চট্টগ্রামের একটি অভিজাত হোটেলে আয়োজিত ‘ইয়ুথ পলিসি টক’ অনুষ্ঠানে তরুণদের মুখোমুখি হয়ে আগামীর বাংলাদেশ বিনির্মাণে নিজের ভাবনার কথা তুলে ধরেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। রোববার সকালে আয়োজিত এই অনুষ্ঠানে তিনি জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) ও পাসপোর্ট সংক্রান্ত নাগরিক ভোগান্তি নিরসনে পূর্ণাঙ্গ ডিজিটালাইজেশন এবং চাঁদাবাজিমুক্ত সমাজ প্রতিষ্ঠার দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করেন।
অনুষ্ঠানে মাহমুদুল হাসান নামের এক শিক্ষার্থী তারেক রহমানের কাছে প্রশ্ন রাখেন, সাধারণ নাগরিকরা কেন এনআইডি বা পাসপোর্ট করতে গিয়ে চরম ভোগান্তির শিকার হন এবং কেন তাদের পরিচয়পত্রের ছবির মান নিয়ে বিদেশের মাটিতে লজ্জিত হতে হয়। জবাবে তারেক রহমান অকপটে স্বীকার করেন যে, তার নিজের ক্ষেত্রে প্রক্রিয়াটি সহজ হলেও সাধারণ মানুষের জন্য তা অত্যন্ত জটিল। তিনি বলেন, “পুরো ব্যবস্থাকে ডিজিটালাইজ করা সম্ভব হলে মানুষ ঘরে বসেই এসব সেবা পাবে। আমরা পুরো সিস্টেমটাকে সংশোধন করতে চাই যাতে কাউকে আর ভোগান্তির শিকার হতে না হয়।”
এনআইডির ভুল সংশোধন নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচলিত বিভিন্ন হাস্যরসের উদাহরণ টেনে তারেক রহমান বলেন, “আমি দেখেছি আমার নাম তারেক হওয়ার পরেও এনআইডিতে বারেক লিখে দেওয়ার মতো ঘটনাও ঘটে। প্রযুক্তির সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করা গেলে এই ধরণের অনাকাঙ্ক্ষিত ভুল এবং জনদুর্ভোগ অনেকাংশেই কমিয়ে আনা সম্ভব হবে।”
চাঁদাবাজি দমনের বিষয়ে বিএনপির পরিকল্পনা জানতে চাইলে তারেক রহমান জানান, অপরাধীদের মূলত দুটি শ্রেণিতে বিভক্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে—পেশাদার অপরাধী এবং সুবিধাবাদী বা মৌসুমী অপরাধী। তিনি দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সরকার যখন প্রশাসনকে স্পষ্ট বার্তা দেবে যে সন্ত্রাস ও দুর্নীতি কোনোভাবেই সহ্য করা হবে না, তখনই দেশের অন্তত ৩০ শতাংশ অপরাধ ও দুর্নীতি কমে যাবে। বাকিটুকু প্রশাসনিক কঠোরতার মাধ্যমে মোকাবিলা করা হবে।”
ভবিষ্যৎ রাষ্ট্রকাঠামোয় নারী-পুরুষ নির্বিশেষে সবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে তারেক রহমান বলেন, একটি নিরাপদ ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়াই তাদের মূল লক্ষ্য। অনুষ্ঠানে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আসা তরুণ শিক্ষার্থী ও উদ্যোক্তাদের পাশাপাশি দলটির শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। তরুণদের বিভিন্ন গঠনমূলক প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার মাধ্যমে আগামীর নীতি নির্ধারণে তাদের অংশীদারিত্বের গুরুত্ব তুলে ধরেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 

























