চট্টগ্রামের খুলশী থানাধীন আমবাগান রেলগেট এলাকায় নির্বাচনী প্রচারণাকে কেন্দ্র করে জামায়াতে ইসলামী ও বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে দফায় দফায় সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার রাত ৯টার দিকে সংঘটিত এই সংঘাতের ঘটনায় জামায়াতের অন্তত সাতজন কর্মী আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
স্থানীয় সূত্র ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, চট্টগ্রাম-১০ আসনে জামায়াত সমর্থিত প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালীর পক্ষে মঙ্গলবার এশার নামাজের পর আমবাগান এলাকায় গণসংযোগ শুরু করেন দলটির নেতাকর্মীরা। প্রচার চলাকালে একদল লোক দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালালে এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এ সময় দুই পক্ষের মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়।
সংঘর্ষে আহত ব্যক্তিরা হলেন— এরশাদ উল্লাহ, গোলাম মঞ্জুর মোরশেদ, বারাকাত উল্লাহ, মো. বাহার, জসিম উদ্দিন, মহিবুল্লাহ ও মো. আরিফ। তারা সবাই জামায়াতের কর্মী বলে জানা গেছে। আহতদের উদ্ধার করে নগরের বিভিন্ন বেসরকারি হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে, যাদের মধ্যে কয়েকজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক।
হামলার বিষয়ে ক্ষোভ প্রকাশ করে প্রার্থী শামসুজ্জামান হেলালী অভিযোগ করেন, “আমাদের শান্তিপূর্ণ কর্মসূচিতে স্থানীয় বিএনপির নামধারী কিছু সন্ত্রাসী পরিকল্পিতভাবে হামলা চালিয়েছে। তারা কেবল আমাদের কর্মীদের মারধরই করেনি, বরং সাতটি মোবাইল ফোন, প্রচারণার হ্যান্ড মাইক এবং নগদ টাকাও লুট করে নিয়ে গেছে।” তিনি আরও দাবি করেন, নির্বাচনী মাঠে জনসমর্থন দেখে ঈর্ষান্বিত হয়ে একটি পক্ষ ভীতিকর পরিবেশ সৃষ্টি করতে চাইছে।
অন্যদিকে, সংঘর্ষের ঘটনায় বিএনপির পক্ষ থেকে পাল্টা অভিযোগ তোলা হয়েছে। স্থানীয় বিএনপি নেতাদের দাবি, জামায়াত কর্মীরাই প্রথমে তাদের দলীয় কার্যালয়ে হামলা ও ভাঙচুর চালিয়েছে। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানতে বিএনপির প্রার্থী সাঈদ আল নোমানের সাথে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাকে পাওয়া যায়নি।
চট্টগ্রাম মহানগর পুলিশের (সিএমপি) উত্তর জোনের উপকমিশনার (ডিসি) আমিরুল ইসলাম বলেন, “ঘটনার খবর পাওয়ার সাথে সাথেই পুলিশ মোতায়েন করে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করা হয়েছে। দুই পক্ষই একে অপরের বিরুদ্ধে হামলার অভিযোগ করছে। আমরা বিষয়টি খতিয়ে দেখছি। নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছ থেকে দায়িত্বশীল ও সংযত আচরণ প্রত্যাশা করছি।”
বর্তমানে ওই এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে। অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে। তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো পক্ষ থানায় আনুষ্ঠানিক অভিযোগ বা মামলা দায়ের করেনি এবং কাউকে আটক করার খবর পাওয়া যায়নি। এই হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে দোষীদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানিয়েছেন জামায়াতের স্থানীয় নেতারা।
রিপোর্টারের নাম 





















