ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সবার জন্য ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমীরের

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনেরও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি সহ্যও করব না। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। মামলাবাজির জালে মানুষকে আর হয়রানি করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। বিচার কারো মুখ দেখে, ধর্ম, বর্ণ বা প্রতিপত্তি দেখে হবে না।”

জামায়াত আমির তার দলের অতীতের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা অতীতে চাঁদাবাজি, মামলাবাজি বা কারো ইজ্জতের ওপর হামলা করিনি। দেশপ্রেমিক লোকেরাই এর সাক্ষী।” তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা জাতিকে যত উপরের দিকে টান দেই, কেউ কেউ ঠ্যাং ধরে নিচের দিকে টানে।” তবে তিনি জনগণের ভালোবাসা নিয়ে জাতিকে তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং “চোরাবালিতে এই জাতিকে হারিয়ে যেতে দেবো না” বলে মন্তব্য করেন।

গত ১৫ বছর ধরে দেশকে “ফ্যাসিবাদ” গ্রাস করেছে অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সময়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে, বোন বিধবা হয়েছে এবং শিশুরা পিতৃহারা হয়েছে। তিনি এমন ফ্যাসিবাদ আর বাংলার জমিনে ফিরে আসুক তা চান না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছরে অতীতের কোনো সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে কি তারা দুর্নীতি করেনি, চাঁদাবাজি করেনি, সুশাসন দিয়েছে, সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করেছে, মানসম্মত বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা বা স্বাস্থ্যসেবা উপহার দিয়েছে? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “তারা বলতে পারবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের প্রাক্তন আমীর ও মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর উদাহরণ টেনে বলেন, “তাঁর শত্রুরাও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আঙুল তুলে বলার সাহস পায়নি যে তাঁর মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হয়েছে বা ব্যক্তিগতভাবে কারো প্রতি স্বজনপ্রীতি হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যায়ভাবে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে। এছাড়াও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং পঙ্গু করা হয়েছে অনেককে।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে একটি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “এই দলের দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক।” তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের অফিসগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন তাঁদের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে এবং তাঁদের নেতৃবৃন্দের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যাদের সাথে এগুলো করা হয়নি; দুর্ভাগ্যবশত তারা চাঁদাবাজি শুরু করেছেন, মামলাবাণিজ্য শুরু করলেন।” তিনি রাজনৈতিক সমর্থনকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে খাজনা আদায়ের মতো কার্যক্রমকে ঘৃণা করেন এবং এটিকে তাঁদের রাজনৈতিক শিক্ষার অংশ নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় আগামীতে ১০ দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।

জামায়াত আমির বলেন, “আমরা চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট বলেছি- আমরা কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ নেব না। আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিয়েছেন, আমরা সেজদাহ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের খেদমতে নেমে পড়েছি। চাঁদাবাজদের রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান পাহারা দিয়েছি নিজ দায়িত্বে। আমাদের ভাইয়েরা সারা দেশে টানা ১৫ দিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও কোনো দুর্বলতা দেখাইনি।” বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার এবং শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা এভাবে সমাজটাকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।”

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীরসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

তেল, সার ও শ্রমিক: ত্রিমুখী সংকটে দিশেহারা দেশের কৃষক

সবার জন্য ন্যায়বিচার, দুর্নীতিমুক্ত দেশ গড়ার অঙ্গীকার জামায়াত আমীরের

আপডেট সময় : ০৮:৪১:১৩ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ধর্ম-বর্ণ নির্বিশেষে দেশের সকল নাগরিকের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে। পাশাপাশি দুর্নীতি, চাঁদাবাজি ও হয়রানিমুক্ত একটি রাষ্ট্র গঠনেরও অঙ্গীকার ব্যক্ত করেছেন তিনি। গত শনিবার (২৪ জানুয়ারি) সিরাজগঞ্জের উল্লাপাড়ায় ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।

ডা. শফিকুর রহমান তাঁর বক্তব্যে স্পষ্ট ভাষায় বলেন, “আমরা দুর্নীতি করব না, দুর্নীতি সহ্যও করব না। বাংলাদেশের ৫৬ হাজার বর্গমাইলে কাউকে চাঁদাবাজি করতে দেব না। মামলাবাজির জালে মানুষকে আর হয়রানি করা হবে না।” তিনি আরও বলেন, “হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানসহ সবার জন্য আমরা ন্যায়বিচার নিশ্চিত করব। বিচার কারো মুখ দেখে, ধর্ম, বর্ণ বা প্রতিপত্তি দেখে হবে না।”

