ঢাকা ০৮:১৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

ঢাবি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি বিতর্ক: ডাকসু সদস্যের অভিযোগ ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভ্রাম্যমাণ দোকানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শনিবার রাতে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করার পর এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। ভিডিওতে একাধিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হলেও, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা এসব দাবি অস্বীকার করে উল্টো প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।

গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন। এসব ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে ভ্রাম্যমাণ ফুটকার্টে আঘাত করতে এবং একপর্যায়ে একটি কার্টে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং এর সূত্র ধরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।

তবে ভাঙচুরে জড়িত থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেছেন। তারা জানান, কিছুদিন আগে তারা আইএমএল গেট এলাকায় দোকান দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্ছেদের মুখে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা টিএসসি ও আশপাশের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য প্রক্টরিয়াল টিমকে ডেকে আনেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, “একটি দোকানকে বারবার সরানোর কথা বলা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো তারা আমাদের চ্যালেঞ্জ করে বলে, ‘আমরা দোকান করবো, সরাবো না, যা পারেন করেন।’ এতে আমরা ক্ষিপ্ত হই এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ভাঙচুর শুরু করলে রাগের মাথায় আমরাও তাতে অংশ নিই।” তারা আরও বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে না। এক মাস আগের ঘটনা নির্বাচনের আগে সামনে এনে একটি মোমেন্টাম তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” আরেকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “আমি প্রক্টরিয়াল টিমের সাথেই ছিলাম। অথচ এখন আমাকে চাঁদাবাজ বলে প্রচার করা হচ্ছে।”

প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজের একটি অংশে দেখা যায়, প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য প্রথমে দোকানগুলোতে ভাঙচুর করছেন এবং পরে হাতুড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। এই বিষয়টি ঘটনার ভিন্ন এক দিক উন্মোচন করেছে।

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে অনেক প্রমাণ আছে। ইতোমধ্যে অনেক সাংবাদিককে আমরা তথ্য দিয়েছি কিন্তু কেউ নিউজ করছে না। এখন আমাদের কাছে থাকা তথ্যগুলো সাজানো হচ্ছে। সকালে ডাকসুর সামনে সেগুলো প্রদর্শন করা হবে।”

উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট নিষিদ্ধ করা হয়। প্রক্টরিয়াল টিম, ডাকসু ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়।

এদিকে কর্তব্যরত প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের অভিযোগ, প্রক্টর অফিস থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে হকারদের পক্ষ নেয়। এমনকি ডাকসু নেতারাও নির্দিষ্ট কিছু দোকানপাট উচ্ছেদ না করতে তদবির করেন। প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হারুন ইসলাম বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

অন্যদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে গত শনিবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, সদস্য সর্বমিত্র চাকমাসহ হল ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলার সূচি: আজ টিভিতে যেসব ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ দেখা যাবে

ঢাবি ক্যাম্পাসে চাঁদাবাজি বিতর্ক: ডাকসু সদস্যের অভিযোগ ঘিরে নাটকীয় পরিস্থিতি, ভাঙচুর ও বিক্ষোভ

আপডেট সময় : ০৫:১৬:২৫ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ২৫ জানুয়ারী ২০২৬

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে (ঢাবি) ভ্রাম্যমাণ দোকানকে কেন্দ্র করে চাঁদাবাজির অভিযোগ, পাল্টাপাল্টি দাবি, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের ঘটনাকে ঘিরে ক্যাম্পাসে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। গত শনিবার রাতে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের একটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করার পর এই বিতর্ক নতুন মাত্রা পায়। ভিডিওতে একাধিক শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলা হলেও, অভিযুক্ত শিক্ষার্থীরা এসব দাবি অস্বীকার করে উল্টো প্রশাসনের সম্পৃক্ততার অভিযোগ তুলেছেন।

গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) রাত ১০টার দিকে ডাকসুর কার্যনির্বাহী সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্টে কয়েকটি ভিডিও ক্লিপ পোস্ট করেন। এসব ভিডিওতে কয়েকজন শিক্ষার্থীকে হাতুড়ি দিয়ে ভ্রাম্যমাণ ফুটকার্টে আঘাত করতে এবং একপর্যায়ে একটি কার্টে আগুন ধরিয়ে দিতে দেখা যায়। ভিডিওগুলো গত বছরের ২১ ডিসেম্বরের ঘটনা বলে উল্লেখ করেন তিনি এবং এর সূত্র ধরে কয়েকজন শিক্ষার্থীর বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির অভিযোগ তোলেন।

