পশুর নদীভাঙনে মোংলা পৌরসভার গুরুত্বপূর্ণ নৌ যোগাযোগকেন্দ্র মামার ঘাট বিলীন হয়ে গেছে। নদীভাঙনে ঘাটের একটি বড় অংশ ধসে পড়ায় প্রতিদিন এ রুটে চলাচলকারী অন্তত ১০ হাজার মানুষ চরম ভোগান্তিতে পড়েছেন। নদীভাঙন অব্যাহত থাকায় এলাকাজুড়ে এখন আতঙ্ক আর অনিশ্চয়তা।
সরেজমিন দেখা গেছে, মামার ঘাট এলাকার নদীতীরের বড় অংশ ভেঙে নদীতে বিলীন হয়েছে। নদী তীরে বসবাসকারীরা প্রাণ ও সম্পদ বাঁচাতে ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
গত কয়েকদিন ধরে উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলের ফলে পশুর নদীতে পানি অস্বাভাবিকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে। প্রবল স্রোতের চাপে মোংলা পৌর মামার ঘাট এলাকার বিভিন্ন অংশে একের পর এক ধস নামছে। ঘাট এলাকার নিচের মাটি স্রোতে ভেঙে নদীতে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা টুটুল জানান, গত তিন বছর ধরেই মামার ঘাট এলাকায় ভাঙন চলছে। এ সময় ঘাটের একাংশ নদীতে বিলীন হয়েছে এবং ঘাটসংলগ্ন বিস্তীর্ণ এলাকা এখন ধ্বংসের মুখে। দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা না নিলে পুরো মামার ঘাট ভেঙে মোংলা-খুলনা নৌ যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মকভাবে ব্যাহত হবত পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মামার ঘাট এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, আশপাশে অন্তত তিনটি স্থানে অবৈধ বালুর চাতাল গড়ে উঠেছে। নদী তীরবর্তী সরকারি জমি দখল করে ড্রেজার মেশিনের মাধ্যমে রাতভর বালু ও মাটি কাটা হচ্ছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, দীর্ঘ ১০-১৫ বছর ধরে বেপরোয়াভাবে বালু উত্তোলনের ফলেই চলতি বর্ষা মৌসুমে পশুর নদীতে ভয়াবহ ভাঙনের সূচনা হয়েছে। এ অবৈধ কর্মকাণ্ডে নদীর স্বাভাবিক গতিপথ ও তীরের স্থিতিশীলতা নষ্ট হয়ে গেছে, যার সরাসরি প্রভাব পড়েছে মামার ঘাটে। মামার ঘাট ভেঙে যাওয়ায় ইপিজেডে চলাচলকারী যাত্রীসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের যাতায়াত কার্যত অচল হয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে মোংলা পৌর প্রশাসক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা শারমীন আক্তার সুমি আমার দেশকে বলেন, প্রবল স্রোতের কারণে মামার ঘাট এলাকায় মারাত্মক ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙন রোধে দ্রুত জিওব্যাগে বালু ভর্তি করে কাজ শুরু করার কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
তবে এলাকাবাসীর প্রশ্ন—ভাঙন শুরু হওয়ার পর কেন প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি? অবৈধভাবে বালু উত্তোলন বন্ধে কেন কার্যকর পদক্ষেপ দেখা যাচ্ছে না? মামার ঘাট পুরোপুরি ধসে পড়লে মোংলার নৌ যোগাযোগ ও স্থানীয় অর্থনীতিতে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারেÑএমন আশঙ্কাই করা হচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 





