জামায়াত আমির তার দলের অতীতের কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বলেন, “আমরা অতীতে চাঁদাবাজি, মামলাবাজি বা কারো ইজ্জতের ওপর হামলা করিনি। দেশপ্রেমিক লোকেরাই এর সাক্ষী।” তিনি অভিযোগ করেন, “আমরা জাতিকে যত উপরের দিকে টান দেই, কেউ কেউ ঠ্যাং ধরে নিচের দিকে টানে।” তবে তিনি জনগণের ভালোবাসা নিয়ে জাতিকে তুলে আনার প্রত্যয় ব্যক্ত করেন এবং “চোরাবালিতে এই জাতিকে হারিয়ে যেতে দেবো না” বলে মন্তব্য করেন।

গত ১৫ বছর ধরে দেশকে “ফ্যাসিবাদ” গ্রাস করেছে অভিযোগ করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, এই সময়ে অসংখ্য মায়ের বুক খালি হয়েছে, বোন বিধবা হয়েছে এবং শিশুরা পিতৃহারা হয়েছে। তিনি এমন ফ্যাসিবাদ আর বাংলার জমিনে ফিরে আসুক তা চান না।

তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, দেশ স্বাধীনের ৫৪ বছরে অতীতের কোনো সরকার বুকে হাত দিয়ে বলতে পারবে কি তারা দুর্নীতি করেনি, চাঁদাবাজি করেনি, সুশাসন দিয়েছে, সমাজে ন্যায়বিচার কায়েম করেছে, মানসম্মত বিশ্বমানের শিক্ষাব্যবস্থা বা স্বাস্থ্যসেবা উপহার দিয়েছে? তিনি দৃঢ়ভাবে বলেন, “তারা বলতে পারবে না।”

ডা. শফিকুর রহমান জামায়াতের প্রাক্তন আমীর ও মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর উদাহরণ টেনে বলেন, “তাঁর শত্রুরাও মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর বিরুদ্ধে আঙুল তুলে বলার সাহস পায়নি যে তাঁর মন্ত্রণালয়ে দুর্নীতি হয়েছে বা ব্যক্তিগতভাবে কারো প্রতি স্বজনপ্রীতি হয়েছে।” তিনি আরও অভিযোগ করেন, “ফ্যাসিবাদী সরকার অন্যায়ভাবে মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীসহ আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতাকে হত্যা করেছে। এছাড়াও হাজার হাজার মানুষকে হত্যা করা হয়েছে এবং পঙ্গু করা হয়েছে অনেককে।”

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীকে একটি নির্যাতিত রাজনৈতিক দল হিসেবে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, “এই দলের দাঁড়িপাল্লা ইনসাফের প্রতীক।” তিনি অভিযোগ করেন, তাঁদের অফিসগুলো তালাবদ্ধ করে রাখা হয়েছে, দল নিষিদ্ধ করা হয়েছে, নির্বাচন কমিশন তাঁদের প্রতীক কেড়ে নিয়েছে এবং তাঁদের নেতৃবৃন্দের ঘরবাড়ি বুলডোজার দিয়ে ভেঙে দেওয়া হয়েছে। তিনি বলেন, “যাদের সাথে এগুলো করা হয়নি; দুর্ভাগ্যবশত তারা চাঁদাবাজি শুরু করেছেন, মামলাবাণিজ্য শুরু করলেন।” তিনি রাজনৈতিক সমর্থনকে কেন্দ্র করে মামলা দিয়ে খাজনা আদায়ের মতো কার্যক্রমকে ঘৃণা করেন এবং এটিকে তাঁদের রাজনৈতিক শিক্ষার অংশ নয় বলে উল্লেখ করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, আল্লাহর রহমত ও জনগণের ভালোবাসায় আগামীতে ১০ দল দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবে।

জামায়াত আমির বলেন, “আমরা চব্বিশ সালের ৫ আগস্ট বলেছি- আমরা কারো কাছ থেকে প্রতিশোধ নেব না। আল্লাহ আমাদের মুক্তি দিয়েছেন, আমরা সেজদাহ করে আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করেছি।”

তিনি আরও বলেন, “আমরা জনগণের খেদমতে নেমে পড়েছি। চাঁদাবাজদের রুখে দেওয়ার চেষ্টা করেছি বিভিন্ন জায়গায়। বিভিন্ন ধরনের প্রতিষ্ঠান পাহারা দিয়েছি নিজ দায়িত্বে। আমাদের ভাইয়েরা সারা দেশে টানা ১৫ দিন রোদে পুড়ে বৃষ্টিতে ভিজে দায়িত্ব পালন করেছেন। কোথাও কোনো দুর্বলতা দেখাইনি।” বন্যাসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ত্রাণ নিয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ার এবং শহীদ, আহত ও পঙ্গুত্ববরণকারীদের পাশে দাঁড়ানোর কথাও উল্লেখ করেন তিনি। তিনি বলেন, “আমরা এভাবে সমাজটাকে তুলে আনার চেষ্টা করেছি।”

জনসভায় জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান, সিরাজগঞ্জ জেলা জামায়াতের আমীরসহ ১০ দলীয় নির্বাচনি ঐক্যের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতৃবৃন্দ বক্তব্য রাখেন।