তবে ভাঙচুরে জড়িত থাকা কয়েকজন শিক্ষার্থী চাঁদাবাজির অভিযোগকে সম্পূর্ণ মিথ্যা দাবি করেছেন। তারা জানান, কিছুদিন আগে তারা আইএমএল গেট এলাকায় দোকান দিতে গেলে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের উচ্ছেদের মুখে পড়েন। এতে ক্ষুব্ধ হয়ে তারা টিএসসি ও আশপাশের অবৈধ দোকান উচ্ছেদের জন্য প্রক্টরিয়াল টিমকে ডেকে আনেন। শিক্ষার্থীরা বলেন, “একটি দোকানকে বারবার সরানোর কথা বলা হলেও তারা কর্ণপাত করেনি। উল্টো তারা আমাদের চ্যালেঞ্জ করে বলে, ‘আমরা দোকান করবো, সরাবো না, যা পারেন করেন।’ এতে আমরা ক্ষিপ্ত হই এবং প্রক্টরিয়াল টিমের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযান চালানো হয়। একপর্যায়ে প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যরা ভাঙচুর শুরু করলে রাগের মাথায় আমরাও তাতে অংশ নিই।” তারা আরও বলেন, “এ ধরনের অভিযোগের কোনো প্রমাণ তারা দেখাতে পারবে না। এক মাস আগের ঘটনা নির্বাচনের আগে সামনে এনে একটি মোমেন্টাম তৈরি করার চেষ্টা করা হচ্ছে।” আরেকজন শিক্ষার্থী অভিযোগ করেন, “আমি প্রক্টরিয়াল টিমের সাথেই ছিলাম। অথচ এখন আমাকে চাঁদাবাজ বলে প্রচার করা হচ্ছে।”

প্রাপ্ত ভিডিও ফুটেজের একটি অংশে দেখা যায়, প্রক্টরিয়াল টিমের কয়েকজন সদস্য প্রথমে দোকানগুলোতে ভাঙচুর করছেন এবং পরে হাতুড়ি শিক্ষার্থীদের হাতে তুলে দেন। এই বিষয়টি ঘটনার ভিন্ন এক দিক উন্মোচন করেছে।

চাঁদাবাজির অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে ডাকসু সদস্য সর্বমিত্র চাকমা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো স্পষ্ট প্রমাণ উপস্থাপন করতে পারেননি। তিনি বলেন, “আমাদের কাছে অনেক প্রমাণ আছে। ইতোমধ্যে অনেক সাংবাদিককে আমরা তথ্য দিয়েছি কিন্তু কেউ নিউজ করছে না। এখন আমাদের কাছে থাকা তথ্যগুলো সাজানো হচ্ছে। সকালে ডাকসুর সামনে সেগুলো প্রদর্শন করা হবে।”

উল্লেখ্য, ডাকসু নির্বাচনের পর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর সাইফুদ্দিন আহমেদ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে ক্যাম্পাসের অভ্যন্তরে ভ্রাম্যমাণ দোকানপাট নিষিদ্ধ করা হয়। প্রক্টরিয়াল টিম, ডাকসু ও মেট্রোপলিটন পুলিশের সহায়তায় উচ্ছেদ অভিযানও চালানো হয়।

এদিকে কর্তব্যরত প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্যদের অভিযোগ, প্রক্টর অফিস থেকে ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদের নির্দেশ থাকলেও শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন গ্রুপে বিভক্ত হয়ে হকারদের পক্ষ নেয়। এমনকি ডাকসু নেতারাও নির্দিষ্ট কিছু দোকানপাট উচ্ছেদ না করতে তদবির করেন। প্রক্টরিয়াল টিমের সদস্য হারুন ইসলাম বলেন, “আমরা ক্যাম্পাসে অবৈধ ভ্রাম্যমাণ দোকান উচ্ছেদে সর্বোচ্চ চেষ্টা করি। কিন্তু শিক্ষার্থীরা কয়েকটি দলে ভাগ হয়ে আমাদের সঙ্গে তর্কে জড়ালে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ে।”

অন্যদিকে, চাঁদাবাজির অভিযোগ এনে গত শনিবার রাত ১টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের হলপাড়ায় একটি সংক্ষিপ্ত বিক্ষোভ মিছিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে ডাকসুর সমাজসেবা সম্পাদক এবি জুবায়ের, সাংস্কৃতিক সম্পাদক মুসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ, সদস্য সর্বমিত্র চাকমাসহ হল ইউনিয়নের নেতাকর্মীরা অংশ নেন।