ঢাকা ০৬:৪৯ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৭ জুন ২০২৬

‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: জামায়াত আমির

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট হবে স্বাধীনতার প্রতীক এবং ‘না’ ভোট হবে দাসত্বের নামান্তর। দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করতে হবে। রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে ইনসাফ কায়েম হয়নি, বরং তরুণ সমাজ আজ মাদক ও নানাবিধ অপরাধের অন্ধকারে নিমজ্জিত। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশকে একটি সুন্দর ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে, যেখানে কোনো চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির স্থান থাকবে না।

বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা পেশ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কেবল ভাতা দিয়ে বেকারত্ব দূর করতে পারে না, বরং এতে কর্মবিমুখতা তৈরি হয়। তাই জামায়াত বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলে তাদের মাধ্যমেই দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।

ভোটের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ যদি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে বা কেন্দ্র দখল করতে আসে, তবে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। জনগণের রায়ের মাধ্যমেই দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের অপরাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি সুস্থ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কার এখন জনগণের হাতে। গণভোটের মাধ্যমেই সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তিনি চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান তার বক্তব্যে পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক জনপদে রূপান্তর করা হবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, নতুন বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি দালালি ও অপরাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে সৎ প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই জনসভায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে জামায়াত আমির প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সংহতি প্রকাশ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বিশ্বকাপের মাঝেই তিউনিসিয়ার কোচের বিদায়: দায়িত্ব হার্ভে রেনার্ডের কাঁধে

‘হ্যাঁ’ ভোট মানে আজাদি, ‘না’ মানে গোলামি: জামায়াত আমির

আপডেট সময় : ১১:২৪:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, আসন্ন নির্বাচনে ‘হ্যাঁ’ ভোট হবে স্বাধীনতার প্রতীক এবং ‘না’ ভোট হবে দাসত্বের নামান্তর। দেশের মানুষের মুক্তি নিশ্চিত করতে হলে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ‘হ্যাঁ’ ভোট প্রদান করতে হবে। রোববার দুপুরে পুরান ঢাকার ধূপখোলা মাঠে আয়োজিত এক বিশাল জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা-৬ আসনে জামায়াত মনোনীত ও ১১ দল সমর্থিত সংসদ সদস্য প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নানের সমর্থনে এই জনসভার আয়োজন করা হয়।

দেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, গত ৫৪ বছর ধরে যারা দেশ শাসন করেছে, তারা জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। দেশে ইনসাফ কায়েম হয়নি, বরং তরুণ সমাজ আজ মাদক ও নানাবিধ অপরাধের অন্ধকারে নিমজ্জিত। জামায়াত রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব পেলে দেশকে একটি সুন্দর ও উন্নত রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলবে, যেখানে কোনো চাঁদাবাজি ও দুর্নীতির স্থান থাকবে না।

বেকারত্ব দূরীকরণ প্রসঙ্গে জামায়াত আমির এক ভিন্নধর্মী পরিকল্পনা পেশ করেন। তিনি বলেন, রাষ্ট্র কেবল ভাতা দিয়ে বেকারত্ব দূর করতে পারে না, বরং এতে কর্মবিমুখতা তৈরি হয়। তাই জামায়াত বেকার ভাতার পরিবর্তে কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করার ওপর গুরুত্ব দিচ্ছে। যুবসমাজকে দক্ষ করে গড়ে তুলে তাদের মাধ্যমেই দেশের সমৃদ্ধি নিশ্চিত করা হবে।

ভোটের পবিত্রতা ও নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি নেতা-কর্মীদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, প্রতিটি ভোটকেন্দ্র পাহারা দিতে হবে। কেউ যদি জনগণের ভোটাধিকার হরণ করতে বা কেন্দ্র দখল করতে আসে, তবে তা কঠোরভাবে প্রতিরোধ করতে হবে। জনগণের রায়ের মাধ্যমেই দেশের ভাগ্য পরিবর্তন সম্ভব।

জনসভায় বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি নুরুল ইসলাম সাদ্দাম বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে দীর্ঘদিনের অপরাজনীতির অবসান ঘটিয়ে একটি সুস্থ ও সন্ত্রাসমুক্ত রাজনৈতিক সংস্কৃতি গড়ে তুলতে হবে।

জাতীয় নাগরিক পার্টির মুখ্য সমন্বয়ক ও ঢাকা-৮ আসনের প্রার্থী নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেন, রাষ্ট্রের সংস্কার এখন জনগণের হাতে। গণভোটের মাধ্যমেই সকল ষড়যন্ত্রের দাঁতভাঙা জবাব দেওয়া হবে। তিনি চাঁদাবাজ ও দখলদারদের হাত থেকে দেশকে মুক্ত করতে শাপলা কলি ও দাঁড়িপাল্লা প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহ্বান জানান।

ঢাকা-৬ আসনের প্রার্থী ড. আব্দুল মান্নান তার বক্তব্যে পুরান ঢাকার দীর্ঘদিনের বঞ্চনার কথা উল্লেখ করে বলেন, এই এলাকাকে চাঁদাবাজমুক্ত করে একটি বাসযোগ্য ও আধুনিক জনপদে রূপান্তর করা হবে।

লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি কর্নেল (অব.) অলি আহমদ তার বক্তব্যে বলেন, নতুন বাংলাদেশে ধনী-দরিদ্র নির্বিশেষে সবার জন্য সমান বিচার নিশ্চিত করা হবে। তিনি দালালি ও অপরাজনীতির ঊর্ধ্বে থেকে সৎ প্রার্থীদের নির্বাচিত করার আহ্বান জানান।

পবিত্র কোরআন তিলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া এই জনসভায় ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য প্রদান করেন। অনুষ্ঠান শেষে জামায়াত আমির প্রার্থীদের হাতে দলীয় প্রতীক তুলে দিয়ে নির্বাচনী প্রচারণার সংহতি প্রকাশ করেন।