ঢাকা ০১:৪৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫
  • ২৩ বার পড়া হয়েছে

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে (এসএওসিএল) প্রায় ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলাটি আজ মঙ্গলবার করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন এসএওসিএলের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন, বেলায়েত হোসেন এবং উপব্যবস্থাপক মো. আতিকুর রহমান। মামলার বিবরণে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কে এই ঘটনার সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এই তিন কর্মকর্তা একে অপরের সাথে যোগসাজশে, অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কোম্পানির মোট ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ টাকা আত্মসাৎ করে এবং পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ মানি লন্ডারিং করেছেন।

তবে, অভিযুক্ত এই তিন কর্মকর্তা প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন যে, তাঁরা কোনো ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কাজে জড়িত নন। বিষয়টি তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মোকাবিলা করবেন বলে জানান। বেলায়েত হোসেন ও আতিকুর রহমান আরও জানান, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি (এসএওসিএল) ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কোম্পানির মালিকানায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৫০ শতাংশ এবং বিপিসির ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ এসএওসিএলের মালিক ও পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। একই সাথে তিনি ব্যবস্থাপনা পরামর্শক কমিটিরও (ম্যাক) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নির্দেশনা অনুসারেই প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এসএওসিএলের পরিচালক মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ একই সাথে এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এওসিএল) নামে একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ১০৫ ধারায় বলা আছে, কোনো পরিচালক তার নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ সেই আইন লঙ্ঘন করে তার নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসএওসিএল থেকে বাকিতে লুব্রিকেটিং অয়েল ক্রয় করতেন।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, এসএওসিএলকে বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড প্রতিবছর চেক প্রদান করত। কিন্তু সেই চেকগুলো কখনোই ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। অথচ, কোম্পানির হিসাবের খাতায় দেখানো হতো যে চেকগুলো জমা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই চেকগুলো ফেরত দেখানো হতো এবং টাকা অনাদায়ি হিসেবেই থেকে যেত। এর ফলে এসএওসিএল বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই জালিয়াতির সঙ্গে ওই তিন কর্মকর্তা এবং মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ গত ২৬ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করায় তাকে এই মামলায় আসামি করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দুদকের উপপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে জানান, ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জগন্নাথের বেদখল হল উদ্ধারে সব ধরনের আইনি সহায়তার আশ্বাস এমপি হামিদের

১১৯ কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ, বিপিসির অঙ্গপ্রতিষ্ঠানের তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট সময় : ১০:৩৭:৫০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৫

বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের (বিপিসি) একটি অঙ্গপ্রতিষ্ঠান স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেডে (এসএওসিএল) প্রায় ১১৯ কোটি টাকা আত্মসাৎ এবং মানি লন্ডারিংয়ের মতো গুরুতর অভিযোগে প্রতিষ্ঠানটির তিনজন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) একটি মামলা দায়ের করেছে। এই মামলাটি আজ মঙ্গলবার করা হয়।

দুদকের উপপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. জাহাঙ্গীর আলম বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন। অভিযুক্ত আসামিরা হলেন এসএওসিএলের ব্যবস্থাপক মো. মোশাররফ হোসেন, বেলায়েত হোসেন এবং উপব্যবস্থাপক মো. আতিকুর রহমান। মামলার বিবরণে ১৯৯৩ সাল থেকে ২০২০ সাল পর্যন্ত সময়কে এই ঘটনার সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।

দুদকের মামলার অভিযোগে বলা হয়েছে, এই তিন কর্মকর্তা একে অপরের সাথে যোগসাজশে, অসৎ উদ্দেশ্যে তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার করেছেন। তারা প্রতারণার আশ্রয় নিয়ে কোম্পানির মোট ১১৯ কোটি ২৪ লাখ ৮৭ হাজার ৮৪৯ টাকা আত্মসাৎ করে এবং পরবর্তী সময়ে সেই অর্থ মানি লন্ডারিং করেছেন।

তবে, অভিযুক্ত এই তিন কর্মকর্তা প্রথম আলোর কাছে দাবি করেছেন যে, তাঁরা কোনো ধরনের অনিয়ম বা বেআইনি কাজে জড়িত নন। বিষয়টি তাঁরা আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমেই মোকাবিলা করবেন বলে জানান। বেলায়েত হোসেন ও আতিকুর রহমান আরও জানান, স্ট্যান্ডার্ড এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি (এসএওসিএল) ১৯৬৫ সালে প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল। এই কোম্পানির মালিকানায় বেসরকারি প্রতিষ্ঠান এশিয়াটিক ইন্ডাস্ট্রিজ লিমিটেডের ৫০ শতাংশ এবং বিপিসির ৫০ শতাংশ শেয়ার রয়েছে। মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ এসএওসিএলের মালিক ও পরিচালকের দায়িত্বে ছিলেন। একই সাথে তিনি ব্যবস্থাপনা পরামর্শক কমিটিরও (ম্যাক) প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। তার নির্দেশনা অনুসারেই প্রতিষ্ঠানের সব কার্যক্রম পরিচালিত হয়েছে।

মামলার এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে, এসএওসিএলের পরিচালক মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ একই সাথে এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড (এওসিএল) নামে একটি সম্পূর্ণ বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের স্বত্বাধিকারী ছিলেন। ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন অনুযায়ী, ১০৫ ধারায় বলা আছে, কোনো পরিচালক তার নিজের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে ব্যবসায়িক লেনদেনে অংশ নিতে পারেন না। কিন্তু মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ সেই আইন লঙ্ঘন করে তার নিজ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে এসএওসিএল থেকে বাকিতে লুব্রিকেটিং অয়েল ক্রয় করতেন।

দুদকের অনুসন্ধানে জানা যায়, এসএওসিএলকে বকেয়া টাকা পরিশোধের জন্য এশিয়াটিক অয়েল কোম্পানি লিমিটেড প্রতিবছর চেক প্রদান করত। কিন্তু সেই চেকগুলো কখনোই ব্যাংকে জমা দেওয়া হয়নি। অথচ, কোম্পানির হিসাবের খাতায় দেখানো হতো যে চেকগুলো জমা করা হয়েছে। পরবর্তীতে সেই চেকগুলো ফেরত দেখানো হতো এবং টাকা অনাদায়ি হিসেবেই থেকে যেত। এর ফলে এসএওসিএল বিপুল পরিমাণ আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হয়। এই জালিয়াতির সঙ্গে ওই তিন কর্মকর্তা এবং মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ সরাসরি জড়িত ছিলেন। মাঈন উদ্দিন আহম্মেদ গত ২৬ এপ্রিল মৃত্যুবরণ করায় তাকে এই মামলায় আসামি করা সম্ভব হয়নি।

এ বিষয়ে জানতে চাওয়া হলে দুদকের উপপরিচালক (মানি লন্ডারিং) মো. জাহাঙ্গীর আলম প্রথম আলোকে জানান, ওই তিন কর্মকর্তার বিরুদ্ধে দণ্ডবিধির ৪০৯ ও ৪২০ ধারা, ১৯৪৭ সালের দুর্নীতি প্রতিরোধ আইনের ৫(২) ধারা এবং ২০১২ সালের মানি লন্ডারিং প্রতিরোধ আইনের ৪(২) ও ৪(৩) ধারা অনুযায়ী মামলা করা হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী পরবর্তী পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে।