিনি এই তথ্য উপস্থাপন করেন।

বুধবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকীর পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জেরাকালে হাসিনুর রহমানকে প্রশ্ন করেন, গুম করে রাখা আয়নাঘরের দেয়ালে কোনো আয়না ছিল কি না। জবাবে হাসিনুর রহমান স্পষ্ট জানান, সেখানে কোনো আয়না ছিল না এবং ‘আয়নাঘর’ কেবল একটি ছদ্মনাম ছিল।

এরপর আইনজীবী দুলু হাসিনুর রহমানের সামরিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান। তিনি প্রশ্ন করেন, তার বিএ নম্বর কত এবং তিনি কোন কোর্সের সদস্য ছিলেন। হাসিনুর রহমান উত্তর দেন, তার বিএ নম্বর ২৬১১ এবং তিনি দশম বিএমএ লং কোর্সে কমিশনপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

মামলার শুনানিতে আরও গভীরে গিয়ে আইনজীবী দুলু জানতে চান, কোর্ট মার্শাল রায়ের পর তার বিএমএ নম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, সিএমএইচ সহ অন্যান্য স্থানে সাসপেন্ড করা হয়েছিল কিনা। এই প্রশ্নের উত্তরে হাসিনুর রহমান জানান যে, তার বিএ নম্বর সংক্রান্ত নথিপত্র বর্তমানে সেনাসদরে নেই। তিনি শুনেছেন যে এই নথিপত্র ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে কার কাছ থেকে শুনেছেন তা তার স্পষ্ট মনে নেই। এই তথ্য মামলার তদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বইয়ের প্রতি তরুণ প্রজন্মকে আগ্রহী করে তোলার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর

আয়নাঘর: কুখ্যাত বন্দিশালায় আয়নার অনুপস্থিতি নিয়ে আইনজীবীর জেরায় সাবেক সেনা কর্মকর্তার বক্তব্য

আপডেট সময় : ০৩:৫৭:২৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ২৮ জানুয়ারী ২০২৬

মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত শেখ হাসিনা এবং সাবেক ও বর্তমান ১২ জন সেনা কর্মকর্তার বিরুদ্ধে জবানবন্দি শেষে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ এক চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে। জয়েন্ট ইন্টারোগেশন সেল (জেআইসি) বা কুখ্যাত ‘আয়নাঘর’ নামে পরিচিত বন্দিশালায় কোনো আয়না ছিল না বলে জানিয়েছেন সাবেক লেফটেন্যান্ট কর্নেল হাসিনুর রহমান। আসামিপক্ষের আইনজীবীর জেরার মুখে তিনি এই তথ্য উপস্থাপন করেন।

বুধবার ট্রাইব্যুনালে ডিজিএফআই-এর সাবেক পরিচালক মাহবুবুর রহমান সিদ্দিকীর পক্ষে আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু জেরাকালে হাসিনুর রহমানকে প্রশ্ন করেন, গুম করে রাখা আয়নাঘরের দেয়ালে কোনো আয়না ছিল কি না। জবাবে হাসিনুর রহমান স্পষ্ট জানান, সেখানে কোনো আয়না ছিল না এবং ‘আয়নাঘর’ কেবল একটি ছদ্মনাম ছিল।

এরপর আইনজীবী দুলু হাসিনুর রহমানের সামরিক পরিচয় সম্পর্কে জানতে চান। তিনি প্রশ্ন করেন, তার বিএ নম্বর কত এবং তিনি কোন কোর্সের সদস্য ছিলেন। হাসিনুর রহমান উত্তর দেন, তার বিএ নম্বর ২৬১১ এবং তিনি দশম বিএমএ লং কোর্সে কমিশনপ্রাপ্ত হয়েছিলেন।

মামলার শুনানিতে আরও গভীরে গিয়ে আইনজীবী দুলু জানতে চান, কোর্ট মার্শাল রায়ের পর তার বিএমএ নম্বর বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে, সিএমএইচ সহ অন্যান্য স্থানে সাসপেন্ড করা হয়েছিল কিনা। এই প্রশ্নের উত্তরে হাসিনুর রহমান জানান যে, তার বিএ নম্বর সংক্রান্ত নথিপত্র বর্তমানে সেনাসদরে নেই। তিনি শুনেছেন যে এই নথিপত্র ভারতের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে, তবে কার কাছ থেকে শুনেছেন তা তার স্পষ্ট মনে নেই। এই তথ্য মামলার তদন্ত এবং সাক্ষ্যপ্রমাণের ক্ষেত্রে নতুন মাত্রা যোগ করেছে।