বাংলাদেশকে বিদেশি শক্তির প্রভাব ও দাসত্ব থেকে চিরতরে মুক্ত করতে আসন্ন নির্বাচনে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের ভোট দিয়ে বিজয়ী করার আহ্বান জানিয়েছেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) প্রেসিডেন্ট কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম। তিনি বলেন, দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা এবং একটি ইনসাফভিত্তিক সমাজ বিনির্মাণে দেশপ্রেমিক শক্তির কোনো বিকল্প নেই।
রোববার দুপুরে রাজধানীর গেন্ডারিয়ার ধূপখোলা মাঠে ঢাকা-৬ আসনে জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ আয়োজিত এক নির্বাচনি জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
অলি আহমদ বলেন, বর্তমানে সমাজে ন্যায়বিচার বা ইনসাফ নেই। আমরা একটি নতুন বাংলাদেশ উপহার দিতে চাই যেখানে সাধারণ মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি অভিযোগ করে বলেন, আমাদের রাজনৈতিক প্রতিপক্ষরা নিজেদের দিল্লির সেবাদাস হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করেছে। যারা বিদেশের আজ্ঞাবহ হয়ে কাজ করে, তাদের হাতে দেশের দায়িত্ব তুলে দেওয়া যায় না। যেকোনো মূল্যে দেশকে এই প্রভাবমুক্ত করতে হবে এবং এর একমাত্র পথ হলো ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের পক্ষের শক্তিকে বিজয়ী করা।
নিজের রাজনৈতিক জীবনের স্মৃতিচারণ করে বর্ষীয়ান এই রাজনীতিবিদ বলেন, ১৯৭১ সালে ক্যাপ্টেন হিসেবে আমিই প্রথম পাকিস্তানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ঘোষণা করেছিলাম। শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানকে সঙ্গে নিয়ে স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছিলাম। আমাদের লক্ষ্য ছিল একটি শোষণমুক্ত, অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী এবং ন্যায়ভিত্তিক সমাজ গঠন করা। কিন্তু গত কয়েক দশকে আমরা দেখেছি কীভাবে বিদেশের দালালি করে দেশ পরিচালনা করা হয়েছে।
অলি আহমদ আরও বলেন, দেশের মানুষ বড় দুই রাজনৈতিক দলের শাসন দেখেছে। দুর্নীতির চিত্রও সবার সামনে স্পষ্ট। আমরা নাম পরিবর্তন করছি, পোশাক পরিবর্তন করছি, কিন্তু সমাজ থেকে দুর্নীতি ও চাঁদাবাজি নির্মূল করতে পারিনি। এই মঞ্চে আমরা যারা একত্রিত হয়েছি, আমাদের লক্ষ্য হলো ১৯৭১ সালের অপূর্ণ স্বপ্ন বাস্তবায়ন করা। আমরা এমন এক বাংলাদেশ চাই যেখানে ধনী-দরিদ্রের মধ্যে বিচারিক কোনো বৈষম্য থাকবে না এবং দেশ হবে সম্পূর্ণ দুর্নীতিমুক্ত।
৫ আগস্টের আন্দোলন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি মহাসচিবের একটি বক্তব্যে প্রকাশ পেয়েছে যে এই আন্দোলনে তাদের সক্রিয় অংশগ্রহণ ছিল না। এর অর্থ দাঁড়ায় তারা তৎকালীন সরকারের পরিবর্তন চায়নি। অথচ শত শত শহীদের রক্তের বিনিময়ে আমরা নতুন বাংলাদেশের স্বপ্ন দেখেছি। সেই স্বপ্ন পূরণে আবেগের বশবর্তী হয়ে নয়, বরং বিবেক দিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে। মার্কা দেখে নয়, কারা দেশের মঙ্গল করবে আর কারা বিদেশের দালালি করবে—তা যাচাই করে ভোট দেওয়ার অনুরোধ জানান তিনি।
বক্তব্যের শেষ পর্যায়ে তিনি ঢাকা-৬ আসনে ড. আব্দুল মান্নান এবং ঢাকা-৮ আসনে নাসীররউদ্দীন পাটওয়ারীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের পক্ষে ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, যারা জাতির সঙ্গে বেঈমানি করবে, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না। দেশকে বিদেশি শক্তির প্রভাবমুক্ত রাখতে ১১ দলীয় জোটের প্রার্থীদের জয়ী করার বিকল্প নেই।
রিপোর্টারের নাম 

























