ঢাকা ০৮:১১ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০১ মে ২০২৬

সংসদ নির্বাচন: দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বাতিল ও তদন্তের দাবি নাগরিক কোয়ালিশনের

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক কোয়ালিশন। একই সঙ্গে, যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের নতুন অভিযোগ উঠেছে, নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে নাগরিক কোয়ালিশন জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি আইনের যথাযথ, নিরপেক্ষ এবং কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে এই প্ল্যাটফর্ম। তবে, তাদের গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা গেছে যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আইনের আওতায় প্রার্থিতা অনুমোদনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

নাগরিক কোয়ালিশন আরও উল্লেখ করে, গত ২২ জানুয়ারি ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবার সামনে উপস্থাপন করে। এই তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া একাধিক প্রার্থীর হলফনামায় তাদের বিদেশি নাগরিকত্ব এবং বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য গোপন করা হয়েছে। এটি নির্বাচনি আইনের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলযোগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যাদের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা প্রশ্নবিদ্ধ।

নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, কতিপয় প্রার্থীর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভুল (যা অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে) সিদ্ধান্তের জন্য সেটিকে কলঙ্কিত করা ঠিক হবে না। এমনটি করা হলে জুলাই মাসের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হবে।

এমতাবস্থায়, নাগরিক কোয়ালিশন সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। যেসব প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে নতুন ও সুস্পষ্ট অভিযোগ এসেছে, সেসব আসনে নির্বাচন স্থগিত করে অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে দ্রুততম সময়ে সেসব আসনে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি মনে করে, এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক ও আইনি উভয় প্রকার কর্তব্য।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

খেলার সূচি: আজ টিভিতে যেসব ক্রিকেট ও ফুটবল ম্যাচ দেখা যাবে

সংসদ নির্বাচন: দ্বৈত নাগরিকদের প্রার্থিতা বাতিল ও তদন্তের দাবি নাগরিক কোয়ালিশনের

আপডেট সময় : ০৮:৩৯:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৪ জানুয়ারী ২০২৬

আসন্ন ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচনে দ্বৈত নাগরিকদের অংশগ্রহণ নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে নাগরিক কোয়ালিশন। একই সঙ্গে, যেসব প্রার্থীর বিরুদ্ধে দ্বৈত নাগরিকত্বের নতুন অভিযোগ উঠেছে, নিরপেক্ষ তদন্তসাপেক্ষে তাদের মনোনয়নপত্র বাতিলের দাবি জানিয়েছে সংগঠনটি। শনিবার সহ-সমন্বয়ক ফাহিম মাশরুর স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এই আহ্বান জানানো হয়।

বিবৃতিতে নাগরিক কোয়ালিশন জানায়, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য সংসদ নির্বাচনকে ঘিরে দেশের সাধারণ মানুষের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য নির্বাচনি আইনের যথাযথ, নিরপেক্ষ এবং কঠোর প্রয়োগ অত্যন্ত জরুরি বলে মনে করে এই প্ল্যাটফর্ম। তবে, তাদের গভীর উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা গেছে যে, কিছু কিছু ক্ষেত্রে নির্বাচন কমিশন আইনের আওতায় প্রার্থিতা অনুমোদনে যথাযথ প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে।

নাগরিক কোয়ালিশন আরও উল্লেখ করে, গত ২২ জানুয়ারি ‘ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল’ একটি সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য সবার সামনে উপস্থাপন করে। এই তথ্য অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া একাধিক প্রার্থীর হলফনামায় তাদের বিদেশি নাগরিকত্ব এবং বিদেশে থাকা সম্পদের বিষয়ে সুস্পষ্ট তথ্য গোপন করা হয়েছে। এটি নির্বাচনি আইনের সুনির্দিষ্ট লঙ্ঘন এবং এর ফলে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিলযোগ্য। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, যাদের বিরুদ্ধে এই গুরুতর অভিযোগ উঠেছে, নির্বাচন কমিশন তাদের প্রার্থিতা বৈধ ঘোষণা করেছে এবং তারা আসন্ন নির্বাচনে অংশ নিতে যাচ্ছেন, যা প্রশ্নবিদ্ধ।

নাগরিক কোয়ালিশন মনে করে, হাজারো প্রাণের বিনিময়ে দেশে নতুন করে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের যে সুযোগ তৈরি হয়েছে, কতিপয় প্রার্থীর বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ভুল (যা অনিচ্ছাকৃতও হতে পারে) সিদ্ধান্তের জন্য সেটিকে কলঙ্কিত করা ঠিক হবে না। এমনটি করা হলে জুলাই মাসের আন্দোলনে আত্মত্যাগকারী শহীদদের প্রতি অবমাননা করা হবে।

এমতাবস্থায়, নাগরিক কোয়ালিশন সুনির্দিষ্ট দাবি জানিয়েছে। যেসব প্রার্থীর দ্বৈত নাগরিকত্বের বিষয়ে নতুন ও সুস্পষ্ট অভিযোগ এসেছে, সেসব আসনে নির্বাচন স্থগিত করে অভিযোগগুলো দ্রুত ও নিরপেক্ষ তদন্তের দাবি জানানো হয়েছে। তদন্তে অভিযোগ প্রমাণিত না হলে দ্রুততম সময়ে সেসব আসনে নির্বাচনের নতুন তারিখ ঘোষণা করতে পারে নির্বাচন কমিশন। তবে, যদি অভিযোগ প্রমাণিত হয়, তবে সংশ্লিষ্ট প্রার্থীর মনোনয়নপত্র অবিলম্বে বাতিল ঘোষণা করার আহ্বান জানানো হয়। সংগঠনটি মনে করে, এই পদক্ষেপ গ্রহণ করা নির্বাচন কমিশনের নৈতিক ও আইনি উভয় প্রকার কর্তব্য।