জুলাই আন্দোলনের সময় কুষ্টিয়ায় সাত জনকে হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জাসদ সভাপতি ও সাবেক মন্ত্রী হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হবে কি না, সেই সিদ্ধান্ত আগামী ২ নভেম্বর জানা যাবে।
মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ এই আদেশের দিন ধার্য করেন।
এর আগে সকালে ইনুর আইনজীবী মনসুরুল হক চৌধুরী প্রসিকিউশনের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠনের আবেদনের বিরোধিতা করে শুনানি করেন। তার আগে প্রসিকিউশন পক্ষ শুনানি করে অভিযোগ গঠনের আবেদন জানায়।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের সময় কুষ্টিয়ায় সাতজনকে হত্যাসহ মোট আটটি অভিযোগে হাসানুল হক ইনুর বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের এই মামলা করা হয়।
গত ২৬ আগস্ট রাজধানীর উত্তরা থেকে হাসানুল হক ইনুকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এরপর বিভিন্ন মামলায় তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়েছে।
এই মামলার কৌঁসুলি মিজানুল ইসলাম এর আগে বলেছিলেন, “হাসানুল হক ইনু ১৪ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক এবং জাসদের সুপ্রিম। তিনি নিয়মিত শেখ হাসিনার সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। বিভিন্ন বিষয়ে পরামর্শ দিতেন এবং তিনি ঊর্ধ্বতন অবস্থান থেকে স্থানীয় এসপি এবং তার দলীয় ক্যাডার বাহিনীকে বিভিন্ন ধরনের নির্দেশনা দিতেন।”
তিনি আরও অভিযোগ করেন, “শেখ হাসিনাকে সরকারের আইনশৃঙ্খলা বাহিনী এবং আওয়ামী লীগ, এর অঙ্গসংগঠন ছাত্রলীগ, যুবলীগসহ বিভিন্ন সশস্ত্র ক্যাডারদেরকে বিভিন্ন ধরনের অপরাধ সংগঠনে নির্দেশনা দিতেন।”
ট্রাইব্যুনালে শেখ হাসিনা ও হাসানুল হক ইনুর একটি ফোনালাপ দাখিল করার কথা উল্লেখ করে কৌঁসুলি মিজানুল বলেন, গত বুধবার সেই ফোনালাপটি ট্রাইব্যুনাল-১ এ দাখিল করা হয়েছিল। এখন বিশেষজ্ঞ মতামত এবং ফোনালাপের ট্রান্সক্রিপ্টসহ সেটি ট্রাইব্যুনাল-২ এ দাখিল করা হয়েছে।
মিজানুল বলেন, ইনু ভারতের ‘মিরর নাউ’ নামের একটি অনলাইন পোর্টালে এবং নিউজ ২৪ নামের টেলিভিশনে সাক্ষাৎকার দিয়েছেন, আরও একটি ইলেক্ট্রনিক মিডিয়ায়ও সাক্ষাৎকার দিয়েছেন।
“এছাড়া দেখামাত্র গুলির নির্দেশের যে অর্ডার দিয়েছেন, সেসব আনুষ্ঠানিক অভিযোগে রাখা হয়েছে।”
অভিযোগের মধ্যে আরও রয়েছে- ষড়যন্ত্রকারী হিসেবে নির্দেশনা প্রদান; ড্রোন ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে আন্দোলনকারী নিরস্ত্র নিরীহ জনতাকে চিহ্নিত করা; ছত্রীসেনা নামিয়ে বোমাবর্ষণ ও গুলি করা এবং এসব নির্দেশনা স্থানীয় কুষ্টিয়ার এসপিকে অবহিত করা।
মিজানুল বলেন, “কথোপকথনে আরও বলা হয়, আন্দোলনকারীদের ধরা হবে, তারপর স্ক্রলে নিউজে আসবে যে তাদের জেলখানায় পাঠিয়ে দেওয়া হয়েছে, কিন্তু আসলে তাদের ছেড়ে দেওয়া হবে—মানে তাদের মেরে ফেলা হবে।”
“এছাড়া ফোনালাপ থেকে যেটা উঠে এসেছে, জঙ্গি নাটকের কার্ডটা খেলতে হবে। আন্দোলনকারীদের জঙ্গি বলা হবে, তাদেরকে গুলি করে হত্যা করা হবে। এটা প্রচার করা হবে যে জঙ্গি আক্রমণে তারা নিহত হয়েছেন। ৫ আগস্ট কারফিউ উঠিয়ে দিয়ে প্রতিটা ওয়ার্ড থেকে ২ হাজার লোক ঢাকায় জমায়েত করতে হবে। শিবিরের মেরুদণ্ড ভেঙে দিতে হবে। বিএনপিকে ধ্বংস করে দিতে হবে।”
কৌঁসুলি মিজানুল আরও বলেন, “কথোপকথনে দুজন নেতার কথা বলতে শোনা গেছে। এরা হলেন জোনায়েদ সাকি ও সাইফুল হক। তাদেরকে দলে কীভাবে নেওয়া যায় সে বিষয়ে কথা বলতে শোনা গেছে।”
“শেখ হাসিনার নির্দেশে যে ধরনের নির্যাতনের বর্ণনা দেওয়া হয়, তার পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন হাসানুল হক ইনু।”
ফোনালাপের বরাত দিয়ে মিজানুল বলেন, “আপনি আপনার লোকাল লিডার এবং আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে বলে দেন কীভাবে আন্দোলন দমন করতে হবে। সাক্ষ্যপ্রমাণ ও তদন্তে আসছে যে, স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও পুলিশ স্থানীয় আন্দোলনকারীদের ওপর বিভিন্ন স্থানে গুলি চালিয়ে ছয়জনকে হত্যা করেছে, যার নির্দেশ দেওয়ার সঙ্গে তার (ইনুর) সম্পৃক্ততা রয়েছে।”
“আটটি অভিযোগের মধ্যে দুইটি সুনির্দিষ্ট আছে, সেগুলো হলো—একজনকে মাথায় গুলি করে হত্যা এবং ছয়জনকে গুলি করে হত্যা।”
রিপোর্টারের নাম 

























