রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (রাজউক) প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দায়ের করা একটি মামলায় আত্মসমর্পণ করেছেন অন্যতম আসামি মোহাম্মদ খুরশীদ আলম। তিনি রাজউকের সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) ছিলেন। এই মামলায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পরিবার ও অন্যান্যরাও আসামি।
তিনি আজ বুধবার (২৯ অক্টোবর) ঢাকার পাঁচ নম্বর বিশেষ জজ আদালতের বিচারক মো. আব্দুল্লাহ আল মামুনের আদালতে তাঁর আইনজীবীর মাধ্যমে আত্মসমর্পণ করেন। আজ মামলার সাক্ষ্যগ্রহণ চলছিল। এটিই এই মামলায় কোনো আসামির প্রথম আত্মসমর্পণ। মামলার বাকি সব আসামি এখনো পলাতক রয়েছেন।
দুদকের প্রসিকিউটর খান মো. মঈনুল হাসান লিপন এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে গত ৩১ জুলাই আদালত এই মামলাগুলোতে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন। অভিযোগ গঠনের শুনানির সময় আসামিরা পলাতক থাকায় তাদের সবার বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছিল। পৃথক তিনটি মামলায় শেখ হাসিনা, শেখ রেহানা, টিউলিপ রিজওয়ানা সিদ্দিকসহ ১৭ জন; শেখ হাসিনা, আজমিনা সিদ্দিক রূপন্তী, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ ১৮ জন; এবং শেখ হাসিনা, রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক ববিসহ আরও ১৮ জনকে আসামি করা হয়।
গত ২০ জুলাই ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৪ এবং বিশেষ জজ আদালত-৫-এ তিনটি করে মোট ছয়টি মামলা বিচারের জন্য পাঠানো হয়েছিল।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আরও রয়েছেন– জাতীয় গৃহায়ন ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের সচিব শহীদ উল্লা খন্দকার, অতিরিক্ত সচিব (প্রশাসন) কাজী ওয়াছি উদ্দিন, প্রশাসনিক কর্মকর্তা সাইফুল ইসলাম সরকার, সিনিয়র সহকারী সচিব পূরবী গোলদার, রাজউকের সাবেক চেয়ারম্যান আনিছুর রহমান মিঞা, সাবেক সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) মোহাম্মদ খুরশীদ আলম, সদস্য (প্রশাসন ও অর্থ) কবির আল আসাদ, সদস্য (উন্নয়ন নিয়ন্ত্রণ) তন্ময় দাস, সদস্য (এস্টেট ও ভূমি) নুরুল ইসলাম, সাবেক সদস্য (পরিকল্পনা) মোহাম্মদ নাসির উদ্দীন, সাবেক সদস্য সামসুদ্দীন আহমদ চৌধুরী, পরিচালক (এস্টেট ও ভূমি-২) শেখ শাহিনুল ইসলাম, উপ-পরিচালক হাফিজুর রহমান, হাবিবুর রহমান, সাবেক প্রতিমন্ত্রী শরীফ আহমেদ ও প্রধানমন্ত্রীর সাবেক একান্ত সচিব সালাউদ্দিন।
প্লট বরাদ্দে দুর্নীতির অভিযোগে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) গত জানুয়ারিতে আলাদাভাবে ছয়টি মামলা দায়ের করে। এসব মামলায় শেখ হাসিনা, তাঁর ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয়, মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, বোন শেখ রেহানা, তাঁর মেয়ে টিউলিপ রিজওয়ANA সিদ্দিক, ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক এবং আরেক মেয়ে আজমিনা সিদ্দিকসহ আরও অনেককে আসামি করা হয়। সম্প্রতি দুদক সবগুলো মামলাতেই আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছে। আসামিরা সবাই পলাতক থাকায় তাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেফতারি পরোয়ানা এখনো বহাল আছে।
রিপোর্টারের নাম 






















