ঢাকা ০১:১৫ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

গণতান্ত্রিক উত্তরণের সন্ধিক্ষণ: নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬
  • ১১ বার পড়া হয়েছে

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সেনা সদরে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত নাগরিক ও বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটারের প্রত্যাশা পূরণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শঙ্কমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এই মহান লক্ষ্য অর্জনে সশস্ত্র বাহিনীকে অতীতের মতো পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নির্বাচনী মাঠে প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে আইনসম্মত ও সংযত, যাতে জনগণের আস্থায় কোনো চির না ধরে। তাঁর মতে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যেমন আগামীর রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণ করবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তাই কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে বর্তমান সরকার বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং জাপান, ইতালি ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও একই প্রক্রিয়া চলমান আছে। এছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় তিন বাহিনীর প্রধানগণসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

গণতান্ত্রিক উত্তরণের সন্ধিক্ষণ: নির্ভয় পরিবেশ নিশ্চিতে সশস্ত্র বাহিনীকে প্রধান উপদেষ্টার নির্দেশ

আপডেট সময় : ০৮:৪১:৪৪ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৭ জানুয়ারী ২০২৬

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটকে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক ভবিষ্যতের জন্য এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে অভিহিত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। সোমবার (২৭ জানুয়ারি) সেনা সদরে সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ভোটাধিকার বঞ্চিত নাগরিক ও বিপুল সংখ্যক তরুণ ভোটারের প্রত্যাশা পূরণে একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শঙ্কমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের ঐতিহাসিক দায়িত্ব। এই মহান লক্ষ্য অর্জনে সশস্ত্র বাহিনীকে অতীতের মতো পেশাদারিত্ব, নিরপেক্ষতা ও দৃঢ়তার সাথে দায়িত্ব পালনের আহ্বান জানান তিনি।

প্রধান উপদেষ্টা তাঁর ভাষণে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে শহীদদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন এবং ফ্যাসিবাদ-পরবর্তী সময়ে দেশের আইনশৃঙ্খলা রক্ষায় সশস্ত্র বাহিনীর ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি স্পষ্ট নির্দেশনা দিয়ে বলেন, নির্বাচনী মাঠে প্রতিটি পদক্ষেপ হতে হবে আইনসম্মত ও সংযত, যাতে জনগণের আস্থায় কোনো চির না ধরে। তাঁর মতে, গণভোটের মাধ্যমে জনগণ যেমন আগামীর রাষ্ট্রব্যবস্থা নির্ধারণ করবে, তেমনি সংসদ নির্বাচনের মাধ্যমে সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে যোগ্য প্রতিনিধি নির্বাচন করবে। তাই কোনো প্রকার ভয়ভীতি বা প্রভাবমুক্ত পরিবেশে ভোটারদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে প্রশাসন ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বাত্মক সহায়তা দিতে হবে।

সশস্ত্র বাহিনীর সক্ষমতা বৃদ্ধির বিষয়ে অধ্যাপক ইউনূস জানান, দীর্ঘদিনের অবহেলা কাটিয়ে বর্তমান সরকার বাহিনীকে আধুনিক ও যুগোপযোগী করে গড়ে তুলতে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। ইতোমধ্যে নেদারল্যান্ডস ও মালয়েশিয়ার সঙ্গে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা স্মারক স্বাক্ষরিত হয়েছে এবং জাপান, ইতালি ও থাইল্যান্ডের মতো দেশগুলোর সঙ্গেও একই প্রক্রিয়া চলমান আছে। এছাড়া নিজস্ব ব্যবস্থাপনায় সামরিক সরঞ্জাম তৈরির কারখানা স্থাপনের কাজও এগিয়ে চলছে। এই উন্নয়ন অগ্রযাত্রা পরবর্তী নির্বাচিত সরকারও অব্যাহত রাখবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। সভায় তিন বাহিনীর প্রধানগণসহ সশস্ত্র বাহিনীর ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